‘ভোটচোরদের গিরার নিচে পিটান’

কাদের মির্জা
নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেন আবদুল কাদের মির্জা - ছবি: মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:৩৫

পৌরসভা নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হলে জনগণকে বাঁশের লাঠি তৈরি করে সে লাঠি দিয়ে ভোটচোরদের গিরার নিচে পিটানোর কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট রূপালী চত্বরে পথসভায় বসুরহাট পৌর নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘ভোটের দিন কোনো অনিয়ম হলে আপনারা বাঁশের লাঠি তৈরি করবেন, ভোট চোরদের খতম করবেন। একেবারে মেরে ফেলবেন না। গিরার নিছে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেবেন। আমরা রূপালী চত্বরে তাদেরকে বেঁধে টাঙ্গিয়ে রাখব।’

তিনি বলেন, ‘আমি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করে বাংলাদেশের মানুষকে প্রমাণ করে দিতে চাই গণতন্ত্র কী জিনিস, ভোটাধিকার কী জিনিস। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিয়েছেন, এদেশের মানুষের ভাতের ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়েছেন, অর্থাৎ ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছেন, ভোটের অধিকার এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’

বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ডা. মিলনকে বাম রাজনীতিবিদরা গুলি করে হত্যা করেছে আন্দোলনকে চাঙ্গা করার জন্য। এখানে ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য কাউকে মেরে হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নোয়াখালীর ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা আমার নিকট থেকে ইন্টারভিউ নিয়েছে, কিন্তু দেখিয়েছে নোয়াখালীর তথাকথিত আওয়ামী লীগ নেতার ইন্টারভিউ।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘এক সাংবাদিক নেতা আমাকে ফোন করে বলেন, আমাকে নাকি কেন্দ্রীয় নেতা বানাতে চায়, আমার কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ার খায়েশ নেই, এমপি হওয়ার খায়েশ নেই। আমার যোগ্যতা হলো আমার এলাকা, আমি কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগের একজন সদস্য হয়ে থাকতে চাই। যাদের কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ার খায়েশ আছে তারা চামচামি করুক।’

পথসভায় আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘যদি আমার এলাকার কোনো কর্মী ও ভোটারকে রাস্তায় বাধা দেওয়া হয়, বাড়িঘর পোড়ানো হয়, খড়ের গাধায় আগুন লাগানো হয়, যদি এখানে রক্ত ঝরে, ভোটে অনিয়ম হয়, জাল ভোট দেওয়া হয় তবে এর দায়-দায়িত্ব নোয়াখালীর ডিসি, এসপি ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে নিতে হবে।’

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান। সঞ্চালনা করেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহাব উদ্দিন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর নবী চৌধুরী, গোলাম শরীফ চৌধুরী পিপুল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইস্কান্দার মির্জা শামীম, যুবলীগের কেন্দ্রী নেতা নুরুল করিম জুয়েল, যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামী লীগের নেতা রমেশ চন্দ্র নাথ, নাজমুল হক নাজিম, বসুরহাট পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন, কোম্পানী উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরজুমান পারভীন রুনু, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমা আক্তার শিফা, বসুরহাট পৌরসভা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পারভিন মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াছমিন মুক্তা প্রমুখ।

মানবকণ্ঠ/আইএইচ






ads