ধানমণ্ডিতে দৌড়ঝাঁপ

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সাইফুল ইসলাম
  • ০৯ জুলাই ২০২০, ১১:৩৮

চলমান করোনাকালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় অনেকটাই ফাঁকা। করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকে এখানে নেতাদের উপস্থিতি কম দেখা যায়। বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় নেতাই দলের সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ের দিকে ঝুঁকছেন।

গত তিন মাসে একটি মাত্র অনুষ্ঠান হয়েছে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। অনুুষ্ঠানটি ছিল সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম উদ্বোধনের। তবে দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কোনো অনুষ্ঠান এবার প্রধান কার্যালয়ে হয়নি। নেতারা কম যাওয়ার কারণে সেখানে কর্মীরাও খুব একটা যান না। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবস্থিত রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে। কয়েক দশক পুরনো জরাজীর্ণ ভবনে থাকার পর দলের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন (২৩ জুন, ২০১৮) নবনির্মিত অত্যাধুনিক বহুতল ভবনের উদ্বোধন করা হয়। ১০ তলা এই ভবনের উদ্বোধন করেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সে সময় নেতারা জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আওয়ামী লীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে দলের নির্বাচনী কার্যক্রম ও দল-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার গবেষণা কাজ পরিচালিত হবে বলে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি আছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রধান কার্যালয়।

এবার দলের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাঁকালোভাবে উদ্যাপনের কথা থাকলেও করোনার কারণে তা দলীয় পতাকা উত্তোলনেই সীমিত ছিল। গত তিন মাসে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রচার সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান মাঝে-মধ্যে দলীয় কার্যালয়ে গেছেন। এ ছাড়া গত ১৫ জুন বিকেলে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কৃষক লীগ আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। অবশ্য নেতা-কর্মীরা না এলেও সেখানকার কর্মচারীরা ঠিক প্রতিদিন অফিস খোলেন। অফিসটির সামনে জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করেছে দলটি।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নেতারা দলীয় কার্যালয়ে না এলেও দলের সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রতিনিয়ত যাতায়াত করেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সেখানে নেতাদের আনাগোনা দেখা যায়। কেন্দ্রের বেশির ভাগ নেতাই সেখানে বিকেলে অবস্থান করেন। অনেকে আবার সামাজিক দূরত্ব রেখে কর্মী বা অনুসারীদের মিটিংও সারেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের দলীয় বৈঠকও এই অফিসে হয়ে থাকে। দলের সাধারণ সম্পাদক করোনাকালে ২-৩ বার অফিসে এলেও অধিকাংশ বৈঠকেই ভিডিও কনফারেন্স করেন তিনি অংশ নেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাও তার নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে খোঁজখবর নেন।

সেখানে নিয়মিত যান, এমন নেতাদের মধ্যে আছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শ্রী সুজিত রায় নন্দী, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, সাহাবুদ্দিন ফরাজী প্রমুখ।

এ বিষয়ে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, করোনার শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র একটি অনুষ্ঠান হয়েছে। তাও আবার কৃষক লীগের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছেন। তারপর আর কোনো প্রোগ্রাম হয়নি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে

 





ads






Loading...