• বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১
  • ই-পেপার

শীতল কর্মসূচিতে বছর শুরু বিএনপির


poisha bazar

  • ছলিম উল্লাহ মেজবাহ
  • ১০ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০৩

বিগত দিনের মতো শীতল কর্মসূচি দিয়ে নতুন বছর শুরু করছে বিএনপি। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তেমন শক্ত কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যাচ্ছে না দলটিকে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতিসহ নানা কারণে দলীয় কর্মকাণ্ডে অনেকটা স্থবিরতা আর নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ও হতাশার মধ্যে পার করে ২০২০ সাল।

তবে নতুন বছরে বৃহত্তর ঐক্য ও গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার পতনের আশা প্রকাশ করেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। এরই অংশ হিসেবে নতুন বছরের শুরুতেই বেশকিছু কর্মসূচিও হাতে নিয়েছে বিএনপি। তবে এসব কর্মসূচি বরাবরের মতো অনেকটা নমনীয় ও শান্তিপূর্ণ। কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি দিয়ে বছর শুরুর মাধ্যমে সরকার পতনের টার্গেট কতটুকু বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

নতুন বছরে বিএনপির কর্মসূচির প্রসঙ্গে তুলে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, এখনো যারা গণতন্ত্র হরণ করে, মানুষের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে কথিত উন্নয়নের একযুগ পূর্তি করতে চান, তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, সেদিন আর বেশি দূরে নয়, স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের মতো তাদেরও পতন হবে। শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। রিজভী বলেন, নতুন বছরেই সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজবে জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে। ইনশাআল্লাহ।

এদিকে নতুন বছরে দলের প্রত্যাশা সম্পর্কে গত ১ জানুয়ারি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা বারবার বলেছি, জনগণের বৃহত্তর ঐক্য, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যের মধ্য দিয়ে, একটা গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এ ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারকে পরাজিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি এবং আমরা সফল হব বলে বিশ্বাস করি এই ২০২১ সালে। ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমরা শপথ নিয়েছি আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করব।

ফখরুলের এ মন্তব্যের পরদিন ২ জানুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে জাতীয় ও রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে তিন দফা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়, যা ৩ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানান বিএনপি মহাসচিব।

কর্মসূচির মধ্যে ছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ‘ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের কলঙ্কিত অধ্যায়’ হিসেবে স্মরণ করতে ৫ জানুয়ারি সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালোব্যাজ ধারণ, দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদ ও বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ৭ জানুয়ারি সারাদেশে থানা পর্যায়ে মানববন্ধন এবং পৌর নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা ও তাদের পদত্যাগ দাবিতে ১০ জানুয়ারি সারাদেশে পৌরসভা এবং মহানগরে মানববন্ধন।

অবশ্য আজ ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের দিন কর্মসূচি দেয়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ব্যাপক সমালোনার মুখে তা পিছিয়ে ১১ জানুয়ারি করা হয়েছে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ৫ জানুয়ারি সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালোব্যাজ ধারণ করা হলেও ওইদিন নেতাকর্মীদের তেমন কোনো তৎপরতা ছিল না। শুধু কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া বৃহস্পতিবার দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদ ও বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সারাদেশে থানা পর্যায়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তবে এসব কর্মসূচিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে তেমন কোনো আলোচিত হয়নি।

বিএনপির এসব নমনীয় কর্মসূচির সমালোচনা করেছেন জোটসঙ্গী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক কৌশল খাটিয়ে আর ‘পুতুপুতু আন্দোলন’ করে এ সরকার হটানো যাবে না। আজ হোক-কাল হোক সরকারের পতন নিশ্চিত করার মানসিকতা নিয়ে রাজপথে নামলেই সফলতা আসবে বলে মনে করেন তিনি।

আন্দোলনের সঙ্গীদের উদ্দেশে মান্না বলেন, আপনারা একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ চাইবেন, দুজন মন্ত্রীর পদত্যাগ চাইবেন, তা দিয়ে কিছু হবে না। বলেন এ সরকারকে চাই না, এ সরকারকে চলে যেতে হবে। পারলে কালকে বিদায় করব, যদি কালকেই না পারি পরশু দিন করব, না যদি পারি ১ মাস পরে করব, ১ বছর পরে করব। লড়াই তার বিরুদ্ধে, এ সরকারকে কোনো দিনও মানব না। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এদের সঙ্গে কৌশলে আর ওই শব্দটা আমার পছন্দ ‘পুতুপুতু’ করে আন্দোলন করতে পারবেন না। বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজপথে নামতে হবে। সেই রাজপথে নামার আমি আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি।

নতুন বছরে নমনীয় কর্মসূচির উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ও সদ্যঘোষিত নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, এ বছরে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানো হবে ইনশাআল্লাহ। জনগণ বিএনপির সঙ্গে আছে। তারা এ সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তুষের আগুনের মতো আন্দোলন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অপরদিকে বিদায়ী বছরের হতাশা ও ব্যর্থতা কাটিয়ে নতুন বছরকে ঘিরে নতুন করে আশা করছে বিএনপি। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করার মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরে দাঁড়াতে চায় দলটি। এজন্য নানা কর্মসূচি ও কর্মপরিকল্পনা ঠিক করছে দলটির হাইকমান্ড। নতুন বছরে বিএনপির সবচেয়ে বেশি কর্মসূচি থাকবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে ঘিরেই। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও অনাড়ম্বরভাবে তা উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

গত বছরের ১ নভেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে আহ্বায়ক ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামকে সদস্য সচিব করে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। সাত সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটিও করেছে দলটি। এছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনাসহ ইস্যুভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপিকে আন্দোলনমুখী করার চেষ্টা করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আভাস দিয়েছেন। তবে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ বিরাজমান নানা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে বাস্তবে দলটি কতটুকু সফল হতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় আছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির দফতর সম্পাদক এবিএমএ রাজ্জাক জানিয়েছেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার মহানগরের বিভিন্ন থানায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

অপরদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দফতর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু জানান, এ উপলক্ষে দক্ষিণের কয়েকটিতে মানববন্ধন ও বিভিন্ন থানায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সরকার জনগণকে বিশ্বাস করে না, তারা ভোট ও গণতন্ত্রকে ভয় পায়। এই সরকার ভোটবিহীন সরকার। নতুন বছরে আমরা জনগণ চাই না এই অবৈধ সরকার এক মুহূর্ত ক্ষমতায় থাকুক।

 






ads