সভাপতি-সম্পাদক হতে দৌড়ঝাঁপ

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ৮ ও ৯ ডিসেম্বর


  • রফিকুল ইসলাম
  • ২২ নভেম্বর ২০২২, ২০:৫০,  আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২২, ২১:১৬

অবশেষে ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের জাতীয় সম্মেলনের তারিখ। আগামী ৮ ও ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে সংগঠনটির ৩০তম জাতীয় সম্মেলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও ২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ এবং ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন। এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তারা নিজেদের পদ নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস এবং দলটির সিনিয়র নেতাদের বাসাবাড়িতে ধরনা দিচ্ছেন। তুলে ধরছেন নিজেদের ব্যক্তিগত অবস্থান।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সংগঠনের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য দায়িত্ব পাওয়ার পর বিতর্কমুক্ত হতে পারেনি। কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেন, প্রেসবিজ্ঞপ্তি নির্ভর কমিটি গঠন, কেন্দ্রীয় নেতাদের অবমূল্যায়ন, নিয়িমত মধুর ক্যান্টিনে না আশা এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নিয়মিত বৈঠক না করায় সহ নানা অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন সময়ে হয়েছে সংবাদের শিরোনাম। আগামী দিনে যেনো ছাত্রলীগের কোনো শীর্ষ নেতা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হতে পারে, সে জন্য এবার সংগঠনের ৩০তম সম্মেলনে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হতে পারে। এজন্য এবার সংগঠনটির সম্মেলন দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বৈশ্বিক মহামারী করোনার সংকটের চিন্তা মাথায় রেখে এবার ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলনে শীর্ষ পদপ্রত্যাশীদের বয়সে ছাড় দিবে আওয়ামী লীগ। সংগঠনকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে তুলে আনা হবে কর্মেঠ ও পরিশ্রমী ছাত্র নেতাদের। একই সাথে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তুলে আনতে ছোট করা হতে পারে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির আকার।

এদিকে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তারা নিজেদের পদ নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস এবং দলটির সিনিয়র নেতাদের বাসাবাড়িতে ধরনা দিচ্ছেন। তুলে ধরছেন নিজেদের ব্যক্তিগত অবস্থান। ইতিমধ্যে অর্ধশত নেতার নাম শোনা যাচ্ছে।

এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শামীম পারভেজ, সহ-সভাপতি কামাল খান, রাকিব হোসেন, কর্মসংস্থান সম্পাদক রনি মোহাম্মদ, উপ-আইন সম্পাদক সুজন শেখ, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক খন্দকার জামি, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক  সাদ্দাম হোসেন ও গণযোগাযোগ সম্পাদক শেখ শামীম তূর্য।

উত্তরবঙ্গ থেকে আলোচনায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের গণশিক্ষা সম্পাদক আব্দুল্লাহ হীল বারী, ক্রীড়া সম্পাদক আলামিন সিদ্দীক সুজন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হায়দায় মোহাম্মদ জিতু, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক আবুল হাসনাত হিমেল। বরিশাল বিভাগ থেকে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ, তিলোত্তমা শিকদার,  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান,  শেখ ইনান, সহ-সভাপতি সৈয়দ আরিফ, উপ-সম্পাদক খাদিমুক বাশার জয়, ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক ইমরান জমাদ্দার, আপায়ন সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম ফাহাদ। ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে আলোচনায় কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি  সোহান খান, আলিমুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সোহাগ,  মুক্তিযোদ্ধা সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, উপ-সম্পাদক রওনক জাহান রাইন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম শামীম, ইফতেখার চৌধুরী সজীব, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন, সহ-সম্পাদক দিদার ইসলাম। খুলনা বিভাগ থেকে আলোচানয় আছেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মানব সম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক নাহিদ হাসান শাহীন, ধর্ম সম্পাদক তুহিন রেজা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার রাজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল। সিলেট বিভাগ থেকে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব খান, বেসরকারি বিষয়ক সম্পাদক আলামিন রহমান।   

কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে ২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ এবং ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন। এ বিষয়ে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করেন ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবের বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেছেন, বিভিন্ন সময় যে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। অর্থের বিনিময়ে আমরা কোনো ইউনিটের কমিটি দিইনি। আমরা বার বার বলেছি, কেউ যদি পদ বাণিজ্যের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারে, আমাদের যে শাস্তি সেই শাস্তি মাথা পেতে নেব।

মেয়াদোত্তীর্ণের দুই বছর পরও দেশের সব ইউনিটে কমিটি দিতে পারেনি জয়-লেখক। দায়িত্বে আসার তিন বছরের মাথায় তারা গত বছর ১২১টি ইউনিটের মধ্যে বিভিন্ন জেলা, মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মেডিক্যালসহ ৭৯টি ইউনিটের কমিটি অনুমোদন দিয়েছে, এর মধ্যে ৩৭টি ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হয়েছে। তবে অধিকাংশ কমিটিই গঠন করা হয়েছে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar