১২ ডিসেম্বর জামিন শুনানির দিন: বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধ

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে ড. কামালের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয়

ছলিম উল্লাহ মেজবাহ ও সেলিম আহমেদ

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে ড. কামালের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয়
খালেদা জিয়া ও ড. কামাল হোসেন - ফাইল ফটো

poisha bazar

  • ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:১৫

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার জামিন ও মুক্তির জন্য এখনও আদালতে তার পক্ষে দাঁড়াননি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। এ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ ও ক্ষোভ। ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ ও ক্ষোভ।

ড. কামাল হোসেন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি চান। কিন্তু তার পক্ষে আদালতে লড়ছেন না এ নিয়ে দল ছাড়াও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া। বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরও এনিয়ে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তৃণমূল নেতাদের মধ্যেও হতাশা বিরাজ করছে।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বিভিন্নভাবে আইনি পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু আদালতে তিনি সরাসরি খালেদার মুক্তির পক্ষে আইনীভাবে লড়ছেন না। ড. কামালকে কেন্দ্র করে নানামুখী চাপের মুখোমুখি হলেও এই মুহূর্তে ঐক্যফ্রন্ট থেকে সরতে রাজি না বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের নীতি-নীর্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। নেতারা চান জাতীয় একটি সমন্বয়ের উদ্যোগে খালেদা জিয়া জেল থেকে জামিনে মুক্তি পান।

এদিকে ড. কামাল কি কারণে খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে লড়ছেন না এ বিষয়ে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। বিশেষ করে ৫ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিএনপি চেয়ারপার্সনের জামিন শুনানিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনকে যুক্ত করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত করা হয়নি। তবে বিএনপির একটি পক্ষের নেতারা মনে করেন ড. কামাল হোসেনকে ঐক্যফ্রন্টের নেতা বানানো হয়েছে একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। তার হস্তক্ষেপ পেলেই যে খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পেয়ে বের হয়ে আসবেন- এমনটা মনে করেন না বিএনপির অনেক নেতা। তবে এই মুহূর্তে খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ হবেন।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি পিছিয়ে ১২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। কেন শুনানির দিন পেছানো হলো এ নিয়ে আদালত কক্ষে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের হট্টগোল নিয়ে নতুন করে আরেকটা সমস্যা দেখা দিয়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকের বিষয়ে প্রথম আগ্রহ দেখান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তার আগ্রহই ৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ফ্রন্টের বৈঠক হয় এবং ওই বৈঠকে ড. কামাল হোসেনও কর্মসূচি নিয়ে আগ্রহ দেখান। যদিও ওই বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন না। পরে বুধবার সকালে ডা. জাফরুল্লাহর বাসায় বিএনপির মহাসচিবসহ ফ্রন্টের সিনিয়র নেতারা বৈঠক করেন। সেখানে আলোচনা হয় ড. কামালকে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানাতে পারে বিএনপি। যদিও মির্জা ফখরুল এ বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, দলের আইনজীবী ও নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাবেন। এ বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাধিক নেতা বলেন, ডা. জাফরুল্লাহকে আমন্ত্রণ জানাতে যেতে বলেছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু ডা. জাফরুল্লাহ এতে রাজি হননি। তিনি জানান, বিএনপির মহাসচিব সঙ্গে গেলেই তিনি যাবেন এবং তিনি আত্মবিশ্বাসী যে ড. কামাল আমন্ত্রণ পেলে শুনানিতে অংশ নেবেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, বিএনপির পক্ষ থেকে কোর্টে যেতে আমাকে কিছু বলা হয়নি। আর নিজের ইচ্ছায় তো কেউ কোর্টে যায় না। কোর্টে নিতে হলে নিয়ে যেতে হয়।

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে অংশ নেয়ার বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র আইনজীবীদের মনোভাবও ইতিবাচক। গত বুধবার দুপুরেই ফ্রন্টের নেতাদের কাছে খবর পৌঁছায়, তাদের শরিক দলের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও খন্দকার মাহবুব হোসেনেরও এ ব্যাপারে আপত্তি নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলের অন্যতম নীতিনির্ধারক ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, ড. কামাল হোসেন কোর্টে গেলে তো খুবই ভালো হয়। সাধারণত তিনি ক্রিমিনাল কেস লড়েন না। তবে যেহেতু খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি, সবকিছু ফাইল করা হয়েছে, সেহেতু তার উপস্থিতি অন্য মাত্রা দেবে। ড. কামাল হোসেনের বিষয়টিকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখেন বলে জানান।

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে ড. কামালকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি চূড়ান্ত করতে বিগত দিনে একাধিক বৈঠক করছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, দলের চেয়ারপার্সনের জামিন শুনানির সম্ভাব্য সবদিক পর্যালোচনা করতেই আগামী দু’একদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দলের কয়েকজন আইনজীবীও থাকবেন বৈঠকে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, কোনো অগ্রগতি হয়নি। ড. কামালকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে বিএনপির দিক থেকে সম্ভাবনা মনে হয় শেষ। এই নেতা আক্ষেপ করে আরো বলেন, আমরা ফ্রন্টের নেতারা খালেদা জিয়াকে দেখতে যেতে চেয়েছিলাম। প্রথম দিকে কোনো সাড়াই দেয়নি বিএনপি। পরে নাম দিয়েছে একজনের, তাও ততক্ষণে সময় শেষ।

বিএনপির অপর একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া গত বছর গ্রেফতার হওয়ার পর মামলার বিষয়ে পরামর্শ নিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গিয়েছিলেন ড. কামালের কাছে। ওই সময় ড. কামাল হোসেন সম্মত হননি। এমনকি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে সাক্ষাৎও করতে যাননি তিনি। এ কারণে তাকে আমন্ত্রণ জানাতে এক ধরনের অনীহা থাকতে পারে বলে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের কেউ কেউ মনে করছেন। তবে শিগগিরই সবকিছু সমাধান হয়ে যাবে বলে মনে করেন নেতারা। তাদের অভিমত ১২ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির দিন আদালতে ড. কামাল হোসেনকে উপস্থিত রাখা হতে পারে।

মানবকণ্ঠ/আরবি





ads






Loading...