স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদে আসছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা

স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদে আসছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা
স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদে আসছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা

poisha bazar

  • সাইফুল ইসলাম
  • ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৪৯,  আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৫৯

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন আগামী ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের দিন যতই এগিয়ে আসছে নেতাদের মধ্যে শুরু হয়েছে আনন্দ-উল্লাস, তোড়জোড় লবিং-তদবির। সন্ধ্যা হলেই শেখ হাসিনার ধানমণ্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভিড় জমান পদপ্রত্যাশীরা। আবার কেউ কেউ নেতাদের বাসায়ও ভিড় জমাচ্ছেন। আড্ডা দিচ্ছেন নেতাকর্মীকে নিয়ে। সম্মেলনের আগে অনেককে দেখা না গেলেও ঠিকই পদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তবে এবার ত্যাগীদের প্রাধান্য দেয়া হবে। বিতর্কিত কাউকেই আগামী সম্মেলনে জায়গা দেয়া হবে না এমনটাই মানবকণ্ঠকে জানান দলের সিনিয়র নেতারা। তবে পদপ্রত্যাশীরা তাদের ত্যাগী হিসেবে প্রমাণ করতে জাহির করছেন ‘এক-এগারো’ পরিস্থিতিকে। কেউ বলছেন নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে ছিলাম সক্রিয়। যদিও তাদের তখন মাঠে দেখতে পাননি অনেকেই।

জানা যায়, দীর্ঘ সাত বছর পর হতে যাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের জাতীয় সম্মেলন। আওয়ামী লীগের সহযোগী এই সংগঠনটির নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ক্যাসিনো ব্যবসা, দুর্নীতি, টেন্ডার ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জ?ড়িত কেউই এবার কোনো প?দ পাবেন না। যারা সৎ ও যোগ্য এবং রাজনীতিতে যাদের দীর্ঘ পথ-পরিক্রমা রয়েছে দলের হাই কমান্ড তাদেরই নেতৃত্বে নিয়ে আসবেন। এ ছাড়া ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের মধ্য থেকেও কাউকে বড় দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ ২০১২ সালে মোল্লা মো. আবু কাওসারকে সভাপতি এবং পঙ্কজ দেবনাথকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি হয়েছিল। মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও ওই কমিটি এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন ১৬ নভেম্বর ঠিক করা হয়। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথম অধিবেশন এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতো বলেন, এবার সম্মেলনের আগে বর্তমান সভাপতিসহ সংগঠনটির বেশ কয়েকজনের নামে ক্যাসিনোকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তারা আগামী সম্মেলনে কোনো দায়িত্ব পাবেন না। তবে এবার দলের প্রধানের মূল ফোকাস রয়েছে সাবেক ছাত্রলীগের ওপর। সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা আসতে পারেন।

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ দুই পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন অনেকে। বর্তমান সংগঠনের সহ-সভাপতি মতিউর রহমান মতি, নির্মল রঞ্জন গুহ, আফজাল বাবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেসবাউল হোসেন সাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপু সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল, সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, আব্দুল আলীম, দফতর সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ টুটুল, পল্লীউন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক আবুল ফজল রাজু, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ক কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন।

সংগঠনের শীর্ষ দুই পদ ছাড়া দীর্ঘদিন রাজনীতি করা ত্যাগীরা বিভিন্ন পদে আসতে আগ্রহী রয়েছেন। তাদের মধ্যে সহ-প্রচার সম্পাদক ওবায়দুল হক খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক নাফিউল করিম নাফা, সহ-গ্রন্থনা প্রকাশনা রফিকুল ইসলাম বিটু, সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল আজিজ, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মানিক ঘোষ দীর্ঘদিন সংগঠনের জন্য কাজ করছেন।

বর্তমান সংগঠনের সহ-সভাপতি মতিউর রহমান মতি মানবকণ্ঠকে বলেন, আমরা চাই একটা সুন্দর নেতৃত্ব। যারা সংগঠনকে সুসংগঠিত করে একটা জায়গা নিতে পারবেন। সেই নেতৃত্ব, যে নেতৃত্বের মাঝে চাঁদাবাজি কিংবা অন্য কোনো দুর্বৃত্তায়নের কোনো ছাপ নেই। যে নেতৃত্ব জননেত্রী শেখ হাসিনার যে কোনো কর্মসূচি ও দিকনির্দেশনাকে বাস্তবায়ন করবে। সৎ, নিষ্ঠাবান ও যোগ্য নেতৃত্ব চাই।

সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সাচ্চু বলেন, আমার বিশ্বাস দুঃসময়ে যারা দলের জন্য ত্যাগ করেছেন এবং যারা ক্লিন ইমেজ সম্পন্ন প্রধানমন্ত্রী তাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসবেন। কোনো অপরাধী, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজ যেন সংগঠনের নেতৃত্বে আসতে না পারেন সেটাই আমি চাই।

আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপু বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ আমার প্রাণের সংগঠন। সংগঠনটিকে আরো গতিশীল করতে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আমি মনে করি, এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রধান একজন ত্যাগী, ন্যায়পরায়ণ, গতিশীল ও ক্লিন ইমেজ সম্পন্ন কাউকে সংগঠনটির নেতৃত্বে নিয়ে আসবেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল বলেন, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ বাংলাদেশের মানুষের কাছে পরিচ্ছন্ন সংগঠন হিসেবে পরিচিত। রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলায় আমরা সেই আস্থা অর্জন করেছি এবং এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখব। আমি মনে করি, সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব এসে আমাদের এই পথচলাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সংগঠনের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা বলেন, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, দুঃসময়ের ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা সর্বোপরি নেত্রী এবং দলের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ নেতারা আগামীতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসবেন এমন আশাই করছি। দফতর সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ টুটুল বলেন, আমরা অবশ্যই মেধাবী, যোগ্যতাসম্পন্ন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জ্ঞান ও সাংগঠনিক দক্ষতাসম্পন্ন, নেতাকর্মীদের সাথে ভালো যোগাযোগ আছে, তৃণমূল পর্যায়ে আস্থা আছে এমন সৎ, নিষ্ঠাবান নেতা চাই।

পল্লীউন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক আবুল ফজল রাজু বলেন, আমরা দীর্ঘদিন রাজনীতি করে আসছি। ভবিষ্যতেও করব। নেত্রী আমাদের যেখানে দায়িত্ব দেবেন সেই দায়িত্ব যথার্থভাবে পালন করার চেষ্টা করব। আমি চাই আগামী সম্মেলনের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্বে আসবেন সৎ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বপরায়ণ ব্যক্তি। যাকে দিয়ে সংগঠনের সুনাম বৃদ্ধি পাবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মানবকণ্ঠকে বলেন, দীর্ঘদিন ধারাবাহিক রাজনীতির সাথে যারা জড়িত, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে যারা নিবেদিত, এ ধরনের আদর্শবান, ত্যাগী ও যারা ঐতিহ্যগতভাবে জাতির পিতার আদর্শে বিশ্বাসী এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাদের মাঝ থেকে আগামী কাউন্সিলে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হবে। তিনি আরো বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে কাউকে সংগঠনে জায়গা দেয়া হবে না। কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে স্থান পাবেন না।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads





Loading...