মাহফুজ আনামের নিবন্ধ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত-মিথ্যাচার: রিজভী

- ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৫৩

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে দি ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনামের নিবন্ধকে সেটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যাচার বলে দাবি করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, মাহফুজ আনাম ‘After 30 years of autocracys demise, democracy still remains a distant dream’ শিরোনামে যে নিবন্ধ ছেপেছেন। সেটার মধ্যে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নির্জলা মিথ্যাচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অসংলগ্ন মতামত উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ওয়ান ইলেভেনের গণতন্ত্র ধংসের প্রধান কুশীলবদের অন্যতম হোতা এবং সেনা সমর্থিত মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত মাহফুজ আনাম এই নিবন্ধে বেগম জিয়াকে নিয়ে তিনি সরাসরি ও ইঙ্গিতে যে মন্তব্য করেছেন, তাতে জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। গণতন্ত্রের কথা বলতে গিয়ে তিনি ইনিয়ে-বিনিয়ে বারবার বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন, যা হলুদ সাংবাদিকতা ও বর্তমান মিডনাইট সরকারের নির্লজ্জ স্তুতিরই সমতুল্য।

তিনি বলেন, মাহফুজ আনাম ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে তার প্রবন্ধে যা লিখেছেন তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিষদবর্গের হাইপার-প্রপাগান্ডা ও কলুষিত মিথ্যাচারের প্রতিধ্বনি মাত্র। মিথ্যা বানোয়াট গল্প সাজিয়ে সংবাদ পরিবেশনের দায়ে বার বার ক্ষমা চেয়ে এখন সরকারের কাছে সাধু সাজার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন তিনি। তার লেখালেখির ভিশন-মিশন হলো বিএনপির বিরুদ্ধে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কাহিনী প্রকাশ করা। ভয়ে হোক বা উচ্ছিষ্ট ভোগিচ্ছায় হোক গণতন্ত্রহীন ও বেপরোয়া আচরণে লিপ্ত আওয়ামী লীগ সরকারকে খুশি করাই এখন তার আরাধ্য। মাহফুজ আনাম এখন আওয়ামী নব্য নাৎসিবাদের উপাসকে পরিণত হয়েছেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, নিজেকে কথিত ‘প্রতিষ্ঠানতুল্য সাংবাদিক’ দাবি করা সাংবাদিকতার ‘এথিকস’ শেখানো কে এই মাহফুজ আনাম? কী তার আমলনামা? গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা সাজা এই মুখোশধারী মাহফুজ সাহেবের পিতা ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভায় দীপ্তিমান সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক-সম্পাদক সর্বজনের শ্রদ্ধেয়। সেই স্মরণীয় আবুল মনসুর আহমদের নাম তিনি ভূলুণ্ঠিত করছেন। মাহফুজ আনামদের সারথি হয়ে তথাকথিত সুশীল শ্রেণির বেশ কয়েকজন এ দেশে গণতন্ত্রকে হত্যা করে এক-এগারোর অসাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। স্বচ্ছ সাংবাদিকতা নয়, বিদেশি অর্থদাতা প্রভু ও দেশীয় গোয়েন্দাদের এজেন্ট হিসেবেই কাজ করেছেন মাহফুজ আনাম।

রিজভী বলেন, মাহফুজ আনামদের বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস এবং ফ্যাসিবাদের উত্থানে ভূমিকা ও অপতৎপরতা কলংকিত ইতিহাস হয়ে থাকবে। বিএনপি বিপুল বিজয়ে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যার মাধ্যমে অসাংবিধানিক শাসন কায়েম করার নীলনকশা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেন এই মাহফুজ সাহেবরা। কারণে অকারণে তাদের প্রায় প্রতিদিন দেখা যেত জাতির সামনে নানা সবক নিয়ে হাজির হতে। তাদের নেতৃত্বেই তখন নানা ইস্যু বানিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির পালে হাওয়া দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি অবৈধ ক্ষমতা গ্রহণকারীদের মাধ্যমে সুশীল সমাজের কিছু ব্যক্তি তাদের প্রথম লক্ষ্য হাসিল করে। সেই লক্ষ্য হাসিলে পুরোধা ছিলেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার নিয়ে সেদিন তিনি উল্লাস করেছিলেন। এ সরকার আনার পেছনে নিজের কৃতিত্ব নিয়ে সগর্বে কলাম লিখেছিলেন- ‘দুই নেত্রীকে বিদায় নিতে হবে’। ডেইলি স্টারে গণতান্ত্রিক সরকারের পরিবর্তে সেনা সমর্থিত অগণতান্ত্রিক, একনায়কতান্ত্রিক স্বৈরশাসনকে স্বাগত জানিয়ে প্রকাশ করা হয়েছিল একটির পর একটি নিবন্ধ। পুরো সময়টা তারা গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থাকে শুধুই গালমন্দ করে মনগড়া নিবন্ধ লিখে গেছেন।

‘মাইনাস টু ফর্মুলার’ বাস্তবয়নে সে সময় দেশের রাজনীতিবিদদের গ্রেপ্তারের ‘পটভূমি রচনার ক্ষেত্রে’ ডেইলি স্টার সম্পাদক ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন’ বলে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, মাহফুজ আনামদের চোখে সব দোষ রাজনীতিকদের, রাজনীতিবিদরা সবাই যেন চাঁদাবাজ-চোর। তারাই কেবল অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ এনে ডেইলি স্টার পত্রিকায় তালিকাও ছাপা হয়েছিল। জেলে ঢোকানো হয়েছিল দেড় শতাধিক নেতাকে।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশ ‘জল্লাদের রঙ্গমঞ্চে’ পরিণত হয়েছে ম্তব্য করে রিজভী বলেন, মাহফুজ সাহেবরা এখন নতুন করে বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে জাতিকে গণতন্ত্রের জ্ঞান বিতরণ করছেন। তার (মাহফুজ আনাম) নিবন্ধ গণতন্ত্রের জন্য মায়া কান্না এবং হলুদ সাংবাদিকতার নতুন সংযোজন বলে আমরা মনে করি। মনে রাখতে হবে, শকুন যখন কাঁদে, তখন গরুর জন্যই কাঁদে, প্রাণীকুলের কোনো করুণ ট্র্যাজেডির জন্য কাঁদে না।

২০১৬ সালে টেলিভিশনে এক আলোচনায় ‘সূত্রবিহীন খবর প্রকাশের জন্য’ মাহফুজ আনামের ‘ক্ষমা চাওয়ার’ কথাও তুলে ধরেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে সাবেক ছাত্র নেতা ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, নাজিম উদ্দিন আলম, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আজিজুল বারী হেলাল, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মীর সরাফত আলী সপু, সাইফুল আলম নিবর, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, রাজীব আহসান, আসাদুল করিম শাহিন উপস্থিত ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads