বিশেষ সাক্ষাৎকার

আওয়ামী লীগ প্রশ্নবিদ্ধ হলে দেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়: নৌ প্রতিমন্ত্রী

মানবকণ্ঠ
নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী - ছবি : প্রতিবেদক।

poisha bazar

  • ফরহাদ হোসেন
  • ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১০:০৩,  আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১০:১২

‘আওয়ামী লীগ প্রশ্নবিদ্ধ হলে বাংলাদেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা বারবার চেয়েছে আওয়ামী লীগ দুর্বল হয়ে যাক। কেননা আওয়ামী লীগ দুর্বল হলে দেশ দুর্বল হবে এবং তারা নিজেদের সব অপকর্ম চালিয়ে যেতে পারবে।’ কথাগুলো বলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। এই সম্মেলনকে ঘিরে চলছে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন। এসব আলোচনা ও গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে মানবকণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেন নৌ প্রতিমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগে চলা শুদ্ধি অভিযান নিয়ে বিএনপি ও আরো বেশকিছু স্থানে চলা সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনো আইওয়াশ করে না। এটা বিএনপি ও তাদের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির কাজ। আমাদের সবকিছু স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে। যারা অপরাধী তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং যাদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি, তাদেরও খুব দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

এ সময় দলে থাকা অপরাধীদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, হাতের পাঁচ আঙ্গুল কখনো সমান হয় না। আপনার পরিবারের সব ছেলেমেয়ে ভালো হবে না। বিপথে যাওয়ার শঙ্কা সবখানেই থাকে। কিন্তু তাদের সঠিক পথে নিয়ে আসারও ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা সেই ব্যবস্থাই গ্রহণ করেছি।

বিরোধী দলের প্রসঙ্গ টেনে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানের মতো দুর্নীতির চর্চা আমরা করি না। আসন্ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে চলা সমালোচনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তার বিরুদ্ধে চলা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেছে এবং করে যাচ্ছে, যার প্রত্যেকটির সঙ্গে জড়িত আছে বিএনপি। আমরা বিদেশি সহায়তা ছাড়াই পদ্মা সেতু করেছি। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আর দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন কিছু মানুষের তা সহ্য হচ্ছে না। এরা কখনো বাংলাদেশের ভালো চায় না। এরা চায় বাংলাদেশ অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকুক সব সময়।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের প্রসঙ্গে নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তিনি বলেছিলেন দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যায় না। তারা দেশকে এভাবেই বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করত যাতে কখনই বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে। কিন্তু আজ বাংলাদেশের নিজস্ব একটি অবস্থান রয়েছে। আমরা যেখানে যাচ্ছি সেই সম্মান পাচ্ছি। সম্প্রতি স্পেনের মালাগায় জেলেদের নিরাপত্তা বিষয়ে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রণালয় পর্যায়ে হওয়া এক সম্মেলনে অংশ নেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সেখানে হওয়া অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ সম্মেলনে বাংলাদেশের কথা বেশ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে। জেলেদের নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ব্যয়ে যে ধরনের জাহাজ ও মাছ ধরার ব্যবস্থাপনা তৈরি করার কথা আইএমও বলে আসছে তার সামর্থ্য এখনো আমাদের দেশের জেলেদের নেই। এটা শুধু আমাদের দেশ নয়, অধিকাংশ দেশের ক্ষেত্রেই সত্য। কিন্তু তারপরও এই সমঝোতা স্মারকে আমরা স্বাক্ষর করেছি। কেননা এ দেশের জেলেদের নিরাপত্তা, সমুদ্রে তাদের নিরাপদ মৎস্য আহরণের জন্য ব্যবস্থা নিতে চাই আমরা।

এ সময় মুজিব বর্ষকে কেন্দ্র করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় মুজিববর্ষে জাতীয় অনুষ্ঠান সূচি অনুসারে চলবে। বাড়তি অনেক কিছু করার সুযোগ নেই। মুজিব বর্ষ সব নৌবন্দরে মুক্তিযোদ্ধারা টোল ফ্রি সার্ভিস ব্যবহার করতে পারবে। এ বছর চারটি মেরিন একাডেমি চালু করতে চাই আমরা। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি স্তম্ভ তৈরি করবে। স্বাধীনতা পরবর্তী মাইন অপারেশনে এ খানে রাশিয়ান বেশকিছু সৈন্যও নিহত হন। সেই সাথে নৌকাবাইচ, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ করার বিষয়েও ভাবছি আমরা। তিনি আরো বলেন, এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর তার প্রথম জন্মদিনে ইন্দিরা গান্ধীকে আমন্ত্রণ জানান এবং ১৮ মার্চ খানপুর থেকে নৌবিহারে যান। আমরা সেই স্থানটি সংরক্ষণ করে একটি খোলা জাদুঘর করতে চাই। অবশ্য এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কেন্দ্রিক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কার্যক্রমের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যে বলি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এ দেশ হয়তো স্বাধীনতার ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই ভালো একটি অবস্থানে থাকত তার কিছু কারণ রয়েছে। তার মাত্র সাড়ে ৩ বছরের কাজ দেখলে বুঝবেন, বাংলাদেশকে ভালো একটি অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ভিত্তি কিন্তু বঙ্গবন্ধু তৈরি করে দিয়েছেন। তার মধ্যে মেরি টাইম অ্যাক্ট একটি। আমাদের নদী ও সমুদ্রের জলসীমাকে ব্যবহার করে কিভাবে অর্থনৈতিক উন্নতি করা সম্ভব তা তিনি বলে গেছেন। আজ সুনীল অর্থনীতির কথা বলা হচ্ছে, ১৯৭৪ সালেই বঙ্গবন্ধু এই সুনীল অর্থনীতির কথা বলেছেন। আজ ৪৮ বছর পর আমরা আবার সেই কথা বলছি। নদী বন্দরগুলো আবার নির্মাণ করেন। সেই সঙ্গে পাকিস্তানিরা বাংলাদেশ থেকে যেই মেরিন একাডেমি সরিয়ে নিয়ে যায় সেখানে স্বাধীনতার পরপর মেরিন একাডেমি স্থাপন করেন তিনি। আসলে তার দেখিয়ে যাওয়া পথে এখনো হাঁটছি আমরা। আর তাতেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

নৌ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু তৎকালীন সময় এ ধরনের অনেক আধুনিক চিন্তা করেন। আর সে কারণেই আজ অনেক কিছু হয়তো আমাদের কাছে নতুন মনে হচ্ছে, কিন্তু এ কাজের ভিত্তি তিনি তখনই স্থাপন করে গেছেন। তার সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads
ads





Loading...