মানুষের বিপর্যয়ে আ.লীগ আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যায়: রিজভী

মানুষের বিপর্যয়ে আ.লীগ আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যায়: রিজভী

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০২ মে ২০২০, ১২:৫১,  আপডেট: ০২ মে ২০২০, ১৬:১০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুইটা লাঠির উপর দিয়ে হাটছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এ দুইটা লাঠি হলো একটা নিজের দল আওয়ামীলীগ আর একটা আমলাতন্ত্র। নিজের দল কি শুধু লুটেপুটে খাও, চেটেপুটে খাও। আর আমলাতন্ত্র হচ্ছে সরকারের অদক্ষতা ও দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত করা।

শনিবার সকালে ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন এর উদ্যোগে উত্তরখান থানায় ত্রাণ বিতরণের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ঘরের মধ্যে, খরের পালার মধ্যে চাল খাটের মধ্যে তেল পাওয়া যাচ্ছে। জনগণের টাকায় কেনা ত্রাণ ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান মেম্বার এবং আওয়ামী লীগের নেতারা আত্মসাৎ করছে। প্রতিদিন সারাদেশে ত্রান এর চাল ডাল তেল ধরা পড়ছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িতে। দেশ যখন মহামারীতে বিপর্যয়ে পড়ে তখন আওয়ামী লীগ আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যায়। তাদের ভাগ্য খুলে যায়। জনগণের টাকায় কেনা ত্রাণ আত্মসাৎ করে নিজেদের পকেট ভারি করছে আর মানুষ না খেয়ে হাহাকার করছে। এভাবে দেশ চলতে পারেনা। আজকে গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা নেই বলেই সরকার এসব অন্যায় অনিয়ম করতে পারছে।

তিনি বলেন, সরকারের অন্যায় অনিয়মের প্রতিবাদ করলে সমস্যা। করোনা মোকাবেলায় সরকারের ব্যবস্থাপনা অপ্রতুল।মুগদা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ ধরনের একটা সত্য কথা বলাতে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অনেক ডাক্তারদের বহিষ্কার করা হয়েছে। অথচ করোনায় বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ডাক্তার, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা।

এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের এ মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, সরকারের ত্রাণ বিএনপি'র নেতা-কর্মীরা না পেয়েও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পকেটের টাকায় অসহায়,গরীব, দিন আনে দিন খায় এমন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। প্রতিদিনই তাদের হাতে ত্রাণ তুলে দিচ্ছে। ঢাকা ১৮ আসনে এসএম জাহাঙ্গীর প্রতিদিনই অসহায় মানুষদের সহায়তা করছে। তার উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বিশ্বে ২১০টি দেশে করোনা মহামারী ছড়িয়েছে। এরকম মহামারী আমরা কখনো দেখিনি। গল্প শুনি নি। এরকম পরিস্থিতিতে সরকারের যে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার ছিল তা সরকার গ্রহণ করেনি। তারা নিজেদের অন্য কাজে ব্যস্ত ছিল। প্রতিদিনই করণা আক্রান্ত সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের লকডাউন আগে করা উচিত ছিল। এবং বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া দরকার ছিল। আগাম প্রস্তুতির কারণে ভিয়েতনাম, ভুটান সহ অন্যান্য দেশে করোনায় আক্রমণ ঘটাতে পারেনি। আমাদেরও যথেষ্ট সময় ছিল কিন্তু সরকার অন্য জায়গায় মনোযোগ দেওয়ায় দেশে এখন মহামারি আকার ধারণ করছে। কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচাতে সরকার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রতিদিন ব্রিফিং করে যে তথ্য দেয় এই তথ্য সঠিক নয়। করনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার আরো বেশি। ঊর্ধ্বগামী সংক্রমণের মধ্যে পড়েছে। এটা নিরাময়ের জন্য সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

রিজভী বলেন, বলা হচ্ছে মাক্স বিদেশ থেকে আনা হচ্ছে চায়না থেকে আনা হচ্ছে। কিন্তু শোনা যাচ্ছে এটি কেরানীগঞ্জে তৈরি করে চায়নার নাম দেওয়া হচ্ছে। এই মাক্স ত্রুটিযুক্ত।এসবের সাথে সরকারের মন্ত্রীদের ছেলেরা , আত্মীয়স্বজনেরা জড়িত। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। একটা জবাবদিহিমূলক সরকার থাকলে এরকম হত না। ভোটারবিহীন সরকার অগণতান্ত্রিক সরকার থাকলে এসব অন্যায় করা সম্ভব। গণবিরোধী কাজ করা সম্ভব।

তিনি আরো জানান, খুলনা ও নেত্রকোনায় টিসিবির পণ্য কালো বাজারে বিক্রি হচ্ছে।ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা টিসিবির কাছ থেকে জোর করে নিয়ে তারা কালোবাজারে বিক্রি করছে। টাকা আত্মসাৎ করছে।

ঢাকা মহানগর যুবদলের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রতিদিনই অসহায়, দুস্থ, দিন আনে দিন খায় এমন মানুষদের ত্রাণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি এবং সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন উত্তরখান থানা বিএনপি'র সভাপতি আহসান উদ্দিন আহসান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর বেপারী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোতালেব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ নুরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুল সরকার, উত্তরখান থানা যুবদলের সভাপতি রোস্তম আলী, সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, উত্তরখান থানা ছাত্রদলের সভাপতি আনোয়ার সরকার, সাধারণ সম্পাদক আশাদুল হক শুভ, উত্তরখান থানা শ্রমিক দলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, উত্তরখান থানা জাসাসের সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক মারুফ, উত্তরখান থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল রশীদ , বিএনপি নেতা সালেহ মেম্বার, হিরা মেম্বার ,আতিক মেম্বার প্রমুখ।

মানবকণ্ঠ/আরবি





ads







Loading...