একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি

করোনা প্রতিরোধে ভেদাভেদ ভুলে কাজ করতে হবে

মানবকণ্ঠ
আবদুল লতিফ জনি - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • ছলিম উল্লাহ মেজবাহ
  • ০১ এপ্রিল ২০২০, ১০:৫৬,  আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২০, ১২:০৮

বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আমাদেরকে মানব ধর্মে উজ্জীবিত হয়ে সব ভেদাভেদ ভুলে এ মহাসংকট উত্তরণের জন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক ও বর্তমানে দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মাদ আবদুল লতিফ জনি। তিনি বলেন, বর্তমান ডিজিটাল নেটওয়ার্কের যুগে বিশ্ববাসীর সাথে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণও করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতার বিষয়ে তথ্য জানার সুযোগ লাভ করেছে। এর মাধ্যমে সতর্ক হওয়া এবং কীভাবে এই মরণব্যাধী করোনা ভাইরাসের মোকাবিলা করতে হবে সে ব্যাপারে দেশের সকল নাগরিককে সর্বাধিক সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।

গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর নিকেতনের নিজ বাসভবনে দৈনিক মানবকণ্ঠকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আবদুল লতিফ জনি একথা বলেন ।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন রাজনীতির সময় নয়। দেশের জনগনকে কি ভাবে এ মহা দুর্যোগ থেকে রক্ষা করা যায় সেটাই এখন সকলের চিন্তা করা উচিত। একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে বলতে পারি আমাদেরকে মানব ধর্মে উজ্জীবিত হয়ে সকল ভেদাভেদ ভুলে এ মহাসংকট উত্তরণের জন্য একযোগে কাজ করতে হবে। গোটা উন্নত বিশ্ব যেখানে এ মহা দুর্যোগ মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে সেখানে আমাদের মত উন্নয়শীল দেশের জন্য বিষয়টি আরো কঠিন। সরকারের সাথে জনগনকেও এ বিষয়ে দায়ীত্বশীল হতে হবে। সরকারকে অনুরোধ করবো করোনা ভাইরাস পরীক্ষার চিকিৎসার জন সম্বন্নিত ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত।

জনি বলেন, যেমন প্রতিতটি জেলায় নমুনা পরীক্ষার বিষয়টি কিভাবে দ্রুততার সঙ্গে করা যায় এবং জীবানু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট জেলার রোগী ওই জেলাতেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। তাতে এক জেলার রোগী অন্যজেলায় স্থানান্তরের ফলে ভাইরাস ছড়নোর ঝুঁকি থাকবেনা। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আবদুল লতিফ জনি বলেন, মানুষকে আতংকিত হওয়ার প্রবনতা থেকে রক্ষা করা যাবে। জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন কেন্দ্রীক তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রশাসন ও সশস্ত্রবাহিনীর সম্মন্নয়ে কার্যকর কমিটি করা হলে করোনার নমুনা সংগ্রহ, সেবা প্রদান সহজ হয়ে উঠবে। মানুষের মাঝে আস্থা সৃষ্টি হবে।

আরেক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, গোটা বিশ্ব যেখানে লকডাউন হয়ে গেছে সেখানে আমাদের আরো আগেই লকডাউন করা উচিত ছিলো। এ মরণঘাতক ভাইরাস ছড়ানো থেকে জনগণকে রক্ষা করার জন্য এছাড়া কোন বিকল্প পন্থা নেই। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে, চায়না, ইতালী, স্পেন, ফ্রান্স , জার্মানী, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য সহ এশিয়ার সব দেশেই লকডাউন চলছে। এতে জনগনের কষ্ট হলেও রোগ বিস্তারের সহজ উপায়টা বন্ধ করা যাচ্ছে। আমি মনে করি এ রোগের প্রতিষেধক আবিস্কৃত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সকল মানুষের জন্য রোগ বিস্তারের প্রতিরোধ প্রতিরোধ করাটাই উত্তম। যত কষ্টই হোক আমাদেরকে আরো কিছুদিন ধৈর্যধারণ করতে হবে। জনগণের সর্বাত্বক সহযোগীতা ছাড়া সরকারের পক্ষে এ মহামারী থেকে দ্রুত উত্তরণ করা কঠিন।

জনি আরো জানান, ভারত স্বাধীনতার পর এ প্রথম স্বশস্ত্র বাহিনীকে দায়ীত্ব দিয়েছে দেশের প্রতিটি রাজ্যে অপরেশন নামাস্তে নাম দিয়ে এক যোগে লকডাউন নিশ্চিত করতে। এছাড়া সরকারের পক্ষে সামাল দেয়া কঠিন। আমেরিকাও নিউইয়র্ক শহরে স্বশস্ত্র বাহিনী নামিয়েছে যেটা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে হোমল্যন্ডে এ প্রথম স্বশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন।

