• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
  • ই-পেপার

পদে না থাকলেও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মনে আছেন শোভন


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৫ আগস্ট ২০২০, ২২:৩৮

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী পরিবার থেকে উঠে এসে ছাত্রলীগের কর্মী থেকে রাজনীতি শুরু করে শেখ হাসিনার কাছ থেকে দায়িত্ব পেয়েছিলেন সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের। এরপর বিতর্ক শুরু হলে নিজেই পদত্যাগ করে সরে গিয়েছিলেন তিনি। সংগঠনের পদ ছাড়লেও নেতাকর্মীদের আবেগের জায়গায় স্থান করে নিয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

দায়িত্ব ছাড়লেও শোভনের জন্মদিনে তাকে মনে রেখেছে নেতাকর্মীরা। সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নেতাকে নিয়ে তারা লিখেছেন আবেগঘন বার্তা। মনে করেছেন, নেতৃত্বে থাকাকালে ভাতৃত্বের বন্ধনের কথা।

ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দারুস সালাম শাকিল ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আমার সঙ্গে প্রথম পরিচয় কবে হয়েছিল মনে নেই, তবে এটুকু বলতে পারি, প্রথম পরিচয়েই মুগ্ধতা ছড়িয়েছিলো ছেলেটি।

একটা সময় যখন নিয়মিত প্রোগ্রাম থাকতো ক্যাম্পাসে, প্রোগ্রামের ফাঁকে প্রায়ই আমাদের জম্পেশ আড্ডা হতো নানান বিষয়ে। আমাদের কেউ হয়তো অনেকে উচ্চ স্বরে হেসেছে, কথা বলেছে, মেতেছে তর্কে, কিন্তু তাঁকে এসবে মাততে কখনোই দেখিনি; বরং সব সময় একটি স্মিত হাসি দিয়ে উপভোগ করতে দেখেছি সেইসব আড্ডা।

সবসময়ই সে ছিলো স্বল্পভাষী, খুব বেশী কথা কখনোই তাকে বলতে শুনিনি। মনযোগ দিয়ে সবার কথাশোনা তার অভ্যেস। কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করলে দেখতাম পরিস্কার ভাবে জানার জন্যই জিজ্ঞাসা করতো, আবার কারো কথার মাঝে কথা বলে বিঘ্ন ঘটানো তার অভ্যাসে ছিলো না।

ছাত্ররাজনীতির অঙ্গনে আমার দেখা একজন ভালো মানুষের নাম শোভন চৌধুরী। তার রাজনৈতিক সেন্স ও দেখেছি শার্প। যোগ্য কোন রানিংমেট পেলে নিসঃন্দেহে হতে পারতো ইতিহাসের সফল ছাত্রনেতা। জন্মদিনে নিরন্তর শুভেচ্ছা- নিকট ভবিষ্যতে বড়ো কোন সফলতার কামনায়...

ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডাকসুর সদ্য সাবেক স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী স্ট্যাটাসে লিখেছেন, শুভ জন্মদিন ভাই। যতটুকু মিশেছি আপনি নিঃসন্দেহে আমার কাছে একজন সরল মনের ভালো মানুষ। নেত্রীর প্রশ্নে শতভাগ আপোসহীন ছিলেন। আমি আপনাকে কোন কিছুর প্রতি মোহ দেখি নাই হোক টাকা কিংবা ক্ষমতা। ভুল করি বলেই আমরা মানুষ। মানুষের জীবনে অনেক কিছুই ঘটে যার জন্য মানুষ কখনো প্রস্তুত থাকে না!

ক্ষমতার প্রতিও আপনার মোহ ছিল না। আপনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলেন সিনেট থেকে। করোনায় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন কিন্তু কোন ছবি বা নিজের আইডি থেকেও পোস্ট করেননি। এটাই অন্যদের থেকে আপনি আলাদা! আপনার একান্ত নিজস্ব একটা সরল ব্যক্তিত্ব আমাকে খুব টানতো! শুভ কামনা রইলো। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন!

ছাত্রলীগের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক সিদ্দিকী লিখেছেন, আপনার সহজ সরল মানসিকতা আপনাকে আবারো ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। জন্মদিনে শুভ কামনা ভাই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা লিখেছেন, শুভ জন্মদিন প্রিয় মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ভাই। কি বলবো আসলে বলার কিছুই নাই। তবে হেরে গিয়েও যে জেতা যায় আপনি তার উত্তম উদাহরণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ফয়সাল আমিন তামীম লিখেছেন, আপনার জন্য আজীবন শুভকামনা থাকবে।। সবকিছুতেই আপনি অনন্য। ভালো থাকবেন ভাই।

ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের প্রায় দুই মাস পর ঘোষিত কমিটিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর অর্পিত ক্ষমতা বলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি হন মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী পরিবারের সন্তান শোভন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মেধাবী ছাত্র। তিনি আইন বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। আগের বিদায়ী ছাত্রলীগের কমিটির কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন।

শোভনের দাদা মরহুম শামসুল হক চৌধুরী বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক (৬নং সেক্টর এর প্রচার বিভাগের চেয়ারম্যান), কুড়িগ্রাম-১ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ১৯৭৩ ও ১৯৭৯। ১৯৭৫ পরবর্তী ১৯৭৭ সালে দেশ ও দলের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে জাতীয় নির্বাচন করেন।

শোভনের বাবা, যিনি ১৯৮১ সালে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ১৯৯১ সালে থানা যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালে থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (২০০১-২০১০) ও ২০১১ সালে পুনঃরায় থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (২০১১-অদ্যাবদি)। এর পাশাপাশি তিনি নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান।





ads







Loading...