পানি-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে লুটপাটের ভর্তুকি দেয়া হয় : ফখরুল

পানি-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে লুটপাটের ভর্তুকি দেয়া হয় : ফখরুল
পানি-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে লুটপাটের ভর্তুকি দেয়া হয় : ফখরুল - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৩ মার্চ ২০২০, ১৪:৪৮

লুটপাটের ভর্তুকির টাকা তুলতে পানি-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে পানির দাম পাঁচবার বাড়ল। কিন্তু সে পানি মুখে দেয়া যায় না, খাওয়া যায় না। বিদ্যুতের দাম বেড়েছে আটবার। কারণ পাওয়ার প্লান্টের নামে তারা যে লুট করেছে তার ভর্তুকি দেয়ার জন্য এই দাম বৃদ্ধি।

মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ মানুষের পকেট কেটে তারা বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে। যদি কোনো পাওয়ার প্ল্যান্ট বিদ্যুৎ সরবরাহ না করে তবুও তাদের ভর্তুকি দিতে হবে, এই হচ্ছে তাদের চুক্তি। গতকাল জানলাম, প্রতি বছর ৫১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এই টাকা জনগণের, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট থেকে নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। বিদেশে হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। কুইক রেন্টালের নামে জনগণের টাকা লুট করা হয়েছে। সে লুটপাটের সমন্বয় করতে এখন আবার জনগণের পকেট কাটতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বাড়ছে। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা নেই বলেই সবকিছুর দাম বাড়ানো হচ্ছে। অত্যাচারের স্টিমরোলার মেনে নেবে না জনগণ। গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার যে ব্লাড পরীক্ষা হয়েছে সেখানে তার ফাস্টিং সুগার হচ্ছে ১৪.৫। চিন্তা করা যায় না। ১৪.৫ যদি তার নিয়মিত সুগার হয় তাহলে সেটা তার হার্ডে এফেক্ট করতে পারে, কিডনিতে এফেক্ট করতে পারে বা লাঞ্চে এফেক্ট করতে পারে।

এদিকে ‘ভারত থেকে অনেককে বাংলাদেশে পাঠানোর পাঁয়তারা চলছে’ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, নতজানু পুতুল সরকার ক্ষমতায় থাকায় এ বিষয়ে কিছুই বলছে না ক্ষমতাসীনরা। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার, স্বাধীনতা বিক্রি করে দিচ্ছে সরকার। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য দেশে আজ বিচার বিভাগ, উচ্চ আদালত সঠিক বিচার করতে পারে না। কারণ একটা একনায়কতন্ত্র দেশ চলছে। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র চলছে। আজ এই সরকার ব্যাংক সেক্টর ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতি, শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যখাত ধ্বংস করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বলতে কিছু নেই।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নিপুন রায় চৌধুরী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

মানবকণ্ঠ/এআইএস






ads