খালেদার সাক্ষাৎ না পেয়ে ক্ষুব্ধ জোট নেতারা

মানবকণ্ঠ
খালেদা জিয়া - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • ছলিম উল্লাহ মেজবাহ
  • ০৭ জুলাই ২০২০, ১২:১৭

দেশের চলমান রাজনীতি ও নানা বিষয় নিয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সাথে শিগগিরই সাক্ষাৎ করতে চান ২০-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। জোটনেতাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠক না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। তবে সরকারের কঠোর নজরদারি ও অসুস্থতার কারণে বৈঠক করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা।

তারা বলেন, খালেদা জিয়া জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে অবস্থান করার পর জোটের অনেক শীর্ষ নেতা নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে জোটের কোনো নেতার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেননি খালেদা জিয়া। বৈঠকে অংশ নেয়া বিএনপির একজন যুগ্ম মহাসচিব মানবকণ্ঠকে বলেন, জোটের নানা বিষয় নিয়ে খালেদা জিয়ার সাথে মন খুলে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জোটনেতারা। জোটের সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে গত রবিবার রাতে এ সংক্রান্ত এক ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। ওই বৈঠকে তারা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বক্তব্য রাখতে গিয়ে খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

জোটের আরেক নেতা বৈঠকে বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নেতা যদি নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন তাহলে ২০-দলীয় জোটের শরিক দলের নেতা হিসেবে আমরা কেন তার সাথে দেখা করতে পারব না? এ সময় শরিক দলের আরেক নেতা প্রস্তাব করেন, ঢালাওভাবে সব নেতার সাক্ষাতের সুযোগ না হলেও অন্তত জোটের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা খালেদা জিয়ার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারেন। তার জবাবে জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, এটা (খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ) হতে পারে। এ বিষয়ে তিনি দলীয়ভাবে আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

শরিক দলের আরেক নেতা জানান, বৈঠকে সা¤প্রতিক রাজনৈতিক বিষয়গুলো প্রাধান্য ছিল। বিশেষ করে করোনা ভাইরাস, চিকিৎসা খাতে দুরবস্থা, কৃষকদের ঋণ প্রণোদনা, শহর ছেড়ে গ্রামে ফেরা মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পাটকল বন্ধ ও শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়া, নতুন অর্থবছরের উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টিও উঠে এসেছে। সীমান্তে বিএসএফের বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় সরকার চুপ থাকার বিষয়টিও প্রতিবাদ জানানো হয় বৈঠকে। সূত্র জানায়, বৈঠকে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নতুন আইনকে কালো আইন আখ্যা দেন নেতারা। করোনা মহামারীর মধ্যে এ ধরনের আইন করার বিষয়টিকে দুরভিসন্ধিমূলক বলে মত দেন তারা। কৃষকদের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়ার জন্য সরকারি প্রণোদনার টাকা পেতে নানা ধরনের শর্ত দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জোটনেতারা বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা বিনাশর্তে কৃষকদের ঋণ দেয়ার দাবি জানান।

ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেন- জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নির্বাহী সভাপতি আল্লামা নূর হোসেন কাসেমী, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রকিব, এলডিপির একাংশের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ পিপলস লীগের চেয়ারম্যান গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ ভাসানী চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরী, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের ও বাংলাদেশ ন্যাপের একাংশের চেয়ারম্যান শাওন সাদেকী। এলডিপির একাংশের সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ কিছু সময়ের জন্য বৈঠকে অংশ নিলেও কোনো কথা বলেননি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads






Loading...