ইমেজ ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ: বয়স নির্ধারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • সাইফুল ইসলাম
  • ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০২:১৫

সম্প্রতি ক্যাসিনো, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে আলোচনায় উঠেছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ অঙ্গসংগঠন যুবলীগ। ক্যাসিনোকাণ্ড ঘটার পর যুবলীগের নামটি সারাদেশের মানুষের মুখে মুখে রয়েছে। অনেকে নেতিবাচক হিসেবেই দেখছেন এই সংগঠনটি। নেতিবাচক এই ধারা থেকে যুবলীগের ইমেজ ইতিবাচকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছেন দলের কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও সক্রিয় যুবলীগ নেতারা।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যুবলীগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার বিষয় নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী যুবলীগ সংগঠনকে নেতিবাচক ধারা থেকে বের করে ইতিবাচক ব্র্যান্ডে যুক্ত করতে চান। সে জন্য দলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা জানান, যুবলীগঢেলে সাজাতে এবার বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন দলটির হাইকমান্ড। আর অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বের প্রতিই হাইকমান্ড আস্থাশীল বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, যুবলীগের ইমেজ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সংগঠনটিকে আরো গতিশীল করার ব্যাপারে এবারের আসন্ন কেন্দ্রীয় সম্মেলনে বড় ধরনের চমক থাকছে। আর যুবলীগকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে তরুণ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নিয়ে আসার পাশাপাশি কোনো দুষ্কর্মকারীর ঠাঁই মিলবে না নতুন কমিটিতে। এছাড়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্য থেকেও শীর্ষপদে জায়গা পেতে পারেন।

আগামী ২৩ নভেম্বর সংগঠনটির সম্মেলনের দিনক্ষণ ঠিক করে দেয়ায় সবার দৃষ্টি এখন যুবলীগে। রাজনীতি পাড়ার মানুষদের সঙ্গে সাধারণ মানুষদেরও কৌত‚হলের শেষ নেই। সংগঠনটির এই ক্রান্তিকালে কারা আসছেন নেতৃত্বে? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরাসরি দলের প্রার্থিতা কেউ হতে চান না, সবাই আলোচনায় থাকতে চান। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী যাকে যোগ্য মনে করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করবেন সবাই মেনে নেবেন বলে একাধিক নেতা জানান।

গত অক্টোবর মাস থেকে দখল-চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি-অস্ত্রবাজি-ক্যাডারবাজি, ক্যাসিনোসহ অবৈধ পন্থায় অঢেল সম্পত্তি ও সরকারি দলের ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানে নামে সরকার। শুদ্ধি অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে যুবলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তরের প্রভাবশালী নেতাদের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে।

অভিযানে আটক হয়েছেন যুবলীগ নেতা জি কে শামীম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া প্রমুখ।

লাপাত্তা হয়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক। যারা প্রত্যেকেই গত দশ বছর ধরে যুবলীগের রাজনীতিতে ছিলেন নীতিনির্ধারক। আটক এবং গ্রেফতারকৃতদের অধিকাংশ যুবলীগের রাজনীতিতে ছিলেন অনুপ্রবেশকারী। এসব অপকর্মের মূলহোতা হিসেবে উঠে আসে যুবলীগের বিদায়ী চেয়ারম্যান ৭০ বছর বয়সী মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরীর নাম।

গত এক দশকে তার একক নির্দেশনা চলে আসছে সংগঠনটি। যুবলীগের ৭০ বছর বয়সী নেতার নেতৃত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে গত ২০ অক্টোবর যুবলীগের আগামী নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে ৫৫ বছর পর্যন্ত বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সূত্র মতে, ১৯৭৪ সালে প্রথম জাতীয় কংগ্রেসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই সময় তার বয়স ছিল মাত্র ৩২ বছর। তখন যুবলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৪০ বছরের একটি বয়সসীমার বিধান ছিল। তবে ১৯৭৮ সালে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির দ্বিতীয় জাতীয় কংগ্রেসে ওই বিধানটি বিলুপ্ত করা হয়।

এরপর যুবলীগের নেতৃত্ব আসা সকলের বয়স ৫০ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। একমাত্র মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরীই ৭০ বছর বয়সী হয়ে যুবলীগের দায়িত্বে ছিলেন। তাকে ঘিরে বিতর্কের কারণে যুবলীগের বয়স নির্ধারণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং সেখানে ৫৫ বছর পর্যন্ত করার বিষয়টি আলোচনায় সীমাবদ্ধ ছিল। তবে বয়সের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।

যুবলীগের সম্মেলনে কেমন নেতৃত্ব আসছে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নতুন সম্মেলন মানেই নতুন মুখ। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গ সংগঠনকে ঢেলে সাজানো হবে। অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এখানে পরিবর্তন হবে, নতুন মুখ আসবে।

এরই মধ্যে যুবলীগের শীর্ষ দুটি পদে আলোচনায় আছেন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ ও তার ভাই ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন, মো. ফারুক হোসেন ও ডা. মোখলেছুর রহমান হিরু।

তবে কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলামের নামও আলোচনায় রয়েছে। আর সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাংগঠনিক বদিউল আলম, অপর সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হাসান তুহিন, প্রচার সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু ও সহ-সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমেদ, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য এন আই আহমেদ সৈকত।

এদিকে জানা যায়, যুবলীগকে ঢেলে সাজানো এবং তরুণদের নেতৃত্বে আনার লক্ষ্যে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্য থেকে শীর্ষ পদে জায়গা পেতে পারেন এমন অনেকের নাম রয়েছে। বিশেষ করে ইসহাক আলী পান্না, বাহাদুর ব্যাপারি, অজয় কর খোকন, নজরুল ইসলাম বাবু, মাহমুদ হাসান রিপন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন মারুফের মধ্য থেকে যে কেউ যুবলীগের মূল নেতৃত্বে আসতে পারেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের বৈঠক হয়েছে। ওমর ফারুক চৌধুরীকে অব্যাহতির পর চয়ন ইসলামকে আহ্বায়ক করে কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে এ জটিলতা কেটেছে। সেইসঙ্গে যুবলীগে সম্পূর্ণ নতুন মেরুকরণ ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে।

 

মানবকণ্ঠ/এসআর





ads







Loading...