নেত্রী জেলে, আমি ফুল নেই না : ফখরুল


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১০ জুলাই ২০১৯, ২০:৩২,  আপডেট: ১০ জুলাই ২০১৯, ২০:৩৫

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই ফুল নেয়া বাদ দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এই কথা জানান। তিনি বলেন, আমি ফুল নেই না। আমাদের নেত্রী জেলে আছেন। তিনি জেলে যাওয়ার পর থেকে আমি ফুল নেই না।

প্রয়াত রাজনীতিবিদ মশিয়ুর রহমান জাদু মিয়ার ৯৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সবার শেষে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়। চেয়ার থেকে উঠে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডায়াসে যান তিনি। এ সময় আয়োজক সংগঠন মশিয়ুর রহমান জাদু স্মৃতি জাতীয় কমিটির কয়েকজন ফুল দিতে গেলে ফুল না নিয়ে উল্লিখিত কথাগুলো বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

খালেদা জিয়ার পরামর্শে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এ দাবি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা ২০ দল গঠন করেছি তার সিদ্ধান্তে, ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছি তার পরামর্শ নিয়ে, আমরা নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি তারই পরামর্শ নিয়ে। আমরা এখনো মনে করি, বাংলাদেশে এখনো যদি জনগণের নেতা থাকেন, তিনি খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, তাকে আজকে আটকে রেখেছে কেন? সে সময়ে তিনি বাইরে থাকলে বানের স্রোতের মতো সব ভেসে যাবে। আজকেও তাকে বের করছে না এজন্য যে, তিনি যদি আজকে মুক্ত হন, তাহলে এদের অস্বিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে।

হতাশ না হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে বলেন, দুই-একজন বেরিয়ে গেলে হতাশ হবেন না। এরকম দুই-একজন যাবে আসবে। আমরা যদি মানুষকে মুক্তি দিতে চাই তাহলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছে কেন? ঠিক সেই সময়টাতে আটকেছে যখন নির্বাচন এসে গেছে। কারণ, তিনি বাইরে থাকলে সব মানুষ স্রোতের মতো তাঁর পক্ষে থাকবে। তাঁকে আটকে রেখেছে এখনও এই জন্য যে, তিনি যদি এখন মুক্ত হন তাহলে তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে। যেখানে জামিন পাওয়াটা তাঁর আইনগত প্রাপ্যতা, সেই জমিনটা তারা দিচ্ছে না। কারণ, তারা জানেন তিনি জামিন পেলে তাদের অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মানুষকে হতাশ হতে দিবেন না। হতাশার কথা বলবেন না। আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে ভালোবাসি, দেশকে এগিয়ে নিতে নিয়ে যেতে চাই, মানুষের মুক্তি দেখতে চাই তাহলে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বিএনপিকে রিকশাচালকদের নিকট থেকে আন্দোলন শেখার পরামর্শ দিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আর কতকাল আপনারা ঘুমিয়ে থাকবেন, রিকশাচালকদের আন্দোলন, কোটা সংস্কারকারীদের আন্দোলন- এসব দেখেও আজকে আমরা শিখছি না। কারণ আমাদের রাজনীতি আজ বিশেষ কিছু মানুষের কাছে বন্দি হয়ে গেছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডিআইজি মিজান, ওসি মোয়াজ্জেম প্রথম দিন থেকে ডিভিশন পান, অথচ ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন ১৫ দিন কারাগারে মাটিতে শুয়ে ছিলেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ বক্তা ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads




Loading...