বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ, কাউন্সিলের প্রস্তুতি


poisha bazar

  • ছলিম উল্লাহ মেজবাহ
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৩২

আরো সুগঠিত করতে দলকে ঢেলে সাজানোর নানা উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানেরও প্রস্তুতি চলছে। আসছে কাউন্সিলে যাতে দলটির ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের যথাযথ মূল্যয়ন করা যায়- এর জন্য বিশেষ একটি টিম সারা দেশে কাজ করছে। দলটির একাধিক সূত্রের সঙ্গে আলাপ করে মিলেছে এমন তথ্য।

করোনা মহামারীর কারণে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেক দিন স্থগিত রেখেছিল বিএনপি। তবে মহামারীর প্রকোপ ধীরে ধীরে কমতে থাকায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রমের সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেয় দলটি। এর পরই কয়েকটি জেলা ও অঙ্গদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যত দ্রæত সম্ভব মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-মহানগর, থানা-উপজেলা ও পৌর কমিটি ভেঙে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করারও চেষ্টা চলছে। এ সবই করা হচ্ছে দলটির আগামী জাতীয় কাউন্সিলকে উদ্দেশ্য করে। বিএনপির গঠনতন্ত্রে তিন বছর অন্তর জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দলের সর্বশেষ ষষ্ঠ কাউন্সিল হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। সে হিসেবে সেই কাউন্সিলে গঠিত বিএনপির বর্তমান জাতীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এক বছরের বেশি সময় আগে। ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর দলটির প্রতিপক্ষ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন হয়েছে। এ কারণেও বিএনপির ভেতর থেকেই কাউন্সিল করার একটি চাপ আছে। সবকিছু চিন্তা করেই একটি সুবিধাজনক সময়ে যেন কাউন্সিল করা যায় সেই চিন্তায় রয়েছে বিএনপি।

করোনা মহামারীতে স্বাস্থ্যবিধি বাধ্যবাধকতার কারণে যদি রাজধানীতে কাউন্সিলরদের জড়ো করা না যায়, তাহলে প্রয়োজনে ভার্চুয়ালে সংক্ষিপ্ত আকারে হলেও জাতীয় কাউন্সিল সম্পন্ন করতে চান দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এমন তথ্য জানিয়ে দলটির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আগামীতে নতুন এক বিএনপিকে দেখা যাবে। সে বিএনপি হবে জনগণের, রাষ্ট্রের, সংসদের এবং রাজপথের।
দলের আগামী জাতীয় কাউন্সিলে নতুন যে কমিটি হবে, তাতে নিজের বলয়ের নেতাদের স্থান দিতে কাজ শুরু করেছেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এ কারণে সারা দেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটিতে নিজের পছন্দের নেতাদের স্থান দিয়ে কমিটি গঠনের কাজ শুরু হয়েছে।

তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অনূর্ধ্ব ৪৭০ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা যায়। ষষ্ঠ কাউন্সিলের মাধ্যমে বড় কমিটি গঠন করা হলেও এবার তা ছোট করার চিন্তা করা হচ্ছে। সেই সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ ক্ষমতাবলে গঠনতন্ত্রে উল্লিখিত সদস্যের চেয়ে বেশি সদস্য কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছিলেন। এবার সেই মনোনয়ন দেয়া নাও হতে পারে বলে জানা গেছে। নির্বাহী কমিটিতে এবারের কাউন্সিলে ৩৩ শতাংশ নারীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে চাইছে দলটি।

জানা গেছে, এবারের কাউন্সিলে স্বাস্থ্যগত ও বয়সের কারণে কিছু নেতা বাদ পড়তে পারেন। অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের স্থায়ী কমিটিতে স্থান দেয়া হবে। দলের কয়েকজন নীতি-নির্ধারণী নেতা জানান, বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে মৃত্যুসহ নানা কারণে পদ শূন্য ও নিষ্ক্রিয় নেতাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কাজ করছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত ছিল। সম্প্রতি স্থায়ী কমিটি তৃণমূল পর্যায়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। জেলা, মহানগর, থানা ও পৌর কমিটির কাজ শেষ হলে জাতীয় কাউন্সিল করা হবে।’

বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হওয়াকে জাতীয় কাউন্সিলের অংশ হিসেবে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘সাংগঠনিক কার্যক্রম কাউন্সিলের একটা অংশ। অর্থাৎ দেশব্যাপী প্রতিটি জেলা, উপজেলা বা থানার যত ইউনিট আমাদের আছে সেগুলোর কমিটি গঠন কাউন্সিলের আগেই সম্পন্ন করতে হয়। সে কাজ আমাদের শুরু হয়েছে। করোনাকালের পরিস্থিতিতে কখন কাউন্সিল করার সুযোগ সৃষ্টি হবে এর জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। একটা সময় কাউন্সিল হবে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরেশোরে করারও সুযোগ কম। তার পরও কাজ শুরু করেছি।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘শীত মৌসুমকে সামনে রেখে কাউন্সিলের কথা ভাবা হচ্ছে। বিষয়টি তৃণমূল থেকে সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে জানানোর প্রস্তুতি চলছে। পরিস্থিতি অনুক‚ল থাকলে কাউন্সিলের কার্যক্রম ক্রমান্বয়ে আরো দৃশ্যমান হবে।’
অপরদিকে কাউন্সিলের আগেই মহাসচিব পদ নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে চান তারেক রহমান। এই পদে নতুন কেউ আসবেন, নাকি বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই থাকবেন তা কাউন্সিলের আগেই চ‚ড়ান্ত হয়ে যাবে। কারো কারো মতে, নতুন কাউকে খুঁজতে গেলে দলে বিভাজন তৈরি হতে পারে।

দলের এ ক্রান্তিকালে নেতারা মনে করেন, জাতীয় কাউন্সিলের কমিটি গঠনসহ নানা বিষয়ে খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত প্রাধান্য পাবে। সম্প্রতি ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে খালেদা জিয়ার ইচ্ছা অনুযায়ী সালাহউদ্দিন আহমেদকে মনোনয়ন দিয়েছে দল। তারেক রহমানের পছন্দে ছিলেন নবীউল্লাহ নবী। কিন্তু খালেদা জিয়া তার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় শেষ মুহূর্তে সালাহউদ্দিন আহমেদকে মনোনয়ন দেয়া হয়। মনোনয়ন বোর্ডে দলের অধিকাংশ নেতাই তার পক্ষে মত দিয়েছেন।

১৯ সদস্যের বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে এখনো চারটি পদ শূন্য। অসুস্থতাজনিত কারণে আরো কয়েকটি পদ শূন্য হতে পারে। শূন্য পদে দেখা যেতে পারে আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, নিতাই রায় চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জহির উদ্দিন স্বপনদের মধ্যে কয়েকজনকে।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads