গণফোরামে ভাঙন: কে বৈধ আর কে অবৈধ?

- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • সজিব খান
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৩৩,  আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৫৬

গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসনি মন্টুসহ তিন নেতার বর্ধিত সভা করার সাংগঠনিক ক্ষমতা ও বৈধতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এদিকে মোস্তফা মহসিন মন্টু জানিয়েছেন, বৈধতা আছে বলেই তাঁরা এসব করছেন। পাশাপাশি সেন্ট্রাল কমিটির মিটিং না ডেকে হুট করে কমিটি ভেঙে দিয়ে ড. কামালদের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসনি মন্টুসহ তিন নেতার নেতৃত্বে একটি অংশ বর্ধিত সভা করে আগামী ২৬ ডিসেম্বর দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের ঘোষণা করেছে।

এদিকে এক বিবৃতিতে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, তাদের (মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ তিন নেতার) কোনো সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং এই ধরনের মিটিং করার বৈধতা নেই। এই মিটিংয়ের সাথে আমাদের দল গণফোরামের কোনো সম্পর্ক নেই্।

তিনি বলেন, ‘তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি আমাদের দলের কোনো সিদ্ধান্ত না। যেহেতু এটি আমাদের দলের বিষয় না সেজন্য এই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসনি মন্টু বলেন মানবকণ্ঠকে বলেন, আমাদের বৈধতা আছে বলেই তো আমরা করছি। আমি গণফোরামের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। আমি দলের প্রথম লগ্ন থেকেই সাংগঠনিক সম্পাদক এরপর সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, আগামী সম্মেলনে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। উনি যদি থাকেন, থাকবেন। না থাকলে আমাদের কিছু করনীয় নেই। আমাদের প্রায় সব জেলা থেকে প্রতিনিধি আসছে। আড়াইশর বেশি প্রতিনিধি আসছে গণফোরামের প্রোগ্রামে। এর মধ্যে ছাত্র-যুবক সবাই ছিলো। বয়স্করা অনেকে আসতে পারেননি। তবে তারা তাদের প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন। সারা বাংলাদেশ থেকে আমাদের লোক আসছে।

গণফোরাম কি দুটি ভাগে একাংশ হিসেব চলবে নাকি আপনারা নতুন একটি দল করবেন জানতে চাইলে মোস্তফা মহসনি মন্টু বলেন, এটা আমাদের সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হবে। আমরা তো অ্যাকচুয়ালি মালিক না। আমাদের একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আছে। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। সম্মেলনে কাউন্সিলররা যে মত দেবেন, তারা যদি বলে গণফোরাম নিয়ে আপনারা চলেন। আমরা গণফোরাম নিয়েই চলব। আর তারা যদি বলে না আমরা নতুন একটি দল করবো। তবে তাই হবে।

‘উনারা (ড. কামাল হোসেন) যেমন কোনো সেন্ট্রাল কমিটির মিটিং না ডেকে, দলীয় গঠনতন্ত্র না মেনে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন তাহলে তো হবে না। এখানে তো একতন্ত্র নাই। আমাদের দলীয় গঠনতন্ত্র রয়েছে, সে মোতাবেক আমাদের চলতে হবে এবং যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হলে সেন্ট্রাল কমিটির মিটিং ডাকতে হবে। সমস্য তো সেখানেই হয়েছে।’

‌‘আমি যখন দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম সবশেষ সেন্ট্রাল কমিটির মিটিং আমি করে আসছি এবং সে সময় সিদ্ধান্ত হয়েছিল আমাদের আগামীতে একটা অন্তর্বতীকালীন সম্মেলন হবে। সেই সম্মেলনে যেসব পদগুলো খালি আছে সেগুলো পুরন করা। সেই কমিটি জেলাগুলোকে শক্তিশালী করবে। এরপর একবছরের মাথায় একটি সম্মেলন করবে।’

তিনি বলেন, আমি উনাকে (ড. কামাল হোসেন) বলেছিলাম আমি এবার নির্বাহী কমিটিতে থাকবো না। আপনি একজন সেক্রেটারী খুঁজে নেন। আমাকে কেবল মেম্বার রাখেন। উনি বললেন যে, না আপনি নির্বাহী কমিটিতে থাকেন। আমি বললাম, না আমি মেম্বার থাকবো। আমি সময় দিতে পারবো না। একটা পদ নষ্ট করে লাভ নাই। এরপর রেজা কিবরিয়া সাহেব উনারা চারজনকে বহিষ্কার করেন যারা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে জরিত। এগুলো তো উচিত না। এরপর আমরা কয়েকজন গেলাম উনার কাছে। গিয়ে বললাম স্যার সবাইকে ডাকেন। ডেকে এসব বহিষ্কার বন্ধ করে দেন। সবাইকে মিলেমিশে চলতে বলেন। আমি কিন্তু করছি না সংগঠন, আমার ইচ্ছা আর নেই।

উনি বললেন, ‘আচ্ছা এটা করব, এটা দেখছি, আমি তো করিনায়’ এসব বলে আমি যেই কমিটিতে মেম্বার ছিলাম সেই কমিটিটা ভাঙল। এরপর আহ্বায়ক কমিটি করলো। কোন এখতিয়ারে করলো এটা। কিভাবে করলো। একটা সেন্ট্রাল কমিটির মিটিং তো ডাকতে হবে কমপক্ষে। সেন্ট্রাল কমিটির মিটিংয়ে তো একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে নাকি।

তিনি বলেন, একটা সেন্ট্রাল কমিটির মিটিংয়ের পরিপ্রেক্ষিতে সম্মেলনটা হয়েছিল। এরপর তো উনি কোনো সেন্ট্রাল কমিটির মিটিংই রাখেন নায়। তাহলে একটা সম্মেলনে যে কমিটিটা হলো সেই কমিটিটা ভেঙে আবার নতুন কমিটি কিভাবে করেন।

‌‘আমরা যে জন্য কোনো কমিটি করলাম না। আমরা সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটি করলাম। যে, আগামী সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হবে, কাউন্সিলরদের মতামত সাপেক্ষে একটা কমিটি হবে।

‘কাউন্সিলের মাধ্যমে যে সেন্ট্রাল কমিটি তৈরি হয়, সেই সেন্ট্রাল কমিটিকে ক্ষমতায় কাউন্সিল দিয়ে যায়, যে আমাদের অবর্তমানে আপনারা সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ চালাবেন। সেই কমিটিকে না ডেকেই তিনি কমিটি ভাঙলেন। আবার একটা নতুন কমিটি করলেন। তাহলে এটা বৈধ না অবৈধ।’

এর আগে গত ৪ মার্চ কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এরপর ১২ মার্চ দলের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। যা থেকে বাদ পড়েন দলটির সাবেক নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ অন্তত হাফডজন সিনিয়র নেতা।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads