বিমানের চেয়েও দ্রুতগতির হাইপারলুপ ট্রেন



  • মানবকণ্ঠ ডেস্ক
  • ২৮ আগস্ট ২০১৯, ১৪:১৩

দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে মানুষ একের পর এক যান তৈরি করে চলেছে। এবার হাইপারলুপ রেল নেটওয়ার্ক নিমেষের মধ্যে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে ও প্রায় নীরবে পরিবহনের ক্ষেত্রে বিপ্লব আনতে পারে। খবর- ডয়চে ভেলে

কোলন শহরের প্রধান স্টেশন থেকে প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখ মানুষ যাত্রা শুরু করে। ডিডাবিøইউ রিপোর্টার কনার ডিলন দ্রুতগতিসম্পন্ন ট্রেনের সুবিধা সম্পর্কে বলেন, ‘জার্মানির কোনো দ্রুতগতির ট্রেনে যাত্রার থেকে প্রায় আর কিছুই বেশি ভালো হতে পারে না। এই সব ট্রেন ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতিতে ছুটতে পারে। কিন্তু আরো নীরবে, আরো দ্রুতগতিতে ছুটতে পারলে কেমন হতো?’ হাইপারলুপ ট্রেন চুম্বকের ওপর ছুটবে। তখন কয়েক মিনিটের মধ্যে ইউরোপের সব শহরে পৌঁছে যাওয়া যাবে। নেদারল্যান্ডসের ডেফট প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাইপারলুপ বিভাগ এমন স্বপ্নই দেখছে। কিন্তু পুরনো এই বিশ্ববিদ্যালয় ভবনে কি সত্যি ইউরোপের ভবিষ্যতের পরিবহন নেটওয়ার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে?

২৪ বছর বয়সী রিনেকে ফান নর্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ইউরোপীয় হাইপারলুপ নেটওয়ার্কের রূপরেখা তুলে ধরলেন। তিনি বলেন, ‘হাইপারলুপের কল্যাণে ইউরোপে আর কোনো সীমানা টের পাওয়া যাবে না। কোনো এক স্টেশনে গিয়ে হাইপারলুপে চড়ে বসলে সামান্য সময়ের মধ্যে ইউরোপের যে কোনো প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে ট্রেনে কয়েক ঘণ্টা, অথবা বিমানে চড়ে যাতায়াত করতে হয়। বিমান দ্রুত হলেও তাতে প্রবেশ করতেই অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করতে হয়। তাতে কোনো স্বাচ্ছন্দ্য নেই।’

কিন্তু এটা কি নিছক অলীক স্বপ্ন? নাকি কোনো এক সময়ে ঘণ্টায় ১,২০০ কিলোমিটার গতিতে মানুষ সত্যি যাতায়াত করতে পারবে? ডেভেলপার টিমের প্রধান হিসেবে টিম ফ্লেসহুয়ার বিষয়টি বুঝিয়ে বললেন। তার মতে, ‘হাইপারলুপকে আমরা পরিবহনের পঞ্চম যান হিসেবে বর্ণনা করি। এ হলো পরিবহনের ভবিষ্যৎ। এটি অনেকটা ট্রেনের মতো, যা পাইপের মধ্যে ভরা থাকে। নল থেকে বাতাস বের করে নিয়ে প্রায় ভ্যাকুয়াম সৃষ্টি করা হয়। ফলে বাতাসের ধাক্কা প্রায় আর থাকে না। তাছাড়া ট্রেন চুম্বকের ওপর ভাসতে থাকে। ফলে ফ্রিকশন বা ঘর্ষণও হয় না। তাই অত্যন্ত কম জ্বালানি ব্যবহার করেও বিশাল গতিতে চলা সম্ভব হয়।’

কিন্তু কীভাবে ও কোথায় ভাসে সেই ট্রেন? ডেভেলপার টিমের প্রধান টিম ফ্লেসহুয়ার বলেন, ‘এখানে চুম্বক দেখা যাবে। বর্তমানে ভেতরে ছোট আকারের কিছু চুম্বক রয়েছে। এগুলোকে হলবাখ-অ্যারেস বলা হয়, যা অত্যন্ত শক্তিশালী চুম্বক। এর সুবিধা হলো চৌম্বক শক্তি নিচের দিকে পরিচালিত হয়। তাই যাত্রীরা উপরে বসে কিছুই টের পাবেন না।’

এই হলবাখ-অ্যারে আসলে বিশেষভাবে সাজানো চুম্বকের সমষ্টি, যার ফলে সম্মিলিত চৌম্বক শক্তি আরো বেড়ে যায়। রেল লাইন ও ট্রেনের চুম্বক পরস্পরকে ঠেলা মারে। ফলে ট্রেনটি ভাসমান অবস্থায় থাকে। এক ইলেকট্রিক ইঞ্জিন ট্রেনটিকে রেলের ওপর সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় হাইপারলুপ নেটওয়ার্কের কাজ শেষ করা ডেল্ফট বিশ্ববিদ্যালয়ের টিমের লক্ষ্য। এ এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। আরো এক তলা উপরে প্রকল্পের মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। সেখানে একদল তরুণ-তরুণী চলতি বছরের মধ্যেই ক্যাপসুলের মিনিয়েচার বা ক্ষুদ্র সংস্করণ গড়ে তোলার কাজ করছেন।

কনার ডিলন কাজের পরিমাণ ও ব্যস্ততা দেখে প্রশ্ন করেন, এই প্রকল্পের জন্য সবাই এক বছর ছুটি নিয়েছে কিনা। উত্তরে হাইপারলুপ টিম ক্যাপ্টেন রিনেকে ফান নর্ট জানান, ‘আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ তাই করেছে। সব মিলিয়ে ৩৯ জন ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন, তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরোপুরি এই কাজে জড়িত। আমাদের মধ্যে অনেকেই ব্যাচেলার ডিগ্রির পর হাতেনাতে কাজ করতে এক বছরের বিরতি নিয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আমরা এখানে থাকি। আমরা চলতি বছর স্পেস-এক্স হাইপারলুপ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। সেই লক্ষ্যে কঠিন পরিশ্রম করতে হচ্ছে। কিন্তু সবার মনে বিপুল উৎসাহ রয়েছে। এমন দলের অংশ হিসেবে কাজ করার জন্য বাড়তি প্রেরণা পাওয়া যায়।’

সবকিছু দেখেশুনে ডয়চে ভেলের রিপোর্টার হিসেবে কনার ডিলন বলেন, ‘ডেফট টিমের সামনে বিশাল কাজ পড়ে রয়েছে। ইউরোপ আদৌ এক হাইপারলুপ নেটওয়ার্ক পাবে কিনা, কেউ তা জানে না। সেটা সম্ভব হলে ইউরোপের মানুষ আরো দ্রুত, আরো শান্ত পরিবেশে ভ্রমণ করতে পারবেন।’

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads




Loading...