সম্মেলনে নেতা নির্বাচনে সতর্ক কেন্দ্র

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সাইফুল ইসলাম
  • ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:৩৭

চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন গত শনিবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ঘোষণা করা হয় নতুন কমিটি। দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দুই কমিটির জন্য নতুন চারজনকে। মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি স্বচ্ছতার সঙ্গেই সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। যদিও সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কমিটি দু-একটি পদ নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটির স্বচ্ছতাই কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আগামী সম্মেলনের জন্য ‘রের্ড অ্যালার্ট’ মনে করছেন দলটি সিনিয়র নেতারা।

সূত্রে জানা যায়, আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর মাসে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। সেই কাউন্সিলকে ঘিরে পদপ্রত্যাশী ও দলের শুভাকাক্সক্ষীদের মাঝে আলোচনা শুরু হয়েছে। চা দোকান কিংবা পান দোকানে কয়েকজন এক সঙ্গে হয়ে চলছে আলোচনা। আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল পদপ্রত্যাশীদের মাঝেও জল্পনা আর কল্পনার দিন গুনছে। তবে দলটির প্রধান রয়েছেন কঠোর অবস্থানে। খোঁজখবর নিচ্ছেন পদপ্রত্যাশীদের ব্যাপারে। কাউন্সিলের তারিখ ঠিক হওয়ার পর থেকে নরম সুরে কথা বলছেন পদপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতারা।

জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণার পর থেকে পদপ্রত্যাশীদের আচরণে কিছুটা নমনীতা দেখা দিয়েছে। অন্যান্য সময় তৃণমূলকে গুরুত্ব না দিলে এখন তাদের গুরুত্ব দিচ্ছে। পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রের চেয়ে তৃণমূলে বেশি সময় দিচ্ছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগকে গোছাতে ব্যস্ত রয়েছে।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও কৃষকলীগ এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগ ও আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব সংগঠনের দেয়া হয়েছে নতুন কমিটি। স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলনের মাধ্যমেও দেয়া হয়েছে নতুন কমিটি।

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি নিয়ে কিছুটা সমালোচনাও রয়েছে। তবে আলোচিত যুবলীগের কমিটি নিয়েও অনেকটাই স্বচ্ছতা দেখিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সহযোগীদের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। বাদ দেয়া হয়েছে পুরনোদের। দায়িত্ব দেয়া হয়েছে চারজন ত্যাগী, পারিশ্রমিক ও দক্ষ সংগঠকের হাতে। নতুন নেতৃত্বপ্রাপ্তদের স্বচ্ছ হিসেবে দেখছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। ঢাকা মহানগর-উত্তর শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এসএ মান্নান কচি দায়িত্ব পেয়েছেন।

অন্যদিকে মহানগর দক্ষিণ শাখায় সভাপতি আবু আহাম্মদ মান্নাফি ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির দায়িত্ব পেয়েছেন। শেখ বজলুর রহমান উত্তর শাখা আওয়ামী লীগের সদ্যবিদায়ী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং এসএম মান্নান কচি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আবু আহম্মদ মান্নাফি দক্ষিণ শাখার বিদায়ী কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি এবং হুমায়ুন কবির বিদায়ী কমিটির নির্বাহী সদস্য ছিলেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব আগামীতে আওয়ামী লীগের জন্য একটি সঙ্কট। এটাকে রের্ড অ্যালার্টও বলতে পারেন। যারা দুর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ, অনুপ্রবেশকারী এবং বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িত ছিল তাদের জন্যই নতুন স্বচ্ছতার অ্যালার্ট। আগামী সম্মেলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে একটি স্বচ্ছ কমিটি হবে- এমনটার আবাসও বলতে পারেন। সহযোগী সংগঠন ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের পুরনোদের বাদ দিয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেকদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ছিল তাদেরও দূরে রেখে নতুন কমিটি দেয়া হয়েছে। এর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয়। আগামী সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের একটি স্বচ্ছ কমিটি হতে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো অবিযোগ থাকলেই তাদের আগামী কমিটিতে রাখা হবে না। এ ছাড়া সাংগঠনিকভাবে যারা ব্যর্থ তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা-না রাখা নিয়ে হচ্ছে আলোচনা।

সূত্রে আরো জানা যায়, আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর। সে হিসাবে আগামী অক্টোবরের ২৩ তারিখে শেষ হচ্ছে ত্রিবার্ষিক কমিটির মেয়াদ। আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের আগে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সব জেলা ও উপজেলায় সম্মেলন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময় কমিটি নিয়ে বাণিজ্য হলেও এবার একটি অভিযোগও যেন না আসে সে ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা নির্দেশনা দিয়েছেন তৃণমূলে। কোনো বিতর্কিত নেতা যেন কমিটিতে স্থান না পায় এবং বিগত সময়ে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা সাংগঠনিক সম্পাদকদের কাছে নির্ভুলভাবে দেয়ার জন্যও তাগিদ দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার পছন্দেই পদ বণ্টন হয়। তিনি যাকে যে পদে মনোনয়ন দেবেন সব কাউন্সিলর তাকে মেনে নেবেন, এবারো তাই হবে। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দলের প্রধানের মাইন্ড সেটের ওপর সবাই ছেড়ে দেয়। তার নির্দেশনায় দল চলবে। প্রার্থী হওয়ার অধিকার সবার আছে, তবে নেত্রীর ইচ্ছার বাইরে কিছু হয় না। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। সবারই এমন পদ কাক্সিক্ষত। তিনি আস্থা রেখে দলের সাধারণ সম্পাদকের যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা পেয়ে তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। কারণ এ পদের ইচ্ছা সবার থাকে। এটা বিরাট সম্মানের বিষয়।

মানবকণ্ঠ/আরবি






ads