গ্রুপিংয়ে ব্যস্ত মহিলা দল


poisha bazar

  • ছলিম উল্লাহ মেজবাহ
  • ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৪৪

কার্যক্রম না থাকায় ‘হযবরল’ সৃষ্টি হয়েছে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলে। কাজের চেয়ে গ্রুপিং হচ্ছে বেশি। এ কারণে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন সংগঠনটির নেতৃত্ব নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ায় বিএনপির হাইকমান্ড এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। এক মাসের মধ্যে মহিলা দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষণা হতে পারে।

নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে ঠাঁই নিতে পারেন শিরিন সুলতানা, বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন ও নিলোফার চৌধুরী মনির যেকোনো একজন অথবা নতুন কোনো মুখ। সাধারণ সম্পাদক পদে নাম শোনা যাচ্ছে হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আক্তার ও নিপুন রায় চৌধুরীর নাম।

জানা গেছে, সংগঠনটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নেতা-কর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের অনুসারীদের মধ্যে কয়েক দফা হাতাহাতি পর্যন্তও হয়েছে। সর্বশেষ ৮ মার্চ নয়া পল্টনে দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে হট্টগোলের পর চরম ক্ষুব্ধ হয় বিএনপির হাইকমান্ড। এ কারণে কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এরপর থেকে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পারছে না সংগঠনটি। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খোঁজা হচ্ছে নতুন নেতৃত্ব। বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক জানিয়েছেন এসব তথ্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘মহিলা দলের বিষয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। ওইসব বৈঠকে দ্ব›দ্ব নিরসন ও নতুন নেতৃত্ব খোঁজার জন্য তিন নেতাকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি।’

কমিটির কার্যক্রম স্থগিত বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ বলেন, ‘করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) কারণে কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। এখন পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিষয়ে কোনো চিঠি পাইনি। আফরোজা আব্বাসের সঙ্গে দ্ব›েদ্বর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো দ্ব›দ্ব নেই। কোনো গ্রুপিংও নেই।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ‘সেভাবে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। মহিলা দল তাদের জায়গাতেই আপাতত আছে। তবে তাদের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যক্রম স্থগিত আছে।’ একই কথা বলেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সংগঠনের একাধিক কেন্দ্রীয় নেত্রী জানান, ‘মহিলা দল মূলত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজেই দেখভাল করতেন। তিনি কারাগারে যাওয়ার পরই সমস্যা দেখা দেয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে থাকায় ঢাকার কয়েক বিএনপি নেতা নিজেদের স্বার্থে মহিলা দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ জিইয়ে রাখছেন।’

২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি ও সুলতানা আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৫ মাসে তারা ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৩০টির কাউন্সিল সম্পন্ন করে। যার মধ্যে ২৬টি জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন কারাগারে যাওয়ার পর আর কাউন্সিল হয়নি।

২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল সংগঠনটির ২৬৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানার বেশিরভাগ অনুসারী স্থান পাননি। মূলত তখনই সংগঠনকে দুর্বল করার জন্য একটি গ্রুপের তৎপরতার অভিযোগ ওঠে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কিছুদিন পরই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে গ্রুপিং দেখা দেয়।

গত বছর ১৬ নভেম্বর তারেক রহমানের জন্মদিন পালন উপলক্ষে বিএনপির নয়া পল্টনের কার্যালয়ে এক সভাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়। সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের পরিচালনায় ওই সভা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা পর সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ উপস্থিত হয়ে মাইক ছিনিয়ে নেন। তিনি আফরোজা আব্বাসের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

এ সময় দুই গ্রুপের কয়েকজন আহত হন। পরদিন আফরোজা আব্বাস আর হেলেনের পক্ষের দেড় শ নেতা-কর্মী সুলতানার বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে অনাস্থাপত্র দেন এবং তার বহিষ্কার দাবি করেন। এরপর থেকে শীর্ষ দুই নেত্রী একসঙ্গে কোনো কর্মসূচি পালন করেননি। গেল বছরের ২০ নভেম্বর শাহজাহানপুরে ২০ জন সাবেক এমপি ও বর্তমান কমিটির শতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে তারেক রহমানের জন্মদিন পালন করেন আফরোজা। সুলতানা আহমেদ পৃথকভাবে তার গুলশানের বাসার ছাদে মিলাদের আয়োজন করেন। সেখানে কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন।

সেদিন থেকে আফরোজা-সুলতানা গ্রুপিং আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তারপর থেকে মহিলা দলের কোনো বৈঠকও হয়নি। তবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হস্তক্ষেপে ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবসে র‌্যালি করার সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটি। সেদিনও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে দুই গ্রুপের মধ্যে হট্টগোল হয়। পরে তারেক রহমান মহিলা দলের সব কার্যক্রম স্থগিত করেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর মহিলা দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল। সেদিন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশনা ছিল আফরোজা আব্বাস তার ১০ জন অনুসারী ও সুলতানা আহমেদ ১০ জন অনুসারী নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানাবেন। ভার্চুয়াল সভা করতে চাইলেও বিএনপি থেকে নিষেধ করা হয়।

 





ads







Loading...