‘ক্ষমায়’ বিদ্রোহী বাড়বে না কমবে?


  • সাইফুল ইসলাম
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:২৩

আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বিদ্রোহী প্রার্থী ও তার সমর্থনকারী ২০ নেতাকে ক্ষমা করে দেয়া খবরে স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন বিদ্রোহীরা। সারাদেশে বিভিন্ন নির্বাচনে বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে যারা শাস্তির মুখোমুখি হয়েছিল তারাও আশার আলো দেখছেন।

দলের পদও ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। তারাও সক্রিয় হয়ে রাজনীতিতে ফেরতে চান। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের সভাপতির বরাবর ক্ষমা চেয়ে আবেদনও করতে চান তারা। এমনটাই মানবকণ্ঠকে জানিয়েছেন একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বলছেন অন্য কথা। তারা বলছেন, বিদ্রোহীরা সক্রিয় হলেও বিভিন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের প্রার্থী হতে পারবেন না। দলের বিরুদ্ধে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী বা তার সমর্থনে কাজ করলেও তাদের ক্ষমা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু বিদ্রোহী করার জন্য তাদেরকে বিনা শাস্তিতে দলে ফেরানো হচ্ছে না। তাদেরকে কোনো না কোনো শাস্তির মুখে পড়তে হবে। বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও পরে ওই প্রার্থী বিজয়ী হলে তাকে আবার দলে টেনে নেয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত থেকে আওয়ামী লীগ সরে আসেনি।’

তবে বিদ্রোহী প্রার্থী ও তার সমর্থনকারীদের ‘ক্ষমায়’ আগামীর চার হাজারের অধিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের সকল নির্বাচনে বিদ্রোহীর সংখ্যা বাড়বে না কমবে তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন দলটির সিনিয়র নেতারা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘দলের কর্মীদের অবদান, দলের প্রতি আনুগত্য, সব মিলিয়ে সার্বিক মূল্যায়ন করা হয়। বিদ্রোহী হলে দলের মনোনয়ন পাবে না এটা থেকে এখনো সরে আসা হয়নি, মোটামুটি সবই ঠিক আছে। হয়তো ব্যক্তিবিশেষেও তা দেখা হবে।’ 

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রায় এক বছর পর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভার সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সভায় দলের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাদের রিপোর্ট পেশ করেন।

আলোচনার এক পর্যায়ে দলীয় প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করা নেতাদের বিষয়ে আলাপ হয়। সেখানে বিদ্রোহীদের নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন দলের সভাপতি। তবে সেই সভায় পাবনায় পৌরসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করা ২০ জন নেতাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। তারা দলের সভাপতির বরাবর ক্ষমা চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন।  

এ বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা জানান, বিদ্রোহীদের নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। যারা অতীতে বিদ্রোহী প্রাথী হয়েছেন বা দলের প্রার্থীদের বিপক্ষে কাজ করেছেন, তাদের দল থেকে একেবারে বহিষ্কার না করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেমন তাকে ভবিষ্যতে দলীয় মনোনয়ন না দেয়া বা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে না রাখা ইত্যাদি।

সেই সভায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা এও বলেছেন, যারা দলের শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কাজ করছে বিভিন্ন জায়গায়, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা নিতে হবে। কাউকে কোনো ব্যাপারে ছাড় দেয়া যাবে না।

চট্টগ্রাম বিভাগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী বলেন, দলের স্বার্থে আমাদের দলে নেয়া হয়। বিদ্রোহ করেছিলাম। তখন এমপি-মন্ত্রী আমাদের বিপক্ষে কাজ করেছে। আমরা বিদ্রোহী হলেও দলের বাইরে ছিলাম না। নেত্রীর কাছে আমরা ক্ষমা চাইব। আর অন্যর কাছে তো ক্ষমা চাচ্ছি না, তিনি তো আমাদেরই নেত্রী। আশা রাখি তিনি ক্ষমা করে  দেবেন। শুধু নির্বাচনটাই করেছি বিদ্রোহী হয়ে আর বাকি কাজ কিন্তু সংগঠনের জন্য করি। এই করোনার সময়ও আমরা সক্রিয় ছিলাম। যাকে নৌকা দিয়েছে তাকে কিন্তু মানুষ কাছে পায়নি। দলের নেতা হতে পারে। কিন্তু মানুষের নেতা হতে পারেনি।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান উপজেলার চেয়ারম্যান আখলাক হায়দার মানবকণ্ঠকে বলেন, বিদ্রোহী হলেও আমরা বঙ্গবন্ধু লোক, শেখ হাসিনার লোক, বর্তমান নেতা সজিব ওয়াজেদ জয়ের লোক। কখনো নেত্রীর নির্দেশের বাইরে যাইনি। আর কখনো যাব না।

তৃণমূলের মূল ভিত্তি স্থানীয় সরকারের অন্যতম প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে পথ নকশা তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়া সাড়ে ৪ হাজার ইউপির ভোট মহামারী করোনার মধ্যে কীভাবে সম্পন্ন করা হবে এবং কতটি ধাপে ভোটগ্রহণ হবে এসব বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের খসড়া পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত। খুব শিগগিরই এই খসড়া কমিশন সভায় উত্থাপন করা হবে।

চলতি মাসের ২০ তারিখে স্থগিত ১৬১টি ইউপির নির্বাচন সম্পন্ন হবে। পরবর্তী ধাপের ভোট শুরু হবে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে। এভাবে কয়েক ধাপে শেষ হবে তৃণমূলের এই ভোট। এই নির্বাচন ব্যালটের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হবে। বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা সদর ইউপিগুলোতে এ প্রযুক্তিতে নির্বাচন হবে।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিগত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারা কাজ করেছে তাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। তবে সেটাও ভাবতে হবে আগামী নির্বাচনের সেই ক্ষমা যেন বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা না বাড়ায়। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার প্রবণতা যেন না তৈরি হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সাড়ে চার হাজারের অধিক ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হবে। সেখানেও বিদ্রোহীদের দমন করতে হবে।

মানবকণ্ঠ/এমএইচ



poisha bazar

ads
ads