বিএনপির এ নেতা বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি দেশ তার নিজ দেশের জনগনের কষ্ট লাগবের জন্য সামর্থ অনুযায়ী নানা রকম প্রণোদনা প্রকল্প ঘোষনা করেছে। আমেরিকা, ইউরোপের দেশগুলি তাদের নাগরিকদের জন্য নগদ সহায়তার কথা ঘোষনা করেছে। তার পাশাপাশী বিনা সুদে ব্যবসায়ীদের জন্য অর্থঋনের সুবিধার কথা প্রকাশ করেছে। আমাদের দেশেও সরকার বিষেশ অর্থ সহায়তা ঘোষনা করেছে তৈরী পোষাক শিল্পখাতের সাথে জড়িত মালিক শ্রমিকদের জন্য।

তিনি বলেন, কিন্তু দিনমজুর, বস্তিবাসী, ভেনচালক, রিক্সাচালক, ছোট বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, চলচিত্র ও মিডিয়াতে কর্মরত সাংবাদিক, নির্দিষ্ট বেতনভোগী স্বল্প আয়ের মানুষ এবং পরিবহন শ্রমিকদের দুর্দশা লাগবের জন্য সরকারের যেমন জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ প্রনোদনা প্রকল্প নেওয়া অতি প্রয়োজন ।

বিএনপির এ নেতা বলেন, তার সাথে বেসরকারি সংস্থাসমুহ এবং বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে এ মহাবিপদ থেকে খেটে খাওয়া অসহায় মানুষ গুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। শুধু সরকারের উপর দায়ীত্ব দিয়ে আমরা যদি বসে থাকি তাহলে এরকম সমস্যা মোকাবিলা করা কঠিন হবে। সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সাথে সকল সচ্ছল নাগরিককে উদার হস্তে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টাই যে কোন জাতির জাতিয় দুর্যোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়।

বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী ও রাজনীতি জনি বলেন, করোনার প্রভাব আগামী দিগুলোতে এত ভয়াবহ হবে যে, যা এখনও মানব জাতি উপলব্ধি করতে পারেনি। এখন গোটা বিশ্ব কর্মবিরত- যেমন শস্য উৎপাদন মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পরিবহন সংকটের কারনে পন্য বিপনন-পরিবহন ও স্থানান্তরে ব্যাঘাত সৃষ্টির কারনে মুল্য বৃদ্ধি অস্বভাবিক হবে। উৎপাদন শুন্যতার সৃষ্টির ফলে কর্মজীবি মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারন করবে। করোনার কারণে সারা পৃথিবীর মানুষ বেকারত্ব ও অর্থ সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। পৃথিবী জুড়ে সামাজিক অশান্তি তৈরী হবে। দেশে দেশে খাদ্য সংকট তৈরী হবে। কোন কোন দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে। খাদ্য ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী সাহায্য করার মত কোন দেশ কারো পাশে দাঁড়ানোর ক্ষমতা ও সামর্থ থাকবেনা। সব দেশ তার নিজের সমস্যা নিয়েই ব্যস্ত থাকবে। আন্তজার্তিক সাহায্য সংস্থাগুলি অসহায় হয়ে যাবে। আঞ্চলিক সংস্থা গুলি কার্যকর ভুমিকা রাখতে ব্যর্থ হবে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, বিএনপি সহ সকল রাজনৈতিক দল এ মহাবিপদ থেকে জনগনকে রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করা উচিত। এ ব্যপারে দলের ভার প্রাপ্ত চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন এবং বলেছেন বিএনপি তিনবার ক্ষমতায় ছিলো। বিএনপি অনেক দুর্যোগে দেশের জনগনকে সাথে নিয়ে মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা আছে। সরকার চাইলে বিএনপি সহযোগীতা করতে প্রস্তুত।

এক প্রশ্নের জবাবে জনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী, অসুস্থ্য বেগম খালেদা জিয়ার কারা মুক্তিতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিনের পবিত্র দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। একই সঙ্গে সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এ সংকটকালীন সময়ে নির্বাহী আদেশে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য।

সাবেক ছাত্রদলের এ নেতা বলেন, দেশবাসী তথা বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের আবেদন, যে যেখানে যে অবস্থাই থাকি, সকল ধর্মাবলম্বী জনগনকে তাদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে নিজস্ব ধর্মানুযায়ী এ মহাবিপদ থেকে আসু মুক্তির জন্য প্রার্থনা করি। মহান আল্লাহ আমাদের সকলের হেফাজত করুন।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতি নির্ভও করে রপ্তানীমুখী শিল্পের উপর। উৎপাদিত পন্য রপ্তানী আয় এবং বিদেশে বসবাস কারী বাংলাদেশী অভিবাসিদের পাঠানো কষ্টার্জিত অর্থেও উপর। এই দুই খাতই করোনার প্রভাবে জটিল সমস্যায় পড়েছে। তাই দেশের অর্থনীতি মারাত্বক সংকটে পড়বে। বাংলাদেশ পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন কোন গ্রহে অবস্থান করছে না। তাই গোটা বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের ও সার্বিক ক্ষতির আশংকা আছে। সর্বশেষ তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা দেশের এ মহা সংকট মোকাবিলায় সক্ষম হবো বলে আশা রাখি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে 




Loading...
ads






Loading...