খালেদা জিয়া আগের চেয়ে সুস্থ: তথ্যমন্ত্রী

খালেদা জিয়া আগের চেয়ে সুস্থ: তথ্যমন্ত্রী
খালেদা জিয়া আগের চেয়ে সুস্থ: তথ্যমন্ত্রী - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৪০

খালেদা জিয়া আগের চেয়ে সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

শনিবার চট্টগ্রামে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ দাবি করেন।

চিকিৎসকদের কথা উল্লেখ করে তথ‌্যমন্ত্রী বলেন, গতকাল তার সাথে আত্মীয়-স্বজনরা দেখা করে যে কথাগুলো বলেছেন, সেগুলো কোনো নতুন সমস্যা নয়। তাকে (খালেদা জিয়া) ডাক্তার দেখতে যান না বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। তাকে নিয়মিত চেকাপের মধ্যে রাখা হয়েছে। সিনিয়র ডাক্তাররাও দুই-একদিন পর পর দেখতে যাচ্ছেন। তার স্বাস্থ্য স্বাভাবিক রয়েছে।

খালেদার জামিনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার কথা বলা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে তাকে তো জামিন পেতে হবে। জামিন পাওয়ার পর তিনি বিদেশে যেতে পারবেন কি না, সেজন্য আদালতের অনুমতি লাগবে। তিনি জামিন পাবেন কি না, সেটি সরকারের বিষয় নয়, আদালতের বিষয়। আদালত যদি তাকে জামিন ও অনুমতি দেন তাহলেই বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আসবে। এ বিষয়ে পূর্ণ এখতিয়ার আদালতের।

খালেদা জিয়াকে দেশের সেরা হাসপাতালে রাখা হয়েছে, দাবি করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মেডিক‌্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল দেশের মেডিক‌্যাল শিক্ষায় সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। দেশের সমস্ত প্রতিথযশা ডাক্তার এই মেডিক‌্যালের সাথে সংযুক্ত। এখানে কোয়ালিটি চিকিৎসা দেয়া হয়। আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন, তখন তিনি সেখানেই ছিলেন। তাকে দেখতে যখন সিঙ্গাপুর ও ভারত থেকে ডাক্তাররা এসেছিলেন, তখন সেখানেই এসেছিলেন। তখন তারা বলেছেন, তাকে সিঙ্গাপুর ও ভারতে নিয়ে যে চিকিৎসা দেয়া হতো, এখানেও ঠিক তাই দেয়া হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, এখানে ভালো চিকিৎসা হয়। সুতরাং চিকিৎসা হচ্ছে না হচ্ছে না বলে বিএনপি নেতাদের এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই। গতকালও রিজভী আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে যেসব কথা বলেছেন, তার সাথে খালেদা জিয়ার আত্মীয়-স্বজনদের কথায় কোনো তফাত নেই। এগুলো বলেই বিএনপি নেতারা তার জন্য সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন।

সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় আন্তরিক, উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যেহেতু তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তাই সরকার তার সুচিকিৎসার জন্য অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি যাতে ভালো চিকিৎসা পান, সেজন্যই তাকে বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আরো অনেক হাসপাতাল ছিল, সেখানে না রেখে দেশের সেরা হাসপাতালে রাখা হয়েছে। সেখানে যদি চিকিৎসাই না হয়, তাহলে যখন তাকে কারাগারে ফেরত নিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ আসে, তখন বিএনপি নেতারা কোনো কথা বলেননি কেন, সেটিই আমার প্রশ্ন।

সরকারের পক্ষ থেকে জামিন দেয়ার সুযোগ নেই, জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে জামিন কীভাবে করবে। তাহলে কি সরকার দুর্নীতির দায়ে শাস্তিপ্রাপ্ত অপরাধীকে সহায়তা করবে? সেটা কীভাবে হয়? এক্ষেত্রে সরকার দুর্নীতির সাথে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি নেতারা একবার বলেন, আন্দোলন করে খালেদাকে মুক্ত করবেন, আবার কেউ কেউ বলেন, তার জামিনের বিষয়ে সহায়তা করা হোক। আসলে তাদের সবার বক্তব্যই স্ববিরোধী।

চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনিয়ম- দুর্নীতির মূলোৎপাটনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। কয়েকজন এমপির বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে। যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন, তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলা সমীচীন নয়।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads





Loading...