‘অরাজনৈতিক’ সংগঠনে উত্তাপ


poisha bazar

  • সাইফুল ইসলাম
  • ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:০৭

রাজধানীর দোলাইরপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতায় মাঠে নেমেছে হেফাজতে ইসলাম। নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দাবি করা হেফাজত ও তাদের বন্ধুপ্রতিম কিছু সংগঠন রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক কর্মসূচি পালনের পর নড়েচড়ে বসে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসর্গে থাকা বেশ কিছু ‘অরাজনৈতিক’ সংগঠন। ভাস্কর্য নির্মাণের পক্ষে তারাও পাল্টা মাঠে নামে। এই ‘অরাজনৈতিক’ দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ-মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচিতে ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে রাজনীতির মাঠ। আওয়ামী লীগসহ সরকারপন্থি দলগুলো যেমন সরাসরি ভাস্কর্যের পক্ষে কথা বলছে, অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো আপাত মৌনব্রত পালন করলেও হেফাজতকে ভেতরে ভেতরে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। এদিকে এ বিষয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও রয়েছে নীরব ভূমিকায়।

ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে রাজনীতির অঙ্গনে চলছে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। অরাজনৈতিক সংগঠনের সৃষ্ট বিতর্ককে কেন্দ্র করে সারা দেশের রাজনীতিতে চলছে গরম হাওয়া। ইসলামিক সংগঠনগুলো ভাস্কর্যের বিপক্ষে অবস্থান নিলেনও এর পক্ষ নিয়ে অরাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবীদের ৬০টি বেশি সংগঠন মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। এরই মধ্যে সরকারের একাধিক মন্ত্রী, যুবলীগের চেয়ারম্যান, ছাত্রলীগের সভাপতি ও কৃষক লীগের সভাপতিসহ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র তাপস, নিক্সন চৌধুরী এমপিও ভাস্কর্যবিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কথা বলেছেন অনেক নেতাই। এই ইস্যুতে আবার হেফাজতের সঙ্গে একমত পোষণ করছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

এ ছাড়া বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা এই ইস্যুতে মুখে কুলুপ আঁটলেও দলের নিচের সারির দু-একজন আওয়ামী লীগের বিপক্ষেই কথা বলছেন। সব মিলিয়ে অরাজনৈকিক সংগঠনের ভাস্কর্য বিতর্কে এখন গরম রাজনীতির অঙ্গন।

জানা যায়, সম্প্রতি রাজধানীর দোলাইরপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করতে গেলে আলেম-ওলামাদের বাধার মুখে পড়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের বিরোধিতা দেশের একটি পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেলেও বিষয়টি ভালোভাবে নিতে পারেনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অক্টোবরের শুরু থেকেই ভাস্কর্য তৈরির প্রতিবাদে বেশ কয়েকটি দল ঢাকার কয়েকটি জায়গায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেছে। প্রথমে ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে মাঠে নেমেছিল চরমোনাইয়ের পীরের নেতৃত্বাধীন ‘ইসলামী আন্দোলন’। পরে বিরোধিতায় যোগ দেয় হেফাজতে ইসলাম। খেলাফত মজলিশের নেতা মামুনুল হক গত ১৩ নভেম্বর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য তৈরির উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেন। ১৫ নভেম্বর এক সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন মামুনুল হক। তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, ভাস্কর্য নির্মাণ পরিকল্পনা থেকে সরে না এলে তিনি আরেকটি শাপলা চত্বরের ঘটনা ঘটাবেন এবং ওই ভাস্কর্য ছুড়ে ফেলবেন। তার ওই বক্তব্য সরকারি দল আওয়ামী লীগে অস্বস্তি তৈরি করে। এরপর আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখালেও দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। এরপর দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে শুরু করে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে কোনো ভাস্কর্য তৈরি হলে তা টেনে-হিঁচড়ে ফেলে দেয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক দলের নাম নেব না। যারা ভাস্কর্য তৈরি করবে, টেনে-হিঁচড়ে ফেলে দেয়া হবে। আমার বাবার নামেও যদি কেউ ভাস্কর্য তৈরি করে, টেনে-হিঁচড়ে ফেলে দেব।’ সম্প্রতি চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাবুনগরী এ হুমকি দেন।

‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে একটি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী যে অনাহূত বিতর্কের সৃষ্টি করছে তার ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে’ বলে তিনি সম্প্রতি মন্তব্য করেন। ধর্মকে রাজনৈতিক ইস্যুতে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়। ভাস্কর্য নিয়ে মনগড়া ব্যাখ্যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের সংস্কৃতির প্রতি চ্যালেঞ্জ। দেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধান এবং রাষ্ট্রবিরোধী যেকোনো বক্তব্য বরদাশত করা হবে না। ধর্মীয় ইস্যুকে সামনে এনে ধর্মীয় সহনশীলতা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইমাম-মুসল্লি ঐক্য পরিষদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিসসহ ইসলামী দলগুলো ‘মসজিদের শহরে’ ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন করতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছে। আর বিএনপির দাবি, ক্ষমতাসীন সরকার দেশকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে হেফাজত ইসলামের এমন কর্মকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রগতিশীল সমাজ।

মামুনুল হক চট্টগ্রামে মাহফিল করতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সরকারি দলের সহযোগী সংগঠনের বাধার সম্মুখীন হন। পুলিশও চড়াও হয় মামুনুল হকের সমর্থকদের ওপর। আটক হন অনেকে। নড়াইলের মাহফিলেও যেতে পারেননি মামুনুল হক।

হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকসহ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতাকারীদের গ্রেপ্তার দাবিতে শাহবাগে সড়ক অবরোধ করে ভাস্কর্যের পক্ষের গোষ্ঠী। গত শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা শাহবাগ মোড় আটকে দিয়ে সেখানে বিক্ষোভ করে তারা। পরে ১ ডিসেম্বর সারা দেশে একযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ মোড় ছাড়েন বিক্ষোভকারীরা। এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে আওয়ামী ওলামা লীগ।

এ ছাড়া রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবীদের ৬০ সংগঠন। সমাবেশ থেকে বাংলাদেশকে মৌলবাদী ও সা¤প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়া হয়। কর্মসূচি থেকে বঙ্গবন্ধু ও সংবিধান অবমাননার দায়ে অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মৌলবাদী ও সা¤প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ভিন্নমত ও নারীদের প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অবিলম্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে শিক্ষানীতি, নারীনীতি, সংস্কৃতিনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

ঢাকা ক্লাবের সামনে সম্মিলিত সংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে অংশ নেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, আসাদুজ্জামান নূর, জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ প্রমুখ। উল্টো পাশে অবস্থান নেন ঢাকা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরা। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে অবস্থান নেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির নেতারা। দোয়ল চত্বরে সমাবেশ করে যুবলীগ। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, গবেষক অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব ডা. কামরুল আহসান খান, কবিতা পরিষদের সভাপতি ড. মুহাম্মদ সামাদ, স¤প্রীতি বাংলাদেশের সভাপতি পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডা. উত্তম বড়ুয়া, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ প্রমুখ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন।

ভাস্কর্যের পক্ষে কথা বলা সংগঠনগুলোর মধ্যে আছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, সেক্টরস কমান্ডারস ফোরাম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অ্যাসোসিয়েশন, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, প্রজš§ ’৭১, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ইতিহাস সম্মিলনী, জাতীয় কবিতা পরিষদ, স¤প্রীতি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ গ্রæপ থিয়েটার ফেডারেশন, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ, বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু গবেষণা সংসদ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ), জাতীয় যুব জোট, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ কেন্দ্র, মৌলবাদ ও সা¤প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলন, বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ, ’৭২-এর সংবিধান পুনঃপ্রবর্তন জাতীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় খেলাঘর, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্র, মুক্তিযুদ্ধ সংহতি পরিষদ, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ), বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরাম, গৌরব ’৭১, অপরাজেয় বাংলা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতি পাঠাগার, কর্মজীবী নারী, জাতীয় নারী জোট, নারী মুক্তি সংসদ, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন ইউএসএ (বাংলাদেশ চ্যাপটার), জঙ্গিবাদ ও সা¤প্রদায়িকতা প্রতিরোধ মোর্চা, সেক্যুলার ইউনিটি বাংলাদেশ, ইয়ুথ ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, আওয়ামী প্রজš§ লীগ, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ঘাসফুল শিশু কিশোর সংগঠন, বাংলাদেশ মানবাধিকার আন্দোলন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ ও আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ প্রভৃতি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি বলেন, ‘ভাস্কর্য হচ্ছে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও উজ্জ্বল স্মৃতির প্রতীক। কোনো শক্তি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধ রাখতে পারবে না।’ যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টিকারীদের মোকাবিলা করতে যুবলীগই যথেষ্ট।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘এবার যখন আমরা ধরব, ফাইনাল হয়ে যাবে। এবার আর কোনো ক¤েপ্রামাইজ নয়। দেশে কুচক্রী মহল সৃষ্টি করে ফায়দা লোটা, বারবার এটা হবে না। আমরা এবারই এটা ফাইনাল করব।’ নারায়ণগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘সারাদেশেই অসংখ্য ভাস্কর্য আছে। এটা তো নতুন কিছু না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুরসহ সারাদেশেই অনেক স্থানেই আছে। এসব অর্বাচীনদের কথা আমলে নেয়ার কোনো গুরুত্ব দেখি না। রাস্তাঘাটে এখানে-সেখানে কারো কোনো কথা আমলে নেয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য হবেই।’ চট্টগ্রামে এক সমাবেশে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল হুঁশিয়ারি দেন, ‘যতটুকু বলেছেন ক্ষমা চেয়ে সাবধান হয়ে যান, সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি নষ্ট করলে ঘাড় মটকে দেব।’

ভাস্কর্য স্থাপনে ইসলামি দলগুলোর বিতর্ক নিয়ে নবনিযুক্ত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান দুলাল বলেন, ‘মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়। মূর্তি আর ভাস্কর্য নিয়ে আমাদের নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি আছে। এই জিনিসটা যখন আমরা বোঝাতে সক্ষম হব তখন সবকিছুর একটা সমাধান পেয়ে যাব।’ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমরা যেকোনো মূল্যে এ দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত রাখব। এ দেশে মৌলবাদীদের আগ্রাসন হতে দেব না।’ অন্যদিকে ছাত্রলীগ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান ও বিবৃতি দিয়ে ইতোমধ্যে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দিয়েছে। যেকোনো মূল্যে ভাস্কর্য হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘যারা সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তাদের এখনই লাগাম টানতে হবে। তাদের যে লেজ হয়েছে সে লেজ কেটে দেয়ার সময় চলে এসেছে।’

মানবকণ্ঠ/এইচকে






ads