সরকার ও দল চলবে আলাদা

সরকার ও দল চলবে আলাদা

poisha bazar

  • ছলিম উল্লাহ মেজবাহ
  • ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:৩৪,  আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:৩৯

নজিরবিহীন রেকর্ড সৃষ্টি করতে চান আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একদিকে সরকার পরিচালনা করতে চান। অন্যদিকে সরকার থেকে আলাদা করে দলের নেতৃত্বও দিতে চান তিনি। সেই উদ্যোগ নিয়েই দল আর সরকার পৃথকভাবে পরিচালনা করার নানা কৌশল হাতে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ নিয়ে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েক দফা বৈঠক করেছেন।

যেভাবে হোক আগামীতে যেন কেউ বলতে না পারে সরকার ও দল এক হয়ে গেছে। দল আর সরকার পৃথকভাবে পরিচালনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে দলের নেতাদের সেই নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়।

এদিকে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে চলতি একাদশ সংসদের প্রথম বছরো ছিল দলের দায়িত্বশীল নেতাদের নিয়ে সরকার পরিচালনা করা। অতীতে বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ ক্ষমতাসীন দলগুলোর চিত্রও ছিল একই। কিন্তু ২১ ডিসেম্বর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে পাল্টে যাচ্ছে সরকারের অতীত চিত্র। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কাজকে গতিশীল করতে সরকার ও দলকে আলাদা করছেন বলে জানিয়েছেন দলের নেতা ও বেশ কয়েকজন মন্ত্রী।

তারা গণমাধ্যমকে জানান, যারা দলের পদে অতিষ্ঠিত থাকবেন তারা শুধু দলের সাংগঠনিক কাজে মনোনিবেশ করবেন। এজন্য তাদের প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদের অন্তর্ভুক্তি করেননি। কেননা সরকার ও দলের কার্যক্রম একসঙ্গে করতে গেলে তা পূর্ণাঙ্গভাবে রূপ নেয় না। আর যারা সরকারের মন্ত্রিপরিষদে থাকবে, তারা শুধু রাষ্ট্রের উন্নয়ন নিয়ে সক্রিয় থেকে দেশ ও জাতির কাজে নিবোদিত থাকবেন। এতে দেশের উন্নয়ন হবে বিদ্যুৎ বেগে। এসব চিন্তা ও বিবোচনা নিয়ে সরকার ও দল আলাদা করতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে শুধু মন্ত্রিপরিষদের চার সদস্যকে দলে অন্তর্ভুক্ত করছেন তিনি। এমনটি জানিয়েছে সরকারের অভিজ্ঞমহল। তারা মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্ত আগামী দিনে দেশের জন্য মাইলফলক বা ইতিহাস সৃষ্টি হবে। এর আগে কোনো সরকার এভাবে পুরোপুরি দল থেকে সরকারকে আদালা করতে দেখা যায়নি।

তারা বলেন, এটি শুধু শেখ হাসিনার পক্ষে সম্ভব। আর কারো পক্ষে সম্ভব নয়। ২১ ডিসেম্বর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়েছে। ৮১ সদস্যের এই কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যে ৭৪টি পদে নেতার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি পদে শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদের পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। ২৫ ডিসেম্বর কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের পর সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অন্য কমিটির নাম ঘোষণা করেন। এদিকে সর্বশেষ কাউন্সিলে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের ‘সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণের ফোরাম’ প্রেসিডিয়ামের মাত্র একজন সদস্য মন্ত্রিসভায় আছেন। তিনি হচ্ছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

অথচ ২০১৬ সালের কাউন্সিলের পরে অন্তত চারজন প্রেসিডিয়াম সদস্য মন্ত্রিসভায় ছিলেন। কেন্দ্রীয় যে কমিটি তখন হয়েছিল তাতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মন্ত্রিসভার অন্তত আটজন সদস্য ছিলেন। এবারের কমিটিতে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ মন্ত্রিসভায় আছেন পাঁচজন সদস্য। আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, যেহেতু রাজনৈতিক দল সরকার পরিচালনা করে, সেজন্য দলকে সরকার থেকে পুরোপুরি আলাদা করা খুব কঠিন কাজ হবে।

আওয়াামী লীগের তথ্য এবং গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ বলেছেন, দলকে সরকার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি কাক্সিক্ষতও নয়। সরকার থেকে দলকে আলাদা করার বিষয়টি যতটুকু যৌক্তিক ততটুকু রাখতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, দলের মধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী থাকাটাও প্রয়োজন রয়েছে। সরকার জনগণের জন্য যা যা করবে সেটির মূল কমিটমেন্ট দল থেকে আসে। সেজন্য দলের সাথে সরকারের একটা সম্পর্ক প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, দলের অনেক সাংগঠনিক কাজ থাকে। কিন্তু বেশি মন্ত্রী যদি দলে থাকে এবং তারা যদি দলের কাজে ব্যস্ত থাকেন তাহলে সরকারের কাজ ব্যাহত হয়।

ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, দল এবং সরকারের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়। আমি বিশ্বাস করি সেই কারণেই নেত্রী একেবারে সবাইকে না সরিয়ে কয়েকজনকে রেখেছেন একেবারে পলিসি লেভেলে যাতে করে দল এবং সরকারের মধ্যে সব সময় একটা সেতুবন্ধন থাকে সেজন্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, দল এবং সরকার আলাদা রাখার ধারণা ‘অর্থহীন’। এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও নেতৃত্বে নির্বাচন কোনো গণতান্ত্রিক উপায় হয় না। সব দিক থেকে দলীয়প্রধানের মতামতের ওপর সবকিছু নির্ভর করে। এমন অবস্থায় সরকার ও দলকে পৃথক করা কার্যকরী কোনো বিষয় হবে না বলে তারা মনে করেন না। এ ছাড়া ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ না হয়ে উল্টো এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হচ্ছে বলে তারা মনে করেন। আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ অবশ্য দ্বিমত পোষণ করেছেন।

তার যুক্তি হচ্ছে, আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা তার দল এবং সরকারকে যেভাবে শক্তিশালী করেছেন, অন্য রাজনৈতিক দল সেভাবে এগুতে পারছে না। এখানে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার মতো কোনো বিষয় রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

মানবকণ্ঠ/আরবি




Loading...
ads






Loading...