বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বাংলাদেশের যতো ম্যাচ-শিরোনাম



  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৯ মে ২০১৯, ২০:৫৪

ক্রিকেটের আজন্ম শত্রু বৃষ্টির সাথে আবারো পেরে উঠেনি। তাইতো ভেসে গেছে তিন জাতি আসরের বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ডের তৃতীয় ম্যাচ।  বৃষ্টির কারণে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনের মালাহাইডে একটি বলও মাঠে গড়াতে পারেনি। এমনকি টসও করা সম্ভব হয়নি।  এর ফলে দুই দলই পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিল।  এতে করে ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশেরই। প্রতিপক্ষ বিবেচনায় খেলা হলে বাংলাদেশেরই জয়ী হওয়ার কথা। বিপরীতে আয়ারল্যান্ডের ভাগ্য ভালো।  বৃষ্টির কারণে তারা দুই পয়েন্ট মওকা পেয়ে গেলো। বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচে ১৩ মে সোমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

আয়ারল্যান্ডে কনকনে ঠাণ্ডা।  এর মাঝে আবার যোগ হয়েছে বৃষ্টি। কন্ডিশন বলা যায় পুরোটাই বাংলাদেশ দলের বিপরীতে। তারপরও এমন আহাওয়ার মাঝে প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়েছিল ৮ উইকেটে। দেখার বিষয় ছিল দ্বিতীয় ম্যাচে আইরিশদের বিপক্ষে কি করে? কিন্তু তা আর দেখানোর সুযোগ পাননি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।  তার আগেই সব কিছু ভেসে গেছে বৃষ্টির জলে।

বৃষ্টির উত্পাত ছিল আগের দিন থেকেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পর বাংলাদেশ দল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন অনুশীলনই করতে পারেনি। সেই বৃষ্টির উত্পাত ছিল কাল ম্যাচের দিনও। তবে ভারী বৃষ্টি কখনো হয়নি। যে কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা গা গরম করার জন্য মাঠে নেমে ফুটবলও খেলেন।

স্থানীয় সময় সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হতে থাকে। যে কারণে সময় মতো টসও করা সম্ভব হয়নি। ম্যাচ শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগে বৃষ্টি কমে গেলে সেন্টার উইকেটের কভার তুলা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সে সময় আবার বৃষ্টি নামা শুরু হলে পরে আবার কভার দিয়ে ডেকে দেয়া হয় উইকেট। যে কভার পর তুলাই সম্ভব হয়নি। কারণ বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির গতিও বাড়তে থাকে। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ১২ মিনিটে আম্পায়ারার খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের পরিত্যক্ত হওয়া দ্বিতীয় ম্যাচ। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিকে সামনে রেখে নিউজিল্যান্ডের অংশ গ্রহণে তিন জাতির আসরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছিল। তবে এবারের মতো টস ছাড়াই নয়। সেবার টস হওয়ার পর বাংলাদেশ টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৩১.১ ওভার খেলে ৪ উইকেটে ১৫৭ রান করার পর বৃষ্টি শুরু হলে পরে আর খেলাই শুরু করা সম্ভব হয়নি। ৭০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ব্যাটিং বিপর্যয়েই পড়েছিল। পরে পঞ্চম উইকেট জুটিতে তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ জুটি বেঁধে পরে আর কোন উইকেটই পড়তে দেননি। জুটিতে তারা ৮৭ রান যোগ করেছিলেন। তামিম ইকবাল ৬৪ ও মাহমুদউল্লাহ ৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।

বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে এখন পর্যন্ত খেলা ৩৫৯ ম্যাচে এটি ছিল সপ্তম ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার ঘটনা। পরিত্যক্ত হওয়া বাকি ৫ ম্যাচের সর্বশেষটি ছিল ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এই পরিত্যক্ত হওয়ার ম্যাচটি আবার বাংলাদেশের ভাগ্য সেমিতে যেতে ভাগ্য সুপ্রসন্ন করেঝিল। আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ মাত্র ১৮২ রানে অলআউট হয়েছিল। পরে অস্ট্রেলিয়া ব্যাট করতে নামার পর ১৬ ওভারে ১ উইকেটে ৮৩ রান করার পর বৃষ্টির কারণে পরে আর খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। নিশ্চিত হারা ম্যাচ থেকে এই এক পয়েন্ট পেয়ে বাংলাদেশ পরে নিউজিল্যন্ডকে হারিয়ে গ্রপ পর্ব থেকে দ্বিতীয় দল হিসাবে সেমিতে নাম লিখিয়েছিল।

২০১৭ সালে একইভাবে ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কার কাছে ম্যাচে বাংলাদেশ নাজুক পরিস্থিতি পড়ে বৃষ্টির করে বেঁচে গিয়েছিল। আগে ব্যাট করে স্বাগতিকরা ৩১১ রান করেছিল। পাহাড় সমান এই রান বাংলাদেশ চপাতে পারতো কি না সন্দেহ ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে খেলাই শুরু করা সম্ভব হয়নি। এই বৃষ্টি আবার ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশেন জেতা ম্যাচ কেড়ে নিয়েছিল। ২০১৪ সালে মিরপুরে ভারত আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১১৯ রান করেছিল। পরে সেই অবস্থায়ই ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল। খেলা হলে বাংলাদেশের ম্যাচ জেতা ছিল শুধুই সময়ের ব্যাপার। ২০১৩ সালে হাম্বানটোটায়র শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছিল ৫ ওভার খেলা হওয়ার পর। এ সময় স্বাগতিকরা ৫ ওভারে বিনা উইকেটে ৩৩ রান করেছিল।

২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও বাংলাদেশের একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল। বেনোনিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৪৪ রান করেছিল। জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ ৮.১ ওভারে ২ উইকেটে ৩২ রান করার পর শুরু হয় বৃষ্টি। যে বৃষ্টিতে পরে আর খেলাই শুরু করা সম্ভব হয়নি। এই বিশ্বকাপ ছিল বাংলাদেশের জন্য দুঃখের আসর। হেরেছিল কানাডার কাছেও।

২০০২ সালে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশেনর ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছিল অনেকটা অর্ধেকেরও বেশি খেলা হওয়ার পর। আগে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছিল ৭ উইকেটে ২৭৫। জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। ১৭ ওভারে ৪ উইকেটে ৯০ রান করতে পেরেছিল। তারপর বৃষ্টির আগমন। অতপর খেলা পরিত্যক্ত। বৃষ্টি এভাবেই বাংলাদেশকে কখনো উত্সবে মাতিয়েছে, কখনো দুঃখে ভাসিয়েছে। আবার কখনো আফসোসে পরিণত হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ



Loading...


Loading...