ঘরে বসেই কাটছে প্রবীণ রাজনীতিকদের করোনাকাল

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সাইফুল ইসলাম
  • ১৭ জুন ২০২০, ১০:২৫

মহামারী করোনার কারণে দেশের রাজনৈতিক দলের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও নেতারা চিন্তায় পড়েছেন। একের পর এক সিনিয়ন নেতা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। এই মৃত্যুতে চিন্তার মধ্যে পড়েছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও নেতারা। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ সকল রাজনৈতিক দলের সিনিয়র ও প্রবীণ নেতাদের মধ্যেই করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে। করোনার কারণে অনেকেই ঘরবন্দি জীবনযাপন করছেন। ঈদুল ফিতর কিংবা তার আগে নিজ নিজ এলাকায় গেলেও এরপর অনেকেই বাসা থেকে বের হননি। আবার অনেকে গ্রামে গেছেন করোনার কারণে গ্রামেই অবস্থান করছেন।

সূত্র মতে, মহামারী নভেল করোনা ভাইরাস দেশে আরো একবার আক্রান্ত ও মৃত্যুতে আগের সব রেকর্ড ভেঙে গেল। করোনা ভাইরাসে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গতকাল ছিল সেই সর্বোচ্চ মৃত্যু। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে বেশি আতঙ্ক লক্ষ্য করা গেছে। করোনার কারণে রাজনৈতিক দলের প্রবীণ নেতারা বাসাতেই অবস্থান করছেন। এরই মধ্যে করোনার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে অন্তত ৪০ জন সংসদ সদস্যকে যোগ না দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের হুইপের দফতর থেকে ফোন করে তাদের নিরুৎসাহিত করা হয়। এদের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও সরকারি দলের প্রভাবশালী সদস্যরাও রয়েছেন। রয়েছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদও।

গত এক সপ্তাহে করোনা আক্রান্ত হয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দুই প্রবীণ নেতা মৃত্যুবরণ করেছেন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান করোনায় মারা গেছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমও করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। করোনার থাবায় সে অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেলে অন্যান্য রোগ তাকে আকড়ে ধরেন। পরবর্তীতে করোনায় তার নেগেটিভ আছে কিন্তু তখন সে আর কোনো সাড়া দেননি। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশেই চলে যান তিনি। তার মৃত্যুতে ক্ষমতাসীন দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে অনকটাই ভয়ভীতি তৈরি করে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে তিনজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন শোক চলছে তেমনি আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে করোনা সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্ক তাদের। নাসিমের মৃত্যুর শোক অনেক প্রবীণ ও সিনিয়র নেতা ভিডিও বার্তা পাঠালেও বাসা থেকে বের হননি।

অন্যদিকে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতারা অনেকটাই ঘরবন্দি হয়ে রয়েছে। তবে এটা অন্য কোনো কারণে না। শুধুমাত্র করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে দূরে রাখতেই তারা ঘরবন্দি। অনেক প্রবীণ নেতা ঘরবন্দি থাকলেও নিজ এলাকার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ রাখছেন। তবে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে করোনা প্রাদুর্ভাব বাড়ছে বলে অভিযোগ করছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেন, মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে না। কেউ করোনা ছাড়া হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে সিট পাচ্ছেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে আগে করোনা টেস্ট করুন। করোনা টেস্ট করতে ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। অনেক জায়গায় চার দিনও লেগে যায়। তাই অনেক রোগী অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই মারা যাচ্ছেন। করোনা নিয়ে আমাদের দলের সিনিয়র নেতারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। সকলেই চেষ্টা করছেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মানুষের পাশে দাঁড়াতে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শ্রী পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য মানবকণ্ঠকে বলেন, এখন আমরা ঘরের মধ্যে আটকে আছি। আমি ঢাকায় যেতে পারছি না। করোনা নিয়ে অবশ্যই আমরা চিন্তিত। এ জন্য আল্লাহর কাছে প্রাথনা করা ছাড়া উপায় নেই। তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থায় দেশ ও জনগণের জন্য একটা চিন্তা আছে। মানুষকে বাঁচানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, দেশে যেন অশান্তি না থাকে এই চিন্তা করেই আমাদের সামনে এগুতে হবে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মানবকণ্ঠকে বলেন, লকডাউনে আমি বর্তমানে বাড়িতে আছি। দিন দিন দেশের অবস্থা খারাপের দিকেই যাচ্ছে। সরকার, জনগণ ও সংবাদপত্রের দিকে তাকাইলে বোঝা যায়, পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। লকডাউন ‘রেড জোন’ কিছুই কার্যকর করছে না সরকার। সির্টি কর্পোরেশনও সময় চাচ্ছেন। এর ফলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহের দিকে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার গায়ের জোরেই দেশ চালাচ্ছে। কোথাও কোনো সুশৃঙ্খল নেই। সব কিছুতেই হ-য-ব-র-ল। আমি রাজনীতিবিদ হিসেবে খুবই আতঙ্কিত।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু মানবকণ্ঠকে বলেন, মহামারী করোনা ভাইরাস নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত। কিভাবে দেশের জনগণ, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবকে রক্ষা করা যায় সেটি নিয়েই ভাবছি। দিন দিন সংক্রমণ বাড়ছে। উত্তরণের পরিবর্তে উদ্বিগ্নও বাড়ছে। জাতীয় পার্টির ভ‚মিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads