প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নারী কোটা পূরণ করবে আ.লীগ

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নারী কোটা পূরণ করবে আ.লীগ

poisha bazar

  • সাইফুল ইসলাম
  • ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:১৬

২০০৮ সালে নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর পর ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব পূরণের প্রতিশ্রুতি ইসিকে দিয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলো। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের আগামী ২১তম জাতীয় সম্মেলনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও) শর্তানুযায়ী ৩৩ শতাংশ নারীকে দলের বিভিন্ন পদে রাখতে চায় বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। আওয়ামী লীগের কমিটিতে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের হার অতীতের তুলনায় বর্তমানে অনেক বেশি। তবে আওয়ামী লীগ ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি। ইসিকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য দলীয় কমিটিতে এবার নারী কোটা বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়েছেন দলটি সিনিয়র নেতারা।

জানা যায়, ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিলে ঘোষিত ৮১ জনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী ছিল মাত্র ১৫ জন। এখনো লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ পিছিয়ে আছে। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ১৪ সদস্যের সভাপতি মণ্ডলীর মধ্যে নারী তিনজন। প্রেসিডিয়াম সদস্যের মধ্যে রয়েছেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুন। ৩১টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে নারীরা পেয়েছেন মাত্র ৫টি। তারা হলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, নারীবিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, শিক্ষা ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা এবং স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা। ২৮ জন সদস্যের মধ্যে নারী আছেন পাঁচজন।

যদিও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও)-এর শর্তানুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সর্বস্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রাখার বিধান রয়েছে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একমাত্র গণফ্রন্ট দাবি করেছে, দলটির সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রয়েছেন। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা বলেন, দল ও সরকারের মধ্যে ভারসাম্য আনতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। পরপর ক্ষমতায় আসায় যাতে সরকারের মধ্যে দল হারিয়ে না যায় সে লক্ষ্যে এবারের মন্ত্রিসভায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। দলের হেভিওয়েট নেতাদের দিয়ে দল পরিচালনার টার্গেটে মন্ত্রিসভায় নতুনদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলের জন্য দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি হবে। একই লক্ষ্যে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেত্রীদেরও সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। নতুন ও পুরনো নেত্রীদের সমন্বয়ে নারী কোটা পূরণ করার টার্গেট নেয়া হয়েছে।

সূত্রে আরো জানায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে এখন পর্যন্ত ১৮ দশমিক ৫১ শতাংশ নারী রয়েছে। তৃণমূলে আরো অনেক কম। তাই নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেয়া সময়ের আগেই দলের সব পর্যায়ে ৩৩ শতাশং নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। আগামী ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ৩ বছর মেয়াদি কমিটির মেয়াদ শেষ হবে। তখনই জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করার কথা এখনই ভাবছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সরকারের পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রম আরো গতিশীল করা ও দলে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে এ পরিকল্পনা আগেভাগেই শুরু হয়েছে। জাতীয় সম্মেলনের সময় দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা দলের শীর্ষ পদে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারেন বলে ধারণা করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তাছাড়া দলের জন্য অসামান্য অবদান রাখা নেতাদের পরিবারের যোগ্য নারী সদস্যদেরও নেতৃত্বে আনা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় চার নেতার পরিবারের সদস্যদেরও দেখা যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান মানবকণ্ঠকে বলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারীদের কোটা পূরণ করা হয়ে থাকে। আগামী ২১তম জাতীয় সম্মেলনেও ৩৩ শতাংশ নারী কোটা পূরণ করা হবে। যোগ্যতার ক্ষেত্রে নারীদের নিয়ে কারো আপত্তি নেই। আর নির্বাচন কমিশনের বাধ্য বাধ্যকতা আওয়ামী লীগ সব সময় পালন করে আসছে। ভবিষ্যতে পালন করে যাবে এই দলটি।

জানা গেছে, বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যেসব নারী নেতৃত্ব দলের বিভিন্ন পদে আছে তাদের আবার রাখা হতে পারে। তবে তাদের কারো কারো পদ বদল হতে পারে। আসন্ন সম্মেলনে নতুন করে যুক্ত হতে পারেন আরো বেশ কয়েকজন নারী।

এ বিষয়ে আলোচনায় রয়েছেন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের কন্যা ও প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি, শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. এএফএম আবদুল আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী শম্পা, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও সাবেক সাংসদ ফজিলাতুন নেছা বাপ্পি, সাবেক সাংসদ সানজিদা খানম, বরিশালের প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরণের স্ত্রী জেবুন্নেছা হিরণ, জামালপুরের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ও মেজর জেনারেল খালেদের মেয়ে মাহজাবিন খালেদ, শহীদ বুদ্ধিজীবী আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ, কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আফজল খানের মেয়ে সংরক্ষিত আসনের সাংসদ আঞ্জুম সুলতানা সীমা প্রমুখ।

জানা গেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৯০ এর খ-এর খ (২) অনুচ্ছেদে, কেন্দ্রীয় কমিটিসহ রাজনৈতিক দলের সর্বস্তরের কমিটিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ সদস্যপদ নারী সদস্যদের জন্য সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং এই লক্ষ্যমাত্রা পর্যায়ক্রমে আগামী ২০২০ সাল নাগাদ অর্জন করার কথা বলা হয়েছে। ২০০৮ সালে নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর পর ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব পূরণের প্রতিশ্রুতি ইসিকে দিয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলো। এরপর এই কোটা পূরণ করতে বেশ কয়েকবার রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দেয়ার উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। তবে কোনো দলই এখন পর্যন্ত তা পূরণ করতে পারেনি। ১০ বছরে কেন্দ্রীয় সংগঠনে ১৮ দশমিক ৫১ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে পেরেছে আওয়ামী লীগ।

মানবকণ্ঠ/আরবি






ads