আগামীকাল জাতীয় সম্মেলন

এবার নজর শ্রমিক লীগে

এবার নজর শ্রমিক লীগে
লোগো - সংগৃহীত

poisha bazar

  • সাইফুল ইসলাম
  • ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৬:৫১,  আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:০০

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে চলছে শেষ মুহূর্তে লবিং-তদবির। পদপ্রত্যাশীরা ছুটছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অফিস-বাসাবাড়িতে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে বিকেলে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে করছেন শোডাউন। নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন নানা মাধ্যমে।  সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে একডজন নেতা মাঠে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

শ্রমিক লীগের বর্তমান সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ আবারো এ পদে থাকতে চান। আবার সভাপতি পদে আসতে চান বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ, বর্তমান কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, সহসভাপতি শাহজাহান খান, সরদার মোতাহের উদ্দিন, নূর কুতুব আলম মান্নান, আমিনুল হক ফারুক, মো. জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, মোল্লা আবুল কালাম আজাদ। এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদের দৌড়ে আছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন।

তাদের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, খান সিরাজুল ইসলাম, মু. শফর আলী, প্রচার সম্পাদক কেএম আযম খসরু, দফতর সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম, অর্থবিষয়ক সম্পাদক সুলতান আহমেদ, শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণবিষয়ক সম্পদক কাউসার আহমেদ পলাশ ক্রাফট ফেডারেশন বিষয়ক সম্পাদক এটিএম ফজলুল হক বেশ আলোচনায় রয়েছেন।

শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ ২০০৩ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৯৪ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৮৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি ১৯৯৬ থেকে এখন পর্যন্ত রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৫২ সালে জন্ম নেয়া হাবিবুর রহমান আকন্দর জন্মস্থান গাজীপুর। এ ছাড়া তিনি গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে দলীয় মনোনয়নও চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন শ্রমিক লীগের সঙ্গে আছি। দীর্ঘদিন মহানগরের নেতৃত্ব দিয়েছি। কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলন সামনে। আমি চাই অভিজ্ঞ ও যোগ্যরা নেতৃত্বে আসুক। তিনি ছাড়াও সংগঠনটির আলোচনা রয়েছেন। ১/১১ এর সময় শেখ হাসিনার কারা মুক্তি আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণসহ গোপনীয় মিটিং এবং শ্রমিক প্রতিনিধি হিসেবে সমস্ত শ্রমিক সংগঠনের নেতা হিসেবে বিবৃতি ও সংগঠিত করনে দায়িত্ব পালন করেছি।

সাধারণ সম্পাদক পদে আবদুল হালিম শাহজাহান, তিনি শ্রমিক লীগের যুব সংগঠন, জাতীয় যুব শ্রমিক লীগ এর কেন্দ্রীয় আহবায়ক ও আগ্রণী ব্যাংক লিঃ সিবিএ কেন্দ্রীয় যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। তিনি প্রায় ২০ বছর যাবত শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমি জাতীয় ভলিবল খেলোয়াড় ছিলাম। বর্তমানের ভলিবল ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং খেলোয়াড় সিলেকশন কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। রাজনীতিতে আমি ১৯৮৫ সাল থেকে সক্রিয়। ১৯৮৫ সালে খুলনার বিদ্যুৎ সরবরাহের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। ১৯৯২ সালের জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৪ সালে সাধারণ সম্পাদক ও ২০১০ সালে একই সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। ২০১২ সালে জাতীয় শ্রমিক লীগের সহসভাপতি হিসেবে এখনো দায়িত্ব পালন করছি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মোল্লা বলেন, ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আমি। তৎকালীন ২৬নং ওয়ার্ড বর্তমান ২০নং ওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং পল্টন থানার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। এখন মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। নেত্রীর কর্মী হিসেবে আছি। তিনি যে পদে দেবেন সেখানেই কাজ করতে চাই।

সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৯ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠা লাভ করে জাতীয় শ্রমিক লীগ। ২০১২ সালের সর্বশেষ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতা শুকুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন জনতা ব্যাংক ট্রেড ইউনিয়নের নেতা সিরাজুল ইসলাম। এই সময় ৪৫টি সাংগঠনিক জেলার কমিটি করা হয়েছে।

আগামীকাল ৯ নভেম্বর শনিবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম এ সংগঠনে। প্রায় সাত বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সম্মেলনে নতুন কমিটিতে স্থান পেতে বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। প্রতিদিনই সংগঠনটির বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানমণ্ডির সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থাকছে নেতাকর্মীর পদচারণায় মুখর। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা আসতে পারেন সে বিষয়ে তৃণমূলে চলছে বিস্তর আলোচনা।

তারুণ্যনির্ভর, ত্যাগী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব চাচ্ছে দলের হাইকমান্ড। ফলে শ্রমিক লীগের শীর্ষ পদসহ আগামী কমিটি থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছেন বয়সের ভারে ন্যুজ নেতারা। সেই সঙ্গে টেন্ডার ও চাঁদাবাজি এবং ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত নেতাদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি অন্য দল থেকে এসে সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করে যারা বড় পদ বাগিয়ে নিয়েছেন- এমন বিতর্কিত নেতাদেরও জায়গা হবে না শ্রমিক লীগের নতুন কমিটিতে।

মানবকণ্ঠ/আরবি




Loading...
ads





Loading...