রাষ্ট্রে পরিবারতন্ত্র চলছে: ফখরুল

রাষ্ট্রে পরিবারতন্ত্র চলছে: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:৩২

আওয়ামী লীগ সংবিধানকে ধ্বংস করে দেশকে সম্পূর্ণ একটি একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করার আয়োজন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আপনারা দেখবেন এখানে এক ব্যক্তি হয়ে যাচ্ছে, একটি পরিবার হয়ে যাচ্ছে। মোট কথা পরিবারতন্ত্র চলছে এখন। এটা আপনারা লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন, মনোনয়ন কাদের দেয়া হয় এবং সংগঠনগুলোর দলীয় প্রধান কাদের বানানো হয়।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবির মুরাদের স্মরণে জিয়া পরিষদ আয়োজিত নাগরিক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি শুধু আপনাদের একটি কথা বলতে চাই, এ সংলাপ এ লড়াই ছোটখাটো কোনো লড়াই নয়। এ লড়াইয়ে সবাইকে অংশ নিতে হবে। প্রত্যেকের মধ্যে মুক্তির একটি বাসনা নিয়ে তাদের পরাজিত করতে হবে। আসুন আমরা সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাই। এ ভয়াবহ দানবীয় সরকারকে হটিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নতুন নির্বাচন দিতে হবে, যাতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।’

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়া প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি কেন নির্বাচনে এসেছে, এ প্রশ্ন অনেকেই করেন। আমরা নির্বাচনকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিচ্ছি। সেই কারণে আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। আমরা একটা লিবারেল পার্টি। জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা এ সরকারকে পরাজিত করব। দেশ ও রাষ্ট্রকে বাঁচাতে হলে বর্তমান সরকারের পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধ বলে। মুক্তিযুদ্ধ তাদের কাছে একটা প্রোডাক্ট। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সব অর্জন তারা ব্যর্থ করে দিয়েছে।সরকার বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ করায়ত্ত করে রেখেছে এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করার জন্য ও সেটাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সরকার বিচার বিভাগকে ব্যবহার করছে। আজকে বাংলাদেশ বলতে যে রাষ্ট্র এ রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে ফেলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রত্যেকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যাদের ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড যদি দেখেন তবে লক্ষ্য করবেন, সবচেয়ে নিম্নমানের লোকজন নিয়ে আসে শুধু রাজনৈতিক কারণে। পাস কোর্স, থার্ড ক্লাস -এ সব লোকজন নিয়ে এসে ভাইস চ্যান্সেলর বানানো হচ্ছে। একইভাবে এখন বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়। এভাবে সব প্রতিষ্ঠানে তারা তাদের নিজেদের আয়ত্তে নেয়ার জন্য দলীয়করণ করছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বলেন, ‘নাইকো দুর্নীতি মামলার মূল মামলা যেটা আন্তর্জাতিক আদালতে হয়েছে তা গোপন করে সরকার এ মামলা করেছে। এ মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতে অলরেডি রায় হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, কোনো ধরনের দুর্নীতি হয়নি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যায়ভাবে যাদের এ মামলার সাথে যুক্ত করা হয়েছিল তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের আমি অনুরোধ করব, এ বিষয়টা সবাই একটু জানার চেষ্টা করবেন। আমি ছোট্ট করে একটু বলতে চাই, এখানে বলা হয়েছে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিষয়টি যেন জনসম্মুখে প্রকাশ না করা হয়। এ জন্য ইন্টারন্যাশনাল সেন্ট্রার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেসমেন্টকে চাপ দিয়েছে সরকার। যেন বেগম জিয়াকে নির্দোষ বলে যে রায় দেয়া হয়েছে এটা প্রকাশ করা না হয়।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘এ মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতে যারা বিচারক ছিলেন তারা সবাই বিদেশি। আমাদের সরকার ও সেখানে যারা ছিলেন তারা অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলেন। শুনানি শেষে তারা বলেছেন, নাইকো সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত এবং বেগম খালেদা জিয়ার এখানে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। সেখানে যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের দুর্নীতির কোনো প্রমাণ তারা করতে পারেনি। এ ধরনের যতগুলো মামলা দেয়া হয়েছে সবগুলো মিথ্যা মামলা। তারেক রহমানকেও যে সব মামলায় জড়ানো হয়েছে তার সাথেও তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার দীর্ঘ সময় ধরে বলে আসছে তারেক রহমান এ সব দুর্নীতির সাথে জড়িত অথচ আজ পর্যন্ত তারা একটিরও প্রমাণ করতে পারেনি। এবং একটি মামলায় বিচারক তাকে নির্দোষ বলে রায় দেয়ার কারণে ওই বিচারককে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে।’

জিয়া পরিষদের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম সলিমুল্লাহ খানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, কৃষক দলের সদস্য লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মানবকণ্ঠ/এআইএস






ads