ইