আল্লামা কাসেমীর চিন্তা-চেতনাজুড়ে ছিল দেশ ও মানুষের সেবা করা: আবু তাহের


poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৫ জানুয়ারি ২০২১, ১৭:১৫,  আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২১, ১৭:৩১

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সদ্য প্রয়াত মহাসিচব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (রাহ.) ও বাংলাদেশ মুস‌লিম লীগ (বিএমএল) সভাপ‌তি সদ্য সাবেক এ এইচ এম কামরুজ্জামান খানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় ২০ দলীয় জোটের স্বরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এই স্বরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

স্মরণ সভায় ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কে এম আবু তাহের বলেছেন, আজকে আমরা এখানে দুই জন বিশিষ্ট গুণিমনের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে জমায়েত হয়েছি- এটা দেখে আমার খুবই ভাল লাগছে। এতে দেশ, দেশের মানুষ এবং নীতি-নৈতিকতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় এই দুই গুণী মানুষের আত্মত্যাগকে যেমন সম্মান করা হবে, তেমনি বর্তমান নেতৃত্বও অনুপ্রণিত ও পথনির্দেশিকা পেতে সহযোগিতা পাবে।

এনডিপি চেয়ারম্যান বলেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (রাহ.)এর গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। তিনি দেশকে ও দেশের মানুষকে অত্যন্ত ভালবাসতেন। তাঁর চিন্তা-চেতনাজুড়ে ছিল দেশের সেবা করা, মানুষের সেবা করা, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকিমুক্ত রাখা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ ও একনিষ্ঠতা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে বর্তমান নেতৃত্বকেও দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।

কে এম আবু তাহের আরো বলেন, বাংলাদেশ মুস‌লিম লীগ (বিএমএল) সভাপ‌তি সদ্য সাবেক এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান সাহেবের সাথেও আমরা এক সাথে কাজ করেছি। তাঁর সাথে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তিনিও আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছেন। এই দুই মহামনীষীর রূহের মাগফিরাত ও পরকালে দরজা বুলন্দির জন্য আমরা সকলে দোয়া করব।

তিনি বলেন, আজকে আমাদেরকে এই শপথ করতে হবে যে, দেশের প্রতটি ঘরে যেন আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর মতো একনিষ্ঠ নেতা গড়ে ওঠে, সেভাবে কাজ করে যেতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর মাঝে সর্বগুণের সমাবেশ ঘটিয়েছেন। আমি দীর্ঘদিন তাঁকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। মাঝে মাঝে তাঁর সাথে দেখা করতাম। আমি অনুভব করেছি যে, এই মানুষটার সাথে অন্তরের সাথে সরাসরি আল্লাহর সম্পর্ক। তাঁর মতো একনিষ্ঠ আলেম, ইবাদতগুজার এবং নীতি-নৈতিকতার উপর অটল, অবিচল, সৎ ও জনকল্যাণমুখী আলেম আমার নজরে পড়েনি।তিনি কখনো নিজের জন্য চিন্তা করতেন না। সব সময় দেশ দেশের আঠারকোটি মানুষের চিন্তায় বিভোর থাকতেন।

এনডিপি চেয়ারম্যান বলেন, আজকে দেশের কোথাও মানুষের অধিকার বলতে কিছু অবশিষ্ট নাই। মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে না। মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ভারত একের পর এক বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী তৎপরতা চাপিয়ে দিচ্ছে। ভারত আমাদের উপর নানা দিক থেকে আগ্রাসন ও শোষণ চালাচ্ছে। সীমান্তে আমাদের ভাইদেরকে নির্বিচারে হত্যা করছে। অভিন্ন নদীগুলোর উপর বাঁধ দিয়ে শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশকে মরুভূমি করছে, আর বর্ষা মৌসুমে বন্যায় ডুবাচ্ছে।

কে এম আবু তাহের বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ কৃষক। কিন্তু ভারত কোনভাবেই আমাদের কৃষিখাতকে স্বনির্ভর হতে দিচ্ছে না। যখন পেঁয়াজের সঙ্কট হয়, তখন ভারত পেঁয়াজ রফতানি নিষিদ্ধ করে, এখন যখন আমাদের কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে মনোযোগ দিয়েছে, ঘরে পেঁয়াজ তুলছে, তখন ভারত পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে আমাদের সম্ভাবনময়ী পেয়াজ চাষীকে ধ্বংস করতে ওঠে পড়ে লেগেছে। এমনিভাবে আমাদের পাট ও ধান চাষকেও ভারত লাভজনক হতে দিচ্ছে না। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই, অবিলম্বে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি ও চাল আমদানী নিষিদ্ধ করতে হবে। সীমান্ত হত্যার কড়া প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য প্রয়োজনে জাতিসংঘের দ্বারস্থ হতে হবে। পাশাপাশি দেশের সকল স্তর থেকে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ করতে হবে। আমরা যদি আমাদের অধিকার নিয়ে সচেতন না হয়, তাহলে আমাদের সবকিছু লুটেপুটে নিবে আগ্রাসনবাদিরা।

স্মরণ সভায় বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান ২০ দলীয় জোট গঠনে দুই প্রয়াত নেতার ‘অবদানের’ কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর মিয়া মো. গোলাম পারোয়ার, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, খেলাফত মজলিশের অধ্যাপক আহমেদ আবদুল কাদের, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্মমহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জাগপার খোন্দকার লুতফর রহমান, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, মুসলিম লীগের জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, ইসলামী ঐক্যজোটের শওকত আমীন, ইসলামিক পার্টির আবুল কাসেম, এলডিপির এম এ বাশার, সাম্যবাদী দলের কাজী কামাল প্রমুখ।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads
ads