বর্তমান সংবিধানে প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চা করা যায় না: জিএম কাদের

বর্তমান সংবিধানে প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চা করা যায় না: জিএম কাদের
জিএম কাদের - সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:১৬

সংবিধানের কারণে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক চর্চা করতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদ গ্রহণ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে পারছি না।

শুক্রবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে সংবিধান সংরক্ষণ দিবস উপলক্ষে জাপা ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সরকার প্রধান সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু থাকেন। এ কারণে আমাদের দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ধারা অর্জিত হচ্ছে না। এ কারণে আগে পরে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন তাদের সবাইকে স্বৈরাচার বলা হয়েছে। কিন্তু সবাই মিলে দোষ দিয়েছেন শুধু একজনকে তিনি হচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এই অপবাদ দিয়েই এরশাদ ও জাতীয় পার্টির ওপর চরম অন্যায়-অবিচার করা হয়েছে।

জিএম কাদের বলেন, ১৯৯০ সালের আগে ও পরে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণ করেছে তাদের সবাইকেই স্বৈরাচার নামে অভিহিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সংসদীয় পদ্ধতির মূল স্পিরিট বা আসল ধারণা গ্রহণ করতে পারিনি। ৭০ ধারা অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা নিজেদের বিবেক বুদ্ধি বা বিবেচনার ওপরে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। দলের সঙ্গেই তাদের থাকতে হয়, দলের বাইরে তারা যেতে পারে না। সংসদকে সকল কর্মকাণ্ডের আসল কেন্দ্রবিন্দু করা আমাদের সংবিধান অ‌্যালাও করে না এবং সংসদের কাছে মন্ত্রীদের জবাবদিহিতা এটাও আমাদের সংবিধান অ‌্যালাও করে না। সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা মন্ত্রীদের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করতে পারে না।’

জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান বলেন, যদি সংবিধানের ৭০ ধারা উঠিয়ে দেয়া হয় এবং এমপিরা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারে তাহলে সরকারের স্থায়ীত্ব কমে যাবে, এতে প্রতি মাসেও সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কোন বিল পাস করতেও সমস্যা হবে সরকারের। এমন আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে আমরা পূর্ণ গণতন্ত্র চর্চার জন্য উপযুক্ত হতে পেরেছি কিনা তাও বিবেচনা করার সময় এসেছে।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি সংবিধান সংরক্ষণ করতে সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে আমরা আজীবন কাজ করে যাব। জাতীয় পার্টির বড় অর্জন অন্য কোন কায়দায় ক্ষমতায় থাকতে না চেয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সংবিধানকে সমুন্নত রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। অন্যায়-অবিচারের মধ্যেও জাতীয় পার্টি সংবিধান সমুন্নত রাখতে রাজনীতি করে যাচ্ছে। জাতীয় পার্টি কাজ করছে গণতন্ত্র বজায় রাখতে এবং গণতন্ত্র বিকশিত করতে।

জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সাল চিশতীর সভাপতিত্বে সভায় মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আহসান শাহজাদা, প্রচার সম্পাদক খোরশেদ আলম খুশু, রামপুরা থানা সভাপতি- কাজী আবুল খায়ের, জাপা নেতা জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, ছাত্রসমাজের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বক্তব্য রাখেন।

মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, দেশে বিশ্বজিৎ হত্যা হয়, আবরার হত্যা হয়। সারের জন্য কৃষককে হত্যা হতে হয়, এটাকে আমরা গণতন্ত্র বলতে পারি না। এরশাদকে যারা স্বৈরাচার বলেন, তাদের লজ্জা করা উচিৎ কারণ, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তাদের সবাইকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছে যেতে হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের ৮৯ ভাগ উন্নয়ন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে হয়েছে। জেলখানায় থেকে ৫টি করে আসনে নির্বাচিত হয়ে প্রমাণ করেছেন এরশাদ কতটা জনপ্রিয় ছিলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর সিকদার লোটন, সৈয়দ দিদার বখ্ত, নাজমা আখতার এমপি, উপদেষ্টা- নুরুল আজহার, যুগ্ম-মহাসচিব- শেখ আলমগীর হোসেন, আশরাফ সিদ্দিকী, আমির উদ্দিন ডালু, সুলতান আহমেদ সেলিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক ভূঁইয়া, জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, দফতর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, যুগ্ম দফতর এম এ রাজ্জাক, আনিস উর রহমান খোকন, শারমিন পারভীন লিজা, ডা সেলিমা খান, হাফেজ ক্বারী মো. ইসাহরুহল্লাহ আসিফ, রেজাউল করিম।

কেন্দ্রীয় নেতা মো. মোহিবুল্লাহ, নাজমুল খান, আবু তৈয়ব, তাসলিমা আকবর রুনা, জেসমিন নূর প্রিয়াংকা, মিনি খান, আব্দুস সাত্তার, মামুনুর রহমান, ফারুক শেঠ, সোলায়মান সামী, জিএম বাবু, জহিরুল ইসলাম মিন্টু, দ্বীন ইসলাম শেখ, ফারুক আহমেদ, মাহফুজ মোল্লাহ, হাজী সিরাজ, আনোয়ার হোসেন তোতা, নুরুল ইসলাম নুরু, আরিফুল ইসলাম রুবেল।

মানবকণ্ঠ/এআইএস





ads






Loading...