ওবায়দুল কাদেরের সেই শক্তি কোথায় গেল, প্রশ্ন রিজভীর

ওবায়দুল কাদেরের সেই শক্তি কোথায় গেল, প্রশ্ন রিজভীর
ওবায়দুল কাদেরের সেই শক্তি কোথায় গেল, প্রশ্ন রিজভীর - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৩ মে ২০২০, ১৮:১৮,  আপডেট: ১৩ মে ২০২০, ১৮:৫২

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীদের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। করোনাভাইরাসের মতো ভয়াল বিপজ্জনক ঘাতক ব্যাধি নিয়ে সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্য মন্তব্যের ধরন দেখলে মনে হয় তারা এটিকে ‘গুজব আর ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন বলেও মন্তব্য করেছেন বিএনপির এই নেতা।

বুধবার (১৩ মে) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, সরকারের দেয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ মার্চ। করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পরও কি সরকারের কোনো বোধোদয় হয়েছিল? করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকেই যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন বাংলাদেশের আদৌ কোনো প্রস্তুতি ছিল কিনা এই প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। অথচ আমরা শুরু থেকেই সরকারকে দেশে দেশে করোনাভাইরাসের তাণ্ডব সম্পর্কে সতর্ক করে আসছিলাম। কী কী করা উচিত এবং উচিত নয়, সে পরামর্শও দেয়া হয়েছে। অথচ দেখলাম ভিন্নচিত্র। ২০ মার্চের প্রাত্যহিক পত্রিকাগুলোতে দেখবেন, নিশিরাতের সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেছেন– ‘বিএনপি করোনা সম্পর্কে গুজব ছড়ায়’। ২১ মার্চের পত্রিকায় ওবায়দুল কাদের বলেছেন– ‘আমরা করোনার চেয়েও শক্তিশালী’। আর ফরেন পলিসিতে ‘স্বামী-স্ত্রীর কূটনীতি’ তত্ত্বের জনক পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন আগেই বলে দিয়েছেন– ‘করোনা মারাত্মক রোগ নয়; এটি সর্দি-জ্বরের মতো’। করোনাঝুঁকির সময় এই সরকার আতশবাজির আলোকোৎসব করল, ভোট করল, কোনো কোনো মন্ত্রী খুব কনফিডেন্টলি বললেন– ‘করোনা এদিকে আসবে না। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বললেন– ‘চীনের চেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল বানাব’। এক মন্ত্রী বললেন– দুনিয়ার যে কোনো দেশের তুলনায় আমরাই সবচেয়ে ভালো প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসের মতো এমন ভয়াল বিপজ্জনক ঘাতক ব্যাধি নিয়ে জনবিচ্ছিন্ন এই সরকার এবং তাদের মন্ত্রীদের বক্তব্য মন্তব্যের ধরন দেখলে মনে হয় তারা এটিকেও ‘গুজব আর ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এই মে মাসেই আটক করা হয়েছে আট সাংবাদিককে। আওয়ামী লীগ মনে করেছিল, জনগণকে ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা রেখে কিংবা জনগণের বিরুদ্ধে র্যাব-পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে। তবে এতদিন পরে এসে অবশেষে ওবায়দুল কাদেররা মনে হয় পরিস্থিতির ভয়াবহতা একটু আঁচ করতে পেরেছেন। গতকাল তিনি স্বীকার করেছেন, ‘দেশের করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। যেভাবে ক্রমশ বেড়ে চলছে, আক্রান্তের সংখ্যা তাতে সামনের দিকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার ইঙ্গিত পাচ্ছি।’ তারা যে করোনার চেয়েও শক্তিশালী, তা হলে এখন সেই শক্তি কোথায় গেল? এখন কেন তারা ঘরের ভেতর বসে শুধু অসত্য ও বিভ্রান্তির ধারা বিবরণী দিচ্ছেন?

বিএনপির এই নেতা বলেন, কোভিড-১৯ ভাইরাসে গোটা দেশ এখন বিপর্যস্ত। লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ আর মৃত্যুর হার। মাত্র দুই মাসেই ‘এশিয়ার হটস্পটে’ পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। জনতত্ত্ব-ঘনবসতি ও আক্রান্তের হার হিসাবে সংক্রমণের এ সূচক ভয়ঙ্করভাবেই স্পষ্ট। আক্রান্তের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তানের পেছনে থাকলেও সংক্রমণ হারে এশিয়ার অর্ধশতাধিক দেশের শীর্ষে এখন বাংলাদেশ।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads







Loading...