ছোট দলগুলোতে ভাঙা-গড়া

ছোট দলগুলোতে ভাঙা-গড়া

poisha bazar

  • সেলিম আহমেদ
  • ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:১৫

অস্থিরতা পিছু ছাড়ছে না বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনের ছোট দলগুলোতে। অভ্যন্তরীণ মতানৈক্যের জের ধরে একের পর এক ভাঙছে দলগুলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন থেকে গণমানুষের দাবি দাওয়া নিয়ে তারা রাজপথে জোরালে অন্দোলন করতে পারছেন না। রাজনীতি রাজপথে না থাকায় ঢুকেছে রাজনৈতিক দলের ভেতরে। বাড়ছে দলীয় কোন্দল। শেষ পরিণতি হচ্ছে দল ভেঙে খণ্ড-বিখণ্ড।

আবার অনেকে বলেছেন, মতাদর্শিক এবং ব্যক্তিগত মতান্তর থেকে ভাঙছে বামদগুলো আর ডান দলগুলো ভাঙছে নিজেদের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার মানবকণ্ঠকে বলেন, ডান দল ও বাম দলগুলোর ভাঙন কিন্তু দুটো ব্যাপার। বাম দলগুলো ভাঙনের পেছনে কিছুটা হলেও আদর্শিক দ্বন্দ্ব কাজ করে। ভেতরে অভ্যন্তরীণ কিংবা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থাকতে পারে। এক কথায় মতাদর্শিক এবং ব্যক্তিগত মতান্তর থেকে বামদলগুলো ভাঙছে।

ডান দলগুলো ভাঙনের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ডান দলগুলো ভাঙনের পেছনে একাধারে সরকারি দল এবং সংসদের বাইরের যে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এই দুই দলের মনোযোগ আকর্ষণের একটা ব্যাপার আছে। অর্থাৎ কে নিজেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্রে একটা বড় জায়গায় নিয়ে যেতে পারে কিংবা সরকার তাদের একটু গুরুত্বে সঙ্গে নেন কি না এই প্রমাণের প্রতিযোগিতা দলের মধ্যে থাকার কারণে দলগুলো ভাঙছে।

অভ্যন্তরীণ মতানৈক্যের জের ধরে ভাঙনের কবলে পড়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ। দলটি ভেঙে দ্বিখণ্ডিত হয়। এখন দলের একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শরীফ নুরুল আম্বিয়া অপর অংশের নেতৃত্বে ফের হাসানুল হক ইনু। কদিন আগে আরেক দফায় ভাঙনের মুখোমুখি হয়েছে আ স ম রবের দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি। রব আগামী ২৮ ডিসেম্বর জেএসডির জাতীয় কাউন্সিল আহ্বান করেছেন। সভাপতি রবের ডাকা কাউন্সিল বর্জন করে আগামী ১১ জানুয়ারি আলাদা সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন। ২৩ নভেম্বর শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আলাদা সম্মেলনের ঘোষণা দেন তিনি। আ স ম রব তার দল নিয়ে বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে রয়েছেন, তা নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিদ্রোহী পক্ষ।

আবদুল মালেক রতন বলেন, জেএসডির নেতৃত্বের একাংশ আজকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, চেতনা, দলের অংশীদারিত্বের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার রাজনীতি এবং রাজনীতি আপদ-বিপদ হিসেবে পরিচিত শক্তির বিরুদ্ধে তৃতীয় শক্তি গড়ে তোলার অঙ্গীকার ভুলে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী দল ও গোষ্ঠীর সঙ্গে আঁতাত করে চলছে।

ওই অংশটি ২৮ ডিসেম্বর যে কাউন্সিলে আহ্বান করেছে, তা দলীয় বিধিসম্মত নয় বলে আমরা মনে করি। এজন্যই আমরা অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ কাউন্সিল বর্জন করে ১১ জানুয়ারি কনভেনশনের মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র সুনিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

চাওয়া ও পাওয়ার হিসেবকে সামনে এনে ভেঙেছে রাশেদ খান মেননের দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। এ নিয়ে কয়েক দফা ভাঙনের সম্মুখীন হয়েছে দলটি। ওয়ার্কার্স পার্টির এক সময়ে তুখোড় নেতা সাইফুল হক মতানৈক্যের জের ধরে দল থেকে বের হয়ে গঠন করেন বিল্পবী ওয়ার্কার্স পার্টি। ‘মতাদর্শগত বিরোধের’ অভিযোগে তুলে ২৯ ও ৩০ নভেম্বর যশোরে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আরেক দফা ভেঙে যায় ক্ষমতাসীন দলের জোটসঙ্গী রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। যশোর থেকে ঘোষিত হয়েছে নতুন আরেকটি দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী)। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হয়েছেন খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী কামরুল হাসানের ভাই নুরুল হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ।

দীর্ঘ একযুগ পর ভেঙনের কবলে পড়েছে ২০ দলীয় জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। ১৮ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি থেকে বেরিয়ে এসে পৃথক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির কয়েক সাবেক নেতা। তবে পৃথক এক সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল অলি জানিয়েছেন, এলডিপি তার নামে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। তিনি এর সভাপতি। তিনি ছাড়া এর কর্তৃত্ব নেয়ার আইনগত অধিকার কারো নেই।
দলের বিদ্রোহী অংশের নেতা সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল করিম আব্বাসীকে সভাপতি এবং সাবেক সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমকে সদস্য সচিব করে এলডিপির পৃথক সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সদস্য সচিব শাহাদাত বলেন, ২০০৬ সালে বিএনপি থেকে বেরিয়ে এসে এলডিপি করা অন্যায় ও পাপ হয়েছে। আশা করি, বিএনপি প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ দেবে।

তিনি বলেন, জাতীয় মুক্তিমঞ্চ করে অলি আহমেদ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করছেন। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে শক্তিশালী করতে মুক্তিমঞ্চ করার প্রয়োজনীয়তা নেই। বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন ২০ দলের সঙ্গে অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি তাদের স্বীকৃতি জানাবে।

পৃথক এলডিপির সমন্বয় কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন এলডিপির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক সাংসদ আবদুল গণি, তিন সাংগঠনিক সম্পাদক এমএ বাশার, সৈয়দ ইব্রাহিম রওনক ও তৌহিদুর রহমান এবং দফতর সম্পাদক কাজী মতিউর রহমান।

এলডিপি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, অলি আহমদের সঙ্গে রাজনীতি করা আর সম্ভব নয়। তিনি এলডিপিকে তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে পরিণত করেছেন। তিনি যেভাবে জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন দিচ্ছেন, সার্টিফিকেট দিচ্ছেন, সেটার সঙ্গে তাদের দ্বিমত আছে।
শাহাদাত হোসেন বলেন, এলডিপিতে প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের বেশিরভাগই আর নেই। প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের একজনও অলি আহমদের সঙ্গে নেই। ৯ নভেম্বর ঘোষিত ১৭ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর মাত্র চারজনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের কেউ অতীতে এলডিপি করতেন না।
আবদুল করিম আব্বাসী বলেন, কর্নেল অলি নিজের স্বার্থ ছাড়া আর কোনো চিন্তা করেন না। তার প্রতি অনাস্থা আছে বলেই তাকে বাদ দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করছি। বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তাকে বহিষ্কার করা হবে কিনা।

দীর্ঘ একযুগ পর ভেঙনের কবলে পড়েছে ২০ দলীয় জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। ২ নভেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে বিশেষ বর্ধিত সভার মাধ্যমে আন্তপ্রকাশ হয়েছে নতুন এলডিপির। এক সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল অলি জানিয়েছেন, এলডিপি তার নামে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। তিনি এর সভাপতি। তিনি ছাড়া এর কর্তৃত্ব নেয়ার আইনগত অধিকার কারো নেই।

নবগঠিত এলডিপির আহ্বায়ক আব্দুল করিম আব্বাসী বলেন, ‘বিএনপি সরকারে থাকা অবস্থায় ১২ বছর আগে ৩৫ জন সংসদ সদস্য বেরিয়ে এসে অলি আহমদকে নেতা মেনে এলডিপি গঠন করেছিলাম। বিএনপি থেকে আমরা বের হয়েছিলাম দল ও সংগঠনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আশায়। কিন্তু দল পরিচালনায় অলির একনায়কসুলভ মানসিকতায় আমরা হতাশ হয়েছি। তাই নতুন দল গঠন করতে বাধ্য হয়েছি।’
অলি আহমদ কখনো ভিন্ন মতকে সম্মান দেননি দাবি করে আব্বাসী বলেন, ‘তিনি সম্পূর্ণ একনায়ক ও স্বৈরাচারী কায়দায় দল পরিচালনা করেছেন। তার স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে বাদ দিয়ে এলডিপির নতুন কমিটি গঠন করেছি।’ আগামীতে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে কাউন্সিলের মধ্য দিয়েই দলের কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান তিনি।

অলির এলডিপির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল গণি বলেন, ‘বিএনপিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অভাবের কারণেই আমরা এলডিপি গঠন করেছিলাম। কিন্তু আমরা যে উদ্দেশ্যে দলটির সঙ্গে মিলিত হয়েছিলাম, সেই উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছি।’ তিনিও অভিযোগ করে বলেন, ‘অলি এলডিপি পরিচালনায় কখনো গণতান্ত্রিক ছিলেন না।’

নবগঠিত এলডিপির সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের মালিক ব্যক্তি হতে পারেন না। অলি আহমদ দাবি করেছেন, এলডিপির মালিক তিনি। আমরা তার এ দাবিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’ কর্নেল অলি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে ‘জাতীয় মুক্তিমঞ্চ’ গঠন করেছেন বলে অভিযোগ করে সেলিম বলেন, ‘তিনি দ্রুত ক্ষমতা দখল করতে চান। আমরা তার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান হয়েই তার কাছ থেকে সরে এসেছি।’এক প্রশ্নের জবাবে সেলিম বলেন, ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটেই থাকবে আমাদের এলডিপি। কারণ বিএনপিই আমাদের মূল নেতৃত্ব দেয়া দল।’

অপর প্রশ্নের জবাবে সেলিম বলেন, ‘চারদলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীকে মেনে নিয়েই আমরা জোট সম্প্রসারণ করেছিলাম।

চারদলীয় জোটকে ২০ দলীয় জোটে পরিণত করেছিলাম। সেখানে তো জামায়াত ছিলই। কিন্তু অলি আহমদ ২০ দলীয় জোটের বাইরে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে জামায়াতের অর্থ ও জনবল নিয়ে জাতীয় মুক্তিমঞ্চ গঠন করেছেন।’ জামায়াত জোটে থাকলেও তাদের কোনো আপত্তি নেই বলে জানান তিনি।

সেলিম জানান, আবদুল গণিকে আহ্বায়ক এবং এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, সৈয়দ ইব্রাহিম রওনক ও জাকির হোসেন রিয়াজকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং এমএ বাসারকে সদস্য সচিব করে বিশেষ কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অন্যদিকে শফিউল আলম প্রধানের জীবদ্দশায় অটুট ছিল তার গড়া দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)। তার মৃত্যুতে পরপরই পার্টির প্রধান ছিলেন তার সহধর্মিণী রেহানা প্রধান। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি হাল ধরেছিলেন। তার মৃত্যুর পর উত্তারাধিকার সূত্রে পার্টির সভাপতি হন প্রধান কন্যা ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। ৬ ডিসেম্বর জাগপার ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলে দলটির প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে তাসমিয়াকে সভাপতি মনোনীত করা হয়।

অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিভক্তি রয়ে গেছে দলটিতে। মূলত এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের জাতীয় মুুক্তিমঞ্চে যোগদান ইস্যুতে জাগপার শীর্ষ নেতারা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ৭ সেপ্টেম্বর দলটির একটি অংশ সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খানকে বহিষ্কার করে এবং আবিদুর রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও খন্দকার লুৎফর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে। এর আগে তাসমিয়া প্রধান দলের নির্বাহী কমিটির সভা ডেকে সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমানকে বহিষ্কার করেছিলেন।

চরম অস্থিরতা চলছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামেও। দলটিতে হঠাৎ শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে অধ্যাপক আবু সাঈদ এবং শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়াকে। ইতোমধ্যে দল ছেড়েছেন প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ও প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক। মোস্তফা মহসিন মন্টু ইতোমধ্যে সুনসান অবস্থানে। দলটিতে ভেতরে ভেতরে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। শিগগির এ ক্ষোভের বিস্ফোরণ হিসেবে গণফোরামের পাল্টা কমিটি হতে বলে জানিয়েছে দলের বিদ্রোহী একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। এজন্য প্রস্তুতিও চলছে।

বিএনপির নেতৃত্বধীন ২০দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আমিনুর রহমান দুই মাস আগে তার দল ও পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। যদিও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছেন আমিনুর।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল নিয়ে গত ২৭ জুন ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’-এর ঘোষণা দেন এলডিপির সভাপতি। এতে যোগ দেয় কল্যাণ পার্টিও। এ ব্যাপারে দলের মহাসচিব আমিনুরের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এ কারণে চেয়ারম্যানের ওপর মনঃক্ষুন্ন হন তিনি। মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি চাওয়ার কারণগুলোর মধ্যে এটিও একটি।

আমিনুরের ঘনিষ্ঠ এক একটি সূত্র জানায়, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি হতাশ। রাজনৈতিকভাবে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেও তিনি অব্যাহতি চাইতে পারেন।

মানবকণ্ঠ/আরবি




Loading...
ads






Loading...