গবেষণাগারে তৈরি হলো মটরদানার সমান মস্তিষ্ক


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ৩১ আগস্ট ২০১৯, ১২:০৬

মস্তিষ্ক নিয়ে দুনিয়াজোড়া গবেষণা চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার গবেষকেরা মটরদানার সমান মস্তিষ্ক তৈরি করেছেন। আবিষ্কৃত মস্তিষ্কটি দেখতে পেনসিলের মাথায় থাকা রবারের মতো। গবেষকদের ধারণা, এই মস্তিষ্ক আবিষ্কার অনেক জটিল রোগ এবং তার চিকিৎসা পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

গবেষকেরা ওই মস্তিষ্ক থেকে বৈদ্যুতিক কার্যক্রম শনাক্ত করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন। এতে মস্তিষ্ক কিভাবে বিকশিত হয় সেই মৌলিক প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে গেল। এছাড়া খুলে গেছে স্নায়বিক অবস্থার মডেল তৈরির পথ। তবে ওই মস্তিষ্ক সচেতন কিনা তা স্পষ্ট নয়।

গবেষক মুয়োত্রি ও তাঁর সহকর্মীরা গবেষণা সংক্রান্ত নিবন্ধ ‘সেল প্রেস’ সাময়িকীতে প্রকাশ করেছেন।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালফোর্নিয়া সান ডিয়েগোর জীববিজ্ঞানী অ্যালিসন মুয়োত্রি ও তার সহকর্মীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, স্টেম সেল জন্মানোর উন্নত পদ্ধতি বের করতে গিয়ে এ সাফল্য পেয়েছেন তাঁরা। মায়ের পেটে থাকা শিশুর মস্তিষ্ক যেভাবে বিকশিত হয় তারা মস্তিষ্কের নিউরনকে বিকশিত হওয়ার পর্যাপ্ত সময় দেন। দুই মাসের মাথায় তখন তাঁরা মস্তিষ্ক তরঙ্গ সংকেত পেতে শুরু করেন। এ তরঙ্গ বিরল এবং একই ফ্রিকোয়েন্সির যা অপরিণত মানব মস্তিষ্ক থেকে আসে। তবে মস্তিষ্ক বেড়ে ওঠার সময় দিয়ে তারা ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সি পেতে শুরু করেন। এ সংকেত ছিল নিয়মিত যা নিউরাল নেটওয়ার্কের উন্নতির দিক নির্দেশ করে।

গবেষকেরা আরও বলছেন, এ মস্তিষ্কের সচেতনতা নিয়ে এখন তারা সন্দিহান। সচেতনতা শনাক্ত করার কোনো সিস্টেম এখন তাদের হাতে নেই। তবে এ মস্তিষ্ক যদি মানুষের মস্তিষ্কের ধারেকাছে চলে যায় তবে নানা নৈতিকতার প্রশ্ন উঠতে শুরু করবে বলেই মনে করছেন তাঁর। এ ক্ষেত্রটি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও তখন সামনে চলে আসবে।

মস্তিষ্ক গবেষণার একটা বড় সীমাবদ্ধতা হলো, মানুষের খুলি খুলে দিনের পর দিন সেখানে কী হচ্ছে, সেটা দেখার সুযোগ নেই। তাই এমন গবেষণার জন্য পরীক্ষাগারে মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ঘটানো আবশ্যক। তাছাড়া মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ আছে। মানুষ যখন ভ্রূণ থেকে বড় হতে থাকে, তখন আমাদের মস্তিষ্কও ধীরে ধীরে বড় হয়, পরিপক্ব হয় এবং পূর্ণতা পায়। মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে জটিল যোগাযোগ (নেটওয়ার্ক) তৈরি হয়। তাই এটা গঠনের প্রক্রিয়া সঠিকভাবে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মস্তিষ্ক মানবদেহের যাবতীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষ যে হাসে, কথা বলে, কাঁদে, ব্যথা বা কষ্ট পায়, ঘুমায়— এসবের নেপথ্যে মস্তিষ্কের ভূমিকা থাকে। একটা বহুতল ভবনের বৈদ্যুতিক সিস্টেমের যেমন একটি নির্দিষ্ট সুইচবোর্ড থাকে, মস্তিষ্ক বা মগজটাও সে রকম। আমাদের সব রকমের সাড়া কিংবা অনুভূতির অন-অফ সুইচগুলোর স্থান মগজেই।

মানবদেহের অন্যান্য অংশ নিয়ে বিজ্ঞানীরা যতটা গভীরভাবে জানে, মস্তিষ্ক নিয়ে ততটা এখনো জানে না। এটা শরীরের খুবই জটিল অংশ। মস্তিষ্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষকেরা উঠেপড়ে লেগেছেন পাঁচ-সাত দশক আগে থেকে। তাঁদের স্বপ্ন— এই মস্তিষ্ককে সঠিকভাবে বুঝতে পারবেন, এর সব ক্রিয়া-কৌশল উদ্ঘাটন করবেন। তাহলে মানবদেহ চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে আরও দ্রুত। শুধু তা-ই নয়, মানুষের মগজকে সঠিকভাবে বুঝতে পারলে মস্তিষ্কজনিত বহু সমস্যা ও রোগের সমাধান করা যাবে সহজেই।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads




Loading...