করোনায় আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরুন: ইনু

করোনায় আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরুন: ইনু
করোনায় আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরুন: ইনু - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২১:৫৯

দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের একাংশের সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

দেশের জনগণ, সরকার ও দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে এক ভিডিও বার্তায় হাসানুল হক ইনু বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে আপনারা প্রত্যেকেই দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, মানসিক চাপসহ নানা কষ্ট ও চাপের মধ্যে আছেন। আমি আপনাদের আতঙ্কিত না হয়ে এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ করছি। আতঙ্কিত ও দিশেহারা হবেন না।

তিনি বলেন, একা একা মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায় না। এ রকম সংকটে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সরকার, প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী ও সশস্ত্রবাহিনী সামনে থেকেই মোকাবিলা করে। জনগণের দায়িত্ব হচ্ছে সরকার, প্রশাসন ও স্বাস্থ্যবিভাগের নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা; সরকার ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করা। এখনো পরিস্থিতি আমাদের আয়ত্তের মধ্যেই, আমরা ইচ্ছা করলেই করোনা সংকট থেকে বের হয়ে যেতে পারব।

জাসদ সভাপতি বলেন, আমাদের প্রথম কাজ: করোনা বিস্তার ঠেকানো, যেকোনো মূল্যেই লোকসমাগম বন্ধ রাখতেই হবে, যেকোনো মূল্যেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেই হবে। অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেন না। দ্বিতীয় কাজ: করোনা রোগী শনাক্তকরণ, পৃথকীকরণ ও চিকিৎসা প্রদান। কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশনের বিধান ও নিয়ম মেনে চলা। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সম্প্রসারণ করার ব্যবস্থা নেয়া। লক্ষণ, উপসর্গ দেখলে বা অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত হটলাইন ও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ইনু বলেন, করোনা পরীক্ষা কেন্দ্র, ল্যাব ও প্রয়োজনীয় কিট, মেশিনের সংখ্যা বাড়াতে হবে। করোনা লক্ষণ ও উপসর্গ আছে এমন একজন ব্যক্তিও যেন পরীক্ষার বাইরে না থাকে। করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য আইসিইউ, ভেন্টিলেটরসহ অস্থায়ী ব্যবস্থা ও হাসপাতাল গড়ে তুলতে হবে। তৃতীয় কাজ: করোনা সংকটে সাধারণ চিকিৎসাব্যবস্থা অবশ্যই চালু রাখতে হবে। একজন রোগীও যেন বিনা চিকিৎসায় না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থ কাজ: চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের প্রাথমিক কর্তব্য। তাদের মনোবল চাঙ্গা রাখার জন্য বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণাও দিতে হবে। করোনা মোকাবিলার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বোর্ড গঠন করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইনু আরও বলেন, পঞ্চম কাজ: করোনা সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক, শহর ও গ্রামের সকল ধরনের শ্রমিক-মজুত, শ্রমজীবী-কর্মজীবী-মেহনতী মানুষ, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র কারবারি, হকার, দোকান কর্মচারীসহ সীমিত আয়ে ও দিন আনে দিন খায় মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা ও আয় সহায়তা প্রদান করতে হবে। একজন মানুষকেও যেন অনাহারে না থাকতে হয়- তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলের কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনের পাশে স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালনের আমি আহ্বান জানাচ্ছি।

জাসদ সভাপতি বলেন, ষষ্ঠ কাজ: করোনা অভিঘাত থেকে অর্থনীতি ও মানুষ বাঁচাতে দেড় লক্ষ কোটি টাকার একটি করোনা দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল গড়ে তোলার প্রস্তাব বলছি। এ জন্য প্রয়োজনীয় বিদেশি সাহায্য ও অনুদান সংগ্রহ করতে বিশেষ কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করা দরকার। আগামী বাজেটে অনুৎপাদন খাতে ব্যয় কমিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট সাজাতে হবে।

তিনি বলেন, সবশেষে আমি এই পরিস্থিতিতে জাসদের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাই আপনারা প্রশাসনের পাশে থাকুন, স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করুন, অসহায় মানুষের পাশে থাকুন। আমি দেশের সকল মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে অনুরোধ করছি। যেকোন মূল্যে করোনা বিস্তার ঠেকাতে হবে।

মানবকণ্ঠ/এসকে




Loading...
ads






Loading...