আসলেই কি বোরহানউদ্দিনের ছাত্রলীগ নেতা খুনি মাজেদের নাতি?

ছাত্রলীগ নেতা পলাশ বিশ্বাস ও বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ
ছাত্রলীগ নেতা পলাশ বিশ্বাস ও বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • ০৮ এপ্রিল ২০২০, ১৯:৫২

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পরে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ। তার গ্রেফতারের পরপরই মাজেদের নাতি মুজিব উল্ল্যাহ পলাশ বিশ্বাস ছাত্রলীগের ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলে খবর প্রকাশ হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও জাকির হোসেনের কমিটির সময়ে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। সেসময়ই কমিটি নিয়ে নানা বিতর্ক শুরু হয়। তবে টিকে যায় এই কমিটি। এবার মাজেদের গ্রেফতারের পর আগের সেই বিতর্ক আবারো মাথাচাড়া দিয়েছে।

গণমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এ খবরের বিষয়ে খোঁজ নিয়েছে মানবকণ্ঠ। এতে বেরিয়ে এসেছে খুনি মাজেদের সঙ্গে পলাশের সম্পর্ক।

জানা যায়, ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগে সাংগনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন পলাশ।

উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের পেট মানিকা গ্রামের বাসিন্দা মৃত লকিয়াত উল্লাহ বিশ্বাস পলাশের দাদা। বাবা মো. অজিউল্লাহ বিশ্বাস। পারিবারিকভাবে আওয়ামী পরিবারের সন্তান পলাশের মুক্তিযোদ্ধা বাবা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজকল্যান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে তিনি ভোলা জেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি, বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষকলীগের আহ্বায়ক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা যায়, পলাশের বাবা কুতুবা ইউনিয়ন পরিষদ ৩নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। অপরদিকে পলাশের ভাই আসাদ উল্লাহ মঞ্জু বিশ্বাস ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বোরহানউদ্দিন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পলাশের মায়ের নাম রওশন আরা। তার নানার নাম মমতাজ উদ্দিন। জানা যায়, এই মমতাজ উদ্দিনেরই দুঃসম্পর্কের চাচাত ভাই ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) মাজেদ।

পলাশ বলেন, খুনি মাজেদ আমার মায়ের দূর সম্পর্কের চাচা। যার রক্তের ধারক-বাহক আমি না, যার সম্পত্তির ভাগিদার আমি না, কিন্তু তার দুষ্কর্মের ভাগিদার আমাকে করা কি ঠিক হবে?

খুনি মাজেদকে কখনো সরাসরি দেখেননি বলে দাবি করেন মুজিব উল্যাহ পলাশ বিশ্বাস। তিনি বলেন, আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা। ভোলায় দীর্ঘদিন ধরে কৃষক লীগের রাজনীতি করেছেন। আমি নিজেও স্কুলজীবন থেকে ছাত্রলীগ করছি। জাতীয় নেতা তোফায়েল আহমেদের হার ধরে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছি।

পলাশ বলেন, আমার মায়ের বাবার চাচাত ভাই খুনি মাজেদ। তিনি দেশ ছেড়েছেন ১৯৯৬ সালে। আমার জন্ম ১৯৯৫ সালে। তার সঙ্গে আমার কোনদিন কথাও হয়নি। তবুও একটা মহল খুনি মাজেদের সঙ্গে আমার নাম জড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ সময় তিনি তার সঙ্গে মাজেদের কোন সম্পর্ক পেলে নিজেই পদত্যাগ করবেন বলে জানান। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেলে আমি পদত্যাগ করব। আর তথ্য ভুয়া হলে যারা প্রচার দিচ্ছে তাদের বিচার দাবিও জানাই।

অপরদিকে ভোলা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজ মাহমুদ জানান, উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটি আমরা দেইনি। তাই এ বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে পারি না। আমাদের ওপর এর দায়ভার পড়ে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, এমন কেউ ছাত্রলীগে এসে নেতা হবে বিষয়টি দুঃখজনক। এবিষয়ে সকল তথ্য নেয়া হচ্ছে। সাংগঠনিক উপায়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব নেয়ার আগে পলাশ বিশ্বাস ওই উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়েছে। তাই বিস্তারিত জানা ছিল না। তবে জানা মাত্রই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, বঙ্গন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন অবসরপ্রাপ্ত আব্দুল মাজেদ গত ২৩ বছর ধরে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। গত ১৬ মার্চ তিনি ঢাকায় ফেরেন। সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজধানীর মিরপুর সাড়ে এগারো নম্বর থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ




Loading...
ads






Loading...