ভেঙ্গে যেতে পারে যুবলীগের দুই মহানগরের কমিটি!

যুবলীগের লোগো
যুবলীগের লোগো - ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:১৯,  আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:০৪

নানা বিতর্কের মধ্যে এবার গুঞ্জন উঠেছে যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি ভেঙে দেয়া হতে পারে।সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন মাধ্যমে এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ বলছেন, কমিটি ভেঙে দেয়া হচ্ছে, আবার কেউ বলছেন দুই একজন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে কমিটি ভাঙার মতো কিছু ঘটেনি। বৃহস্পতিবার এ ধরনের নানা আলোচনা চাউর ছিল যুবলীগসহ আওয়ামী ঘরানার রাজনৈতিক অঙ্গনে। যদিও দলীয় পর্যায় থেকে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি।

চার বছর আগে এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, নতুন কমিটির গঠনের নির্দেশ থাকলেও অদৃশ্য কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি।

রাজধানীর ৬০টি স্পটে এমন অবৈধ ক্যাসিনো (জুয়ার আসর) ব্যবসা চলছে। কেন্দ্রীয় ও মহানগর উত্তর-দক্ষিণ যুবলীগের একশ্রেণির নেতা এ ব্যবসায় জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

গণমাধ্যমের খবর, ইতিমধ্যেই জুয়ার আড্ডাগুলো সম্পর্কে সম্প্রতি প্রমাণসহ গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দেয়া হয়েছে। এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, সম্প্রতি কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে শেখ হাসিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন- আমার কাছে আরও তথ্য আছে রাজধানীর সব সুউচ্চ ভবনের ছাদ দখল নিয়েছে যুবলীগের নেতারা। সেখানে ক্যাসিনো খোলা হয়েছে। যুবলীগের সবার আমলনামা আমার হাতে এসেছে। আমি সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে দিয়েছি।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় যুবলীগ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী বলেন- যুবলীগের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা (ঢাকা মহানগর যুবলীগের একটি অংশের সভাপতি) ক্রসফায়ার থেকে বেঁচে গেছেন। আরেকজন এখন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। সদলবলে অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন। এসব বন্ধ করতে হবে। যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে বের হয়নি, অস্ত্র উঁচিয়ে প্রতিবাদ করেনি। যখন দলের দুঃসময় ছিল, তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে দলের পক্ষে অবস্থান নেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টানা তিন বার সরকারে আছি। অনেকের অনেক কিছু হয়েছে। কিন্তু আমার সেই দুর্দিনের কর্মীদের অবস্থা একই আছে। যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেণ, তারা সাবধান হয়ে যান- এসব বন্ধ করুন। অস্ত্রবাজ-চাঁদাবাজদের হুশিয়ার করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেণ, তারা সাবধান হয়ে যান- এসব বন্ধ করুন। তা না হলে যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরকেও দমন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এমন কঠোর অবস্থানের পরই বুধবার র‌্যাব রাজধানীর ফকিরেরপুলে ইয়ংমেনস ক্লাব নামে একটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায়। সেখানে নারীসহ ১৪২ জনকে আটক করা হয়। ক্লাবের ভেতর থেকে নগদ ২৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিতর্কিত নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে ধরতে তার গুলশানের ওই বাড়িতে ঘেরাও করে র‌্যাব। পরে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তাকে অস্ত্রসহ আটক করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

খালেদ ভূঁইয়া বেড়ে উঠেছেন রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে। তিনি রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরেরপুল এলাকায় কমপক্ষে ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি ক্লাব নিজের লোকজন দিয়ে আর ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ক্লাবটি তিনি সরাসরি পরিচালনা করেন। এসব ক্লাবে প্রতিদিন ১০টা থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত চলে জুয়ার আসর। একই সঙ্গে চলে মাদক ব্যবসা।

জানা গেছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আটদিনের সরকারি সফরে শুক্রবার বিকেলে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

যুবলীগ চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে, বৃহস্পতিবার রাতে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাবেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুবলীগ নিয়ে দলীয় প্রধানের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান। সার্বিক বিতর্ক এড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযুক্ত মহানগরের দুই কমিটি ভেঙে যেতে পারে। এরিমধ‌্যে অবৈধভাবে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া। সংগঠনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে আলোচনা ছিলো বুধবার সারাদিন। এই গুঞ্জনে সারারাত নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজের কাকরাইল অফিসে ছিলেন সম্রাট। এরই মধ্যে বিভিন্ন সূত্র বলছে, যে কোনো সময়ে আসতে পারে কমিটি ভাঙার খবর।

ঠিক একবছর আগে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে গণভবনে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে গেলে মহানগর যুবলীগ নিয়ে নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছিলের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এখানে বেওয়ারিশ লাশ দাফন হয়। এখানে আমি ও শেখ রেহানাও সাহায্য করি। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা দাবি করা ও চাঁদা না দেওয়ায় ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া, এটা আমি সহ্য করবো না।’

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় প্রায় ছয় বছর আগে। সংগঠনটির তিন বছর মেয়াদি সর্বশেষ কমিটি হয় ২০১২ সালের ১৪ জুলাই। আওয়ামী লীগের ২০১৬ সালের সম্মেলনের আগে অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি গঠন করা হলেও যুবলীগের সম্মেলন বা কমিটি হয়নি। মূলত শীর্ষ নেতাদের অনীহার কারণেই সম্মেলন হচ্ছে না বলে অভিযোগ আছে দলের মধ্যে।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads





Loading...