মামলা জালে আইনজীবীর কাছে স্ত্রী হারালেন বিএনপি নেতা

মামলা জালে স্ত্রী হারালেন বিএনপি নেতা
বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল - ফাইল ফটো

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:৩৪

পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে রাজনৈতিক সহকর্মী ব্যারিস্টার আতিকুর রহমানের বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এরপর সহকর্মীর স্ত্রীর সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ ফেলে তার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। প্রেমিকার বাড়ির লোকজনের অনুরোধেও সরে না গিয়ে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ায় এবার আতিকুর রহমানের মামলার ফাঁদে ধরা পড়েছেন কায়সার কামাল।

দুর্দিনের আশ্রয়দাতাকে চরমভাবে বিপদে ফেলা অনৈতিক ও প্রতারণার সামিল বলে অভিহিত করেছেন ব্যারিস্টার আতিকুর রহমান। এবিষয়ে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। মামলায় বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস পাঁচদিনের মধ্যে যে কোনো একদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক আওলাদ হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, মামলার বাদী ব্যারিস্টার আতিকুর রহমানের রাজনীতির সুবাদে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতাদের মাধ্যমে পরিচিত। খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে মামলায় আটকের কয়েকদিন আগে পুলিশ আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা করলে আসামি বাদীর বাসায় আশ্রয় চান। বাদী সরল বিশ্বাসে আশ্রয় দেন। সুযোগের অপব্যবহার করে এবং বাদীর স্ত্রীর সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ ফেলে আসামি বাদীর স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

গত সপ্তাহের দিন তিনেক আগে বাদী দেখতে পান যে, কলাবাগান থানাধীন সার্কুলার রোডে বাদীর স্ত্রী আসামির গাড়ি থেকে নামছে। এ বিষয়ে বাদীর শ্বশুর শ্বাশুড়িসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা আসামিকে বোঝানোর পরেও তিনি তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

গত ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৫টার দিকে বাদী আসামির গাড়ি ফলো করতে করতে কলাবাগান থানাধীন শেলটেক টাওয়ারের সামনে আসেন। বাদী দেখতে পান, তার স্ত্রী আসামির গাড়িতে উঠছে। অতঃপর বাদী আসামির গাড়ির দরজা টান দিয়ে মোহন নামের একজনসহ জনগণের সহযোগিতায় আসামিকে ধরেন। আসামি প্রতারণার মাধ্যমে বাদীর মান ও সুনামের ক্ষতি সাধন করেছেন।

আসামির এইরূপ কর্মে বাদীর স্ত্রী, সন্তানসহ সংসার ধংসের মুখে পড়েছে। দুর্দিনের আশ্রয়দাতাকে চরমভাবে প্রতারণার শিকার করেছে, যা অনৈতিক ও প্রতারণার সামিল।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির নাম-ঠিকানা যাচাইকরণের লক্ষ্যে, অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থণা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

রাষ্ট্রপক্ষে হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থণা করেন। তিনি বলেন, যাদের মাধ্যমে আইনী ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে, অথচ তারাই যদি এ ধরনের ন‌্যাক্কারজনক কাজ করেন। আসামি যে কাজ করেছেন মূর্খ মানুষেরও মানায় না। দায়িত্বশীল ব্যক্তি ন‌্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন। পুলিশ তার তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন। রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থণা করছি।

আসামিপক্ষে রুহুল কুদ্দুস, তালুকদার কাজল, গোলাম মোস্তফা খান, বোরহান উদ্দিন, মকবুল হোসেন প্রমুখ আইনজীবী রিমান্ড বাতিল পূর্বক জামিনের প্রার্থণা করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, পুলিশ রিমান্ড আবেদন করেছে নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই করার জন্য। কায়সার কামাল ঢাকা আইনজীবী সমিতি, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য। এখানে রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই। আসামি ও বাদী আমাদের বন্ধু। সবাই আইনজীবী, ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটা হয়েছে। তাদের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। সন্দেহের কারণে মামলা হয়েছে। পারিবারিকভাবে দুই দিনের মধ্যে মামলাটা আমরা শেষ করে ফেলব। মামলাটি জামিনযোগ্য ধারার। জামিন পাওয়ার অধিকার তার আছে। তাছাড়া আসামি অসুস্থ। যে কোনো শর্তে আমরা আসামির জামিনের প্রার্থণা করছি।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জেলগেটে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কায়সার কামালকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মানবকণ্ঠ/এআইএস





ads







Loading...