কে হচ্ছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব


  • ছলিম উল্লাহ মেজবাহ
  • ০৪ অক্টোবর ২০২১, ১৩:৫০,  আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২১, ১৪:২৩

জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর মৃত্যুর ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দলটির মহাসচিব পদে এখন পর্যন্ত কাউকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবেও দায়িত্ব দেননি জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদের। একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী-দলটির এই গুরুত্বপূর্ণ পদে কে আসছেন। এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই নেতাকর্মীদের। তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন নিয়োগ পেলে নতুন মহাসচিবকে বরণ করে নিতে। তবে পার্টির চেয়ারম্যান কি এই পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের কোনো নেতাকে দায়িত্ব দেবেন, না সরাসরি অন্য কাউকে মহাসচিবের পুরো দায়িত্ব দেবেন—তা এখনো পরিষ্কার নয়।

এ ব্যাপারে গতকাল রবিবার দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘এনিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। বাবলু মাত্র মারা গেছেন। তাড়াহুড়োর কিছু নেই। ধীরে-সুস্থে পার্টির মহাসচিব পদে নিয়োগ দেব।’

এদিকে জিয়াউদ্দিন বাবলুর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া তার পদে কাকে নেয়া হবে—এ নিয়ে হিসাব-নিকাশ করছেন জিএম কাদের বলে জানিয়েছেন দলটির প্রেসিডিয়ামের কয়েকজন সদস্য। তারা বলেন, সামনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি করতে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে লবিং করতে পারবেন—এমন একজন দক্ষ ব্যক্তি প্রয়োজন। যিনি একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের আস্থাভাজন হবেন—মহাসচিব পদে এমন একজন ব্যক্তিকেই খুঁজছেন জিএম কাদের।

এ প্রেক্ষিতে মহাসচিব পদে আলোচনায় রয়েছেন জাপার সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মসিউর রহমান রাঙ্গা। এছাড়াও এই পদের জন্য নাম উচ্চারণ হচ্ছে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, সাহিদুর রহমান টেপা, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মীর আবুদস সবুর আসুদ, এটিইউ তাজ রহমান ও শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

এদের মধ্য থেকে যে কাউকে দলের মহাসচিব করা হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের উপর। তিনি যার সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারবেন তাকেই মহাসচিব করবেন। জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০/১ (১) ক উপ-ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে একমাত্র চেয়ারম্যানই দলের মহাসচিব নিয়োগ দেন। গঠনতন্ত্রের ক্ষমতা অনুযায়ী তিনি চাইলে যে কোনো সময় ওই পদ থেকে বাদও দিতে পারেন।

২০২০ সালের ২৬ জুলাই জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবুলকে মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেন কাদের। এর আগে এ পদে ছিলেন মসিউর রহমান রাঙ্গা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে তাকে মহাসচিব মনোনয়ন দেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। ওই সময় রাঙ্গা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

এরশাদ মারা যাওয়ার পর ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির নবম কাউন্সিলেও মসিউর রহমান রাঙ্গা মহাসচিব থাকেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠায় ওই সময় মহাসচিব পদ থেকে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে দিয়েছিলেন এরশাদ।

দলের নেতারা জানান, তবে অতীতের এমন নানা অভিযোগ সাম্প্রতিক সময়ে কাটিয়ে উঠেছেন রুহুল আমিন হাওলাদার। বর্তমান চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সঙ্গেও তার সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো। দলের সকল কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে তাকে সহযোগিতা করছেন। তাছাড়া ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গেও রুহুল হাওলাদারের রয়েছে চমত্কার সম্পর্ক।

জিয়াউদ্দিন বাবলুর মৃত্যুর সময়ে ওমরা হজ করতে সপরিবারে সৌদিতে ছিলেন তিনি। মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত দেশে ফিরেন তিনি। দেশে আসার পর গতকাল সকালেই প্রথমে শোক প্রকাশ করতে যান বনানীর জাপা চেয়ারম্যান কার্যালয়ে। তারপর জিএম কাদেরের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ একান্ত বৈঠক করেন তিনি।

জাপার মহাসচিব পদে কার আসার সম্ভাবনা রয়েছে জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গ কোনো কথা বলেননি এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি গতকাল দুপুরে মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘আমি মক্কা যাওয়ার সময় বন্ধু বাবলুর খোঁজখবর নিয়েছি। তখন তার স্ত্রী টুম্পা আমাকে জানিয়েছেন, ‘বাবলু ভালো আছে।’ তার সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। আমাদের দুজনের অনেক স্মৃতি।’

হাওলাদার বলেন, ‘দীর্ঘপথের এক সাথীকে হারালাম আমি। যখন তার মৃত্যুর খবর পেলাম, তখন আমার মন ছটফট করে উঠে। মহান আল্লাহ বাবলুকে জান্নাতবাসী করুক।

একই সময়ে বনানীর জাপা চেয়ারম্যান কার্যালয়ে জিএম কাদেরের সঙ্গে দেখা করেন সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। তিনিও মহাসচিব পদে দায়িত্ব পেতে চান বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মসিউর রহমান রাঙ্গা গতকাল মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘মহাসচিব মনোনীত করতে হলে প্রথমে প্রেসিডিয়ামের মতামত নিতে হবে। তারপর প্রেসিডিয়াম সিদ্ধান্ত দিলে জাপা চেয়ারম্যান পার্টির মহাসচিব নির্বাচিত করবেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি কি করে বলব কে মহাসচিব হবে।’



poisha bazar

ads
ads