নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগে

মানবকণ্ঠ
লোগো - আওয়ামী লীগ।

poisha bazar

  • আলমগীর হান্নান, খুলনা ব্যুরো
  • ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:৫২,  আপডেট: ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:২১

১০ ডিসেম্বর খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এই প্রথম খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন একই দিনে একই স্থানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলনের ঠিক আগমূহুর্তে এসে এখন কে কোন পদ পাচ্ছেন তা নিয়েই আলোচনার ঝড় বইছে জেলা জুড়ে। তবে অনেকেই বলছেন, এবার নগর ও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই পদে আসছে নতুন চমক। যাদের নামও এতো দিন আলোচনায় আসেনি তাদের মধ্যে থেকেই শীর্ষ দুই পদ পেতে চলেছেন। তবে মহানগর সভাপতি পদে বর্তমানই বহাল থাকবে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

দলীয় সূত্রানুযায়ী, চাঁদাবাজী, অবৈদ দখলদার, নারী কেলেঙ্কারী ও টেন্ডারবাজীর সাথে জড়িতরা দলের কোন পদে স্থান পাবে না। দলীয় সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণার পরই নতুন চমকের দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, যারা শীর্ষ দুই পদের জন্য দৌড়ঝাপ করছেন তাদের প্রায় অনেকের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ রয়েছে।

দলীয় সূত্রানুযায়ী, এবারের সম্মেলনে নেতৃত্বের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাষ মিলেছে অনেক আগে থেকেই। তবে খুলনা মহানগরীর সভাপতি পদে তালুকদার আব্দুল খালেক প্রায় নিশ্চিত হয়ে আছেন। সে কারণে এই পদটিতে কোন পরিবর্তন না আসার আভাস পাওয়া গেছে। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করে সাংগঠনিক দক্ষতা ও যোগ্যতার ক্ষেত্রে মিজানুর রহমান মিজান এগিয়ে। কারণ, বিগত কয়েক বছর খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আরো যাদের নাম আসছে তারা হলেন- অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, মোঃ আশরাফুল ইসলাম, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান পপলু, এম ডি এ বাবুল রানা প্রমুখ। তবে এই পদটিতে সবাইকে পেছনে ফেলে চলে আসতে পারেন বর্তমান কমিটির একজন। যা খুলনায় আওয়ামী লীগের জন্য একটি চমক বলে মনে করছেন সবাই।

কেন্দ্রের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ ঠিক থাকছে। বাকি ৫ জনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শেষ কথা হচ্ছে দলের সভানেত্রী যে দুজনকে সুপার সিলেকশনে রাখবেন তারাই হবেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের পরবর্তী কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক। যা আগামী ১০ ডিসেম্বর ঘোষণা করবেন দলের সাধারণ সম্পাদক, সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে অনেকটা ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তার ঘনিষ্ঠজনদের কাছে মতামত ব্যক্ত করে বলেছেন, ১০ বছর দল ক্ষমতায় রয়েছে, প্রত্যেকের আমলনামা আমার হাতে রয়েছে। এবার আমলনামা বিবেচনায় এনে দলের পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হবে। খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যর্থতার দায় এসে পড়েছে। অধিকাংশ উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড কমিটি গঠন হয়নি। বিগত সম্মেলনের পর থেকে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ দুইটি ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ, অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন প্রয়াত জেলা সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা রশিদী সুজা। দলের এই বিভাজন প্রত্যেকটি উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এই বিভাজন এর প্রেক্ষিতে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যেও অনেকটা অস্থিরতা ও হতাশা দেখা যায।

বিগত স্থানীয় নির্বাচনে ইউনিয়ন ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিপর্যয় ঘটে। এই বিপর্যয়ের মূল কারণ ছিল জেলার শীর্ষ নেতৃত্বের বিতর্কিত ভূমিকা। আর এই বিতর্কিত ভূমিকার কারণে সদ্যসমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনে খুলনা জেলার পাঁচটি উপজেলায় নৌকা হেরে যায়। উপজেলা নির্বাচন চলাকালীন সময়ে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নৌকা প্রতীক হেরে যাওয়ায় জেলার শীর্ষ নেতৃত্বকে দায়ী করেন। মূলত মোস্তফা রশিদী সুজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অনেকটা স্থবিরতা নেমে আসে।

দলের খারাপ সময়ে খুলনায় আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করে রাখার কাজটি বুক চিতিয়ে করলেও এসএম মোস্তফা রশিদী সুজার অনুসারীরা এখন রয়েছেন কোণঠাসা হিসেবে। তারা চাইছেন তাদের মধ্যে থেকেই কেউ সাধারণ সম্পাদক হোক।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...