করোনায় জৌলুস হারিয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী


poisha bazar

  • সাইফুল ইসলাম
  • ২২ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৪৭

বিদায়ের পথে ২০২০। বছরের শুরুতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জমকালো আয়োজনের লক্ষ্যে বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছিল। এ সময় হঠাৎই হানা দেয় করোনার মহামারী। তার পরও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচি সীমিতভাবে পালন হচ্ছে।

করোনা কেড়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাকে। ৫২২ জন নেতা-কর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেও মানুষের পাশে ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। যদিও চলতি বছরের অধিকাংশ সময় সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত ছিল ক্ষমতাসীন দলটি।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বছরব্যাপী মুজিববর্ষ উদযাপনের জন্য ক্ষণগণনার উদ্বোধন করা হয় গত ১০ জানুয়ারি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর পুরাতন বিমানবন্দরে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে মুহূর্তটিকে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসাবে উৎসর্গ করে বলেন, ‘আমি ক্ষণগণনার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।’

তারপর চলতে থাকে মূল অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের সব প্রস্তুতি শেষের পথে ছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু মহামারী করোনার হানা থমকে যায় সকল কর্মসূচি। যেখানে জমকালো অনুষ্ঠান করার কথা ছিল সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে কিছু অনুষ্ঠান করা হয়। অধিকাংশ অনুষ্ঠানই গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রচার করা হয়।

করোনার আগেই জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য চলতি মাসের ৬ মার্চ থেকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল আওয়ামী লীগ। তারপর দীর্ঘ সাত মাস পর গত ৩ অক্টোবর গণভবনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই সভা সভাপতিত্ব করেন। এরপর থেকে কেন্দ্রীয় নেতারাও রাজনীতিতে সক্রিয় হন। কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেন। বিভাগীয় নেতারা তৃণমূলে আলোচনা সভা, বর্ধিত সভা ও সম্মেলনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

করোনায় মাঠে নেতারা: প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে সারা দেশে কর্মহীন হয়ে পড়া হতদরিদ্র মানুষের মাঝে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে সারা দেশে ৯০ লাখ ২৫ হাজার ৩২৭ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগদ ৮ কোটি ৬২ লাখ ৮ হাজার টাকা অর্থসহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী, দলীয় সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিরা এসব সহায়তা প্রদান করেন।

এ ছাড়া পিপিই, চশমা, মাস্ক, সাবান, হ্যান্ড গ্লাভস, ফিনাইল, হ্যান্ড স্যানিটাইজার , বিøচিং পাউডার ও স্প্রে মেশিনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম ও টেলিমেডিসিন ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা হয়েছে, যার সেবা এখনো চলমান। সেই সাথে সারা দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও কৃষক লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কৃষকের ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কর্মসূচি পালন করে আসছে। একই সাথে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় রমজানে ইফতার, সেহরি ও বিনামূল্যে সবজি বিতরণ এবং বর্তমানে টেলিমেডিসিন, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও লাশ দাফনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ভার্চুয়াল রাজনীতি: মহামারী করোনা মোকাবিলায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা মাঠে থাকলেও বেশির ভাগ রাজনৈতিক নেতাই হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে খোঁজখবর নিচ্ছেন। মাঠে রাজনীতি ছিল ভার্চুয়াল-নির্ভর। সশরীরে অবস্থান করতে না পারলেও কর্মীদের সঙ্গে ভিডিও বার্তায় তথ্য আদান-প্রদান করে ছিলেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

উপনির্বাচন ও পৌর নির্বাচনে আ.লীগ: জাতীয় সংসদের পাঁচটি আসনে উপনির্বাচন অংশগ্রহণ করেছিল আওয়ামী লীগ। দলীয় প্রতীকে সেই আসনগুলোতে নির্বাচন করে দলটি। সবগুলো আসেনই বিজয়ী হন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী। আসনগুলো হলোÑঢাকা-৫, ঢাকা-১৮, নওগাঁ-৬, সিরাজগঞ্জ-১ ও পাবনা-৪। এছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পৌরসভা নির্বাচন। সেখানেও দলীয় প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

করোনা যাদের কেড়ে নেয়: অদৃশ্য ভাইরাস করোনার ছোবল থেকে যেনো কেউই রেহাই পাচ্ছে না। খ্যাতনামা ব্যক্তি, শিল্পপতি, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি সদস্য, সেনাসদস্য, ব্যবসায়ী, আমলা, ব্যাংক কর্মকর্তা, দুদক কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব কেউ-ই বাদ যাচ্ছেন না এই ভাইরাস থেকে। ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছেন অনেক প্রিয় ও আলোচিত মুখ। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী।

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, ৭৫-এ জেলখানায় হত্যাকাণ্ডের শিকার জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে তিনি। ‘জনতার মেয়র’ খ্যাত সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যু হয়। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাবেক এমপি হাজী মকবুল হোসেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ মারা গেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘করোনা মহামারীকালে আওয়ামী লীগের ৫২২ নেতা-কর্মী মারা গেছেন। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল এত বড় ত্যাগ স্বীকার করেনি, তারা কেবল মুখে কথাই বলেছে, তাদের মাঠে মানুষের পাশে দেখা যায়নি।’

বন্যাদুর্গতদের পাশে আ. লীগ: বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের উপদ্রবের মধ্যেই দেশের উত্তরাঞ্চল ও এর আশপাশের এলাকায় দেখা দিয়েছিল বন্যা। বরাবরের মতো দেশের মানুষের এই দুর্ভোগে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। ত্রাণের পাশাপাশি বন্যাদুর্গত এলাকায় নগদ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।






ads
ads