প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়ছে আ.লীগের সংগঠনগুলো

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সাইফুল ইসলাম
  • ০৯ আগস্ট ২০২০, ১২:০৪

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। করোনার এই মহামারীর সময় প্রযুক্তির সুযোগ-সুবিধা কম-বেশি সবাই ভোগ করছে। আওয়ামী লীগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে তার বিপরীত চিত্র দেখা যায় দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর ক্ষেত্রে। অনেকটাই সহযোগী সংগঠনগুলো প্রযুক্তিতে পিছিয়ে রয়েছে।

এই সময় অনেক সংগঠনের নেই ওয়েবসাইট, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ, গ্রুপ, ইউটিউব অ্যাকাউন্ট, ইনস্ট্রাগ্রাম ও ইমেইল। সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের অনেকের নামে একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ইমেইল এবং পেজ রয়েছে। এসব ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট, ইমেইল এবং পেজ ব্যবহার করেই সংগঠন পরিচালনা করা হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।

জানা যায়, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে মহিলা আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ), তাঁতী লীগ ও যুব মহিলা লীগকে সহযোগী সংগঠনের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুসারে ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হচ্ছে ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ। এ ছাড়া দলীয় গঠনতন্ত্রে স্বীকৃতি না থাকলেও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদকেও (স্বাচিপ) ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের মর্যাদা দেয়া হয়। গত সম্মেলনের পর আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগকে স্বীকৃতি দেন আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর অনেকের নিজস্ব ওয়েবসাইট নেই। যাদের আছে তারাও নিয়মিতভাবে ব্যবহার করছেন না। আওয়ামী লীগ ইমেইল ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অনেক তথ্য শেয়ার করলেও প্রযুক্তিতে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে এসব সংগঠনের নেতারা।

মহিলা আওয়ামী লীগ: সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে সবার আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ। ১৯৬৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠাতা লাভ করে। ২০১৯ সালে সংগঠনটি তার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে। সংগঠনটির সর্বশেষ ৫ম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৭ সালের ৪ মার্চ। তবে প্রযুক্তিতে পিছিয়ে রয়েছে সংগঠনটি। তাদের নিজস্ব কোনো ওয়েবসাইট নেই। ইমেইল অ্যাকাউন্ট থাকলেও তা অনেকটা নিষ্ক্রিয়। তবে সংগঠনের দফতরবিষয়ক সম্পাদক রোজিনা নাসরিন মানবকণ্ঠকে বলেন, আমাদের ইমেইল অ্যাকাউন্ট আছে, ফেসবুক পেজ আছে। দলের নামে একটি সিকরেট গ্রুপ আছে। এই গ্রুপ থেকে দলীয় কার্যক্রমের সব তথ্য আদান-প্রদান করা হয়। করোনাকালে জুমের মাধ্যমে মিটিং করেছেন বলেও জানান এই নেত্রী।

বাংলাদেশ কৃষক লীগ: আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল। সংগঠনটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন নিয়মিত না করলেও বর্তমান কমিটি অনেকটাই সক্রিয়। বর্তমান কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হওয়ার কারণে কৃষকদের নিয়ে কাজ করছে প্রতিনিয়ত। তবে প্রযুক্তিতে এখনো অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে সংগঠন ‘বাংলাদেশ কৃষক লীগ’ নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চালু করেন। সংগঠনের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ মানবকণ্ঠকে বলেন, আমাদের আগে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ছিল না। কিন্তু বর্তমান চালু করেছি। ওয়েবসাইটের কাজ চলছে। করোনার কারণে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। করোনা না হলে এতদিনে ওয়েবসাইটও তৈরি করে ফেলতাম। বর্তমানে সংগঠনের সব কাজ ফেসবুকেই করে থাকি। আগস্টে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে কাজ চলছে, এই কর্মসূচির কার্যক্রম শেষ হলেই জেলা নেতাদের ফেসবুকের সঙ্গে সংযুক্ত করে ফেলব।

যুবলীগ: যুবলীগ ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠার পর পার করেছে ৪৭ বছর। সংগঠনটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ রয়েছে। তা অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। কয়েক মাস পর পর আপলোড করা হয় ওয়েবসাইটে। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ নামে সাইট খোলা হয়েছে। এই সংগঠনের নামে একটি গ্রুপ রয়েছে। সেই গ্রুপের মাধ্যমে সব তথ্য দেয়া হয়। দফতর সেল হিসেবে গ্রুপটি কাজ করছে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ: তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৭ জুলাই ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক নেতার সমন্বয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। ইতোমধ্যে সংগঠনটি রজতজয়ন্তী পার করেছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা নেতা ছিলেন বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পর ২০০৩ সালের জুলাই মাসে প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির অফিসিয়াল কোনো ওয়েবসাইট ও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই। প্রযুক্তির যুগে সংগঠনটি সব কার্যক্রম অ্যানালগ পদ্ধতি হচ্ছে। তবে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকটাই সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা যায়।

যুবমহিলা লীগ: আওয়ামী লীগের নবীনতম সহযোগী সংগঠনের একটি হচ্ছে যুবমহিলা লীগ। ২০০২ সালের ৬ জুলাই এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা হয়। যুবমহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল সব মিলিয়ে টানা ১৭ বছর দায়িত্ব পালন করছেন। তারা দীর্ঘদিন দায়িত্বপালন করলেও সংগঠনকে রেখেছেন অ্যানালগ। প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগেনি। অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, অ্যাকাউন্ট নেই। তবে নাজমা ও অপু উকিলের নামে যে কয়েকটি পেজ রয়েছে। সেই পেজ থেকেই সংগঠনের অনুষ্ঠানগুলোর ছবি ও তথ্য আপলোড করা হয় বলে তারা জানান।

তাঁতী লীগ: প্রথমে তাঁতী সমিতি নামে পরিচালিত হলেও ২০০৩ সালে বাংলাদেশ তাঁতী লীগ নামে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। পরে এটাকে আওয়ামী লীগ সহযোগী সংগঠনের মর্যাদা দেয়। এই কমিটির কার্যক্রম চলছে অ্যানালগ পদ্ধতিতে। করোনার সময় তাদের তেমন কার্যক্রম চোখে পড়েনি। প্রযুক্তির ছোঁয়া না লাগাই অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে সংগঠনটি।

শ্রমিক লীগ: আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসেবে কাজ করছেন শ্রমিক লীগ। এই সংগঠনের অধিকাংশ নেতাই অনেক বয়স্ক। তারা মোবাইলেই সংগঠনের কাজকর্ম পরিচালনা করে থাকেন বলে জানা যায়।

ছাত্রলীগ: আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ প্রযুক্তিতে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ রয়েছে। তাদের সব তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেই শেয়ার করা হয়ে থাকে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও প্রতিটি কর্মী প্রযুক্তিতে সক্রিয়।

আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ: আওয়ামী লীগের নতুন সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্থান পেয়েছে আওয়ামী মৎসজীবী লীগ। গত বছরের শেষের দিকে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করা হয়। সেখানে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি হিসেবে মো. সাইফুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শেখ আজগর লস্কর নির্বাচিত হয়েছেন। তারাও প্রযুক্তিতে পিছিয়ে রয়েছেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শেখ আজগর লস্কর মানবকণ্ঠকে বলেন, আমাদের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। শিগগিরই ওয়েবসাইট চালু করা হবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে

 





ads







Loading...