আশা-আশঙ্কায় কাটে পদপ্রত্যাশীদের সময়


poisha bazar

  • সাইফুল ইসলাম
  • ২৪ জুন ২০২০, ২৩:৫১

আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ করার কোনো লক্ষণ দেখছেন না পদপ্রত্যাশীরা। গত বছরের শেষ দুই মাসে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ ও কৃষক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনের অর্ধবছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার লক্ষণই দেখছেন না প্রত্যাশীরা। কমিটিতে স্থান পেতে অনেকে আশায় বুক বেঁধে থাকলেও অনেকে আবার নিরাশায় সময় পার করছেন। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে আওয়ামী লীগের মহানগর, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হচ্ছে না। দলীয় নেতাকর্মীরা আশা-নিরাশায় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে শুধু যুবলীগ ছাড়া অধিকাংশ সহযোগী কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া জমা দিয়েছেন।

জানা যায়, গত ৬ নভেম্বর কৃষক লীগ, ৯ নভেম্বর জাতীয় শ্রমিক লীগ ও ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হয়েছে। যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেস (সম্মেলন) হয়েছে ২৩ নভেম্বর। ৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর যথাক্রমে ১১ ও ১২ নভেম্বর সম্মেলনও হয়। সেই সংগঠনগুলোর নতুন কমিটিও করা হয়। এসব সম্মেলনে শুধু এসব সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে সংগঠনগুলোকে সাত দিন করে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে সে সময়ের মধ্যে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এরপর বহুদিন পার হলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি সংগঠনগুলো।

সংগঠনগুলোর নির্বাচিত নেতারা জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খসড়া কমিটিগুলো জমা দেবেন। তবে এখনো খসড়া প্রস্তুত করতে পারেনি যুবলীগ লীগ। শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও কৃষক লীগ খসড়া কমিটি শেখ হাসিনার কাছে জমা দিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ ও কৃষক লীগের বিদায়ী কমিটির নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ মূল দলের কার্যনির্বাহী কমিটিতে স্থান পেতে পারেন। করোনা ভাইরাস সংকট না থাকলে অনেক আগেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়ে যেত। তবে করোনা সংকট কাটলেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে আওয়ামী লীগের মহানগরসহ সহযোগী সব সংগঠনের।
এসব সংগঠনের দায়িত্ব পেতে মরিয়া উঠছেন পদপ্রত্যাশীরা।

অন্যদিকে এসব সংগঠনের পদ-পদবিতে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীরা যাতে আসতে না পারে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কড়া সতর্কবার্তা রয়েছে। বিদায়ী কমিটির যেসব নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ও ক্যাসিনো সম্পৃক্ততাসহ নানা অপরাধমূলক কাজের অভিযোগ রয়েছে তাদের বাদ দেয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও কড়া সতর্কতা নেয়া হচ্ছে। তবে সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ-পদবি পেতে আগ্রহী নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই জড়ো হচ্ছেন নতুন এই নেতাদের বাসায়।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘মহানগরে কমিটি নেত্রীর মাধ্যমে দেয়া হয়। করোনাকালের কমিটি দেয়ার মতো পরিস্থিতি আছে কি না আসলে ভাবনার বিষয় আছে। আমরা কমিটি নেত্রীর কাছে জমা দিয়েছি। পরিস্থিতির একটু উন্নতি হলে উনি (শেখ হাসিনা) দেবেন। গণভবনে লোক যেতে পারলে, আসতে পারলে, এটা নিয়ে কথাবার্তা বললে, উনার হয়তো এখানে সংযোজন-বিয়োজন করার ব্যাপার থাকতে পারে। করোনাকাল না হলে হয়তো অনেক আগেই কমিটি দিয়ে দিতেন।’

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণেরর সভাপতি কামরুল হাসান রিপন মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘মহানগরের কমিটি কিভাবে দেবো? সব কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে করোনার সংকট না কাটা পর্যন্ত। আমি চেষ্টা করেছিলাম, করোনার কারণে এখন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।’

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কমিটি দেয়া আছে। করোনার কারণে হয়তো বিলম্ব হচ্ছে। নেত্রী (শেখ হাসিনা) ফ্রি হলেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিয়ে দেবেন।’

কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র চন্দ মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ১১১ জনের খসড়া কমিটি নেত্রীর কাছে জমা দিয়েছি। নেত্রী করোনা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আশা করছি, করোনা নিয়ন্ত্রণে এলেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে দেবেন।’

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব পাওয়ার কয়েক দিনের মাথায় সংগঠনের ৩৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির খসড়া তৈরি করে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতাদের কাছে জমা দিয়েছি।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের সহযোগীদের সব কমিটি মোটামুটি হয়ে আছে। যুবলীগের কাজ চলছে। করোনাকালে কমিটি দেয়ার চেয়ে আওয়ামী লীগ মনে করেছে, মানুষের জন্য কাজ করার কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই রেডি থাকার পরও অফিশিয়ালি ঘোষণা দেয়া হচ্ছে না। করোনার সংকট কেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই কমিটিগুলো দেয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপাতত এই কমিটিগুলো কাজ করছে। যে কমিটিগুলো জমা হয়েছে সেই কমিটির নেতারাই ছায়া কমিটির মতো দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া হয়নি, কিন্তু বাকি কাজকর্ম সবই চলছে।’

 





ads






Loading...