আ.লীগের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ খোকন-নাছির

আ.লীগের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ খোকন-নাছির - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সাইফুল ইসলাম
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:২০,  আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:৪৫

হাজারো চেষ্টা করার পর আবার দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন। মোহাম্মদ সাঈদ খোকন মেয়র পদে মনোনয়ন না পেলেও তিনি তাপসের ছেড়ে দেয়া ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়ন চান। সেখানেও দলীয় মনোনয়ন থেকে বিরত হন তিনি।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের এই দুই হেভিওয়েট নেতাদের বাদ দিয়ে অন্যদের মনোনয়ন দেয়ার পর সমালোচনার চেয়ে আলোচনাই বেশি হচ্ছে। কেন তারা দলীয় মনোনয়ন পাননি, তা নিয়ে দল ও দলের বাইরে সর্বত্রমহলে চলছে কানাঘুষা। তবে আওয়ামী লীগের সিনিয়ির নেতারা বলছেন, ভোটারদের আগ্রহ বাড়াতে পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে দলের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই দুই নেতাকে রাজনীতিতে আরো পরিপক্ব হতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, একদিকে ডিএসসিসির উন্নয়নে ব্যর্থ হয়েছে সাঈদ খোকন। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছেন শেখ ফজলে নূর তাপস। ঢাকা-১০ আসনে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে ঢাকার মেয়র হন তাপস। তার ছেড়ে দেয়া আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন সাঈদ খোকন। কিন্তু এবারো ব্যর্থ হয়েছেন দলের নজর কাড়তে। ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

সাঈদ খোকনকে নিয়ে দক্ষিণ ঢাকা মহানগরীর নেতাকর্মী ও ঢাকাবাসী অনেক আশায় ছিলেন যে নগরের উন্নয়ন হবে। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াবে। মশার অতিষ্ঠ থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করবেন। সবখানেই ব্যর্থ হয়েছেন মেয়র সাঈদ খোকন। এমনকি রাজনীতিতেও আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের কাছে কোনো নজির স্থাপন করতে পারেননি। দলীয় রাজনীতিতে এমন অবস্থা হওয়ার কারণেই পিছিয়ে পড়ছেন তিনি। 

অন্যদিকে চট্টগ্রামে দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরীর ওপর আস্থা রাখল আওয়ামী লীগ। আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনিই হলেন নৌকার মাঝি।

দলীয় মনোনয়নে এগিয়ে থাকা বর্তমান মেয়র নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনকে বাদ দেয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত রেজাউল করিমকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় নেতাকর্মী বেশ উৎফুল্ল। তারা মনে করছেন, রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ত্যাগের শেষদিকে মূল্যায়ন পেয়েছেন রেজাউল করিম। অন্যদিকে হেভিওয়েট হয়েও দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন নাছির উদ্দিনের অনুসারীরা।

আ জ ম নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল নগর আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তার মানসিক দূরত্ব ও দ্বন্দ্বে^র। তার বিরুদ্ধে কেউ কেউ সিনিয়র নেতাদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগও তুলেছেন। এমনকি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও সম্পর্কটা ভালো রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এক নেতা বলেন, মেয়রের পাশাপাশি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকার পরও অন্তত অর্ধশতাধিক সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন নাছির উদ্দিন। একাধিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরসহ ব্যক্তিগত কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সময় দিতে গিয়ে তিনি মূল দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানেন। এসব কারণেই তাকে এবার মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

এক নেতা বলেন, সাঈদ খোকন রাজনৈতিকভাবে পরিপক্ব নন। তা ছাড়া মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দলের ভাবমূর্তি তো বাড়াতে পারেননি, উল্টো বিতর্কিত করেছেন। ওই দুই নেতা বলেন, সাঈদ খোকনের ওপর দল যে আস্থা রেখেছিল, তা তিনি পূরণ করতে পারেননি। ফলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বড় পরিসরে তার ভূমিকা রাখার সুযোগ দেখা যাচ্ছে না।

মেয়র পদে দ্বিতীয়বারের মতো মনোনয়ন না পাওয়ার পর সাঈদ খোকনকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করা হয়। আপাতত সাঈদ খোকনকে দলের কাজে মনোযোগী হওয়া উচিত। বিভিন্ন কর্মসূচিতে থাকা উচিত। তাহলে এক সময় আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।

জানা যায়, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে আ জ ম নাছিরের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এ কারণে মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার অনুসারীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে নগর আওয়ামী লীগের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। অন্যদিকে নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের ঠিকমতো মূল্যায়ন না করায় এই দ্বন্দ্ব^ আরো প্রকট হয়। দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে এই পক্ষ আ জ ম নাছির উদ্দিনের বিরোধিতা করেছে। এই বিরোধিতার কারণেই দলীয় মনোনয়নে পিছিয়ে পড়েন তিনি।

সূত্র জানায়, সাঈদ খোকন দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ দেখছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। ঢাকাবাসীর আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে ব্যর্থ, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সফল না হওয়া ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে না পারা, বিভিন্ন সময় বেফাঁস মন্তব্য করে সমালোচিত।

এর আগে ঢাকার সড়কগুলোর পাশে ডাস্টবিন বসানোর প্রজেক্টেও ব্যর্থ হন তিনি। এ নিয়েও সমালোচিত হয়েছেন সাঈদ খোকন। এ ছাড়া ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর আজিমপুরের পার্ল হারবাল কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কর্মী সমাবেশের পাশেই মেয়র সাঈদ খোকন পাল্টা কর্মসূচি দেন। পরে ওই সমাবেশস্থলের সামনে ট্রাকে করে সিটি কর্পোরেশনের ময়লা ফেলার ঘটনায় মেয়রকেই দোষারোপ করা হয়। ওই ঘটনায় তখন তৎকালীন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ ও মেয়র খোকনের মধ্যে যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় তা নিয়েও দলীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন সাঈদ খোকন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দিয়েছিলেন জনপ্রিয়, গ্রহণযোগ্য এবং ভোটারদের কাছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে, এমন প্রার্থীদের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন দেয়া হবে।




Loading...
ads






Loading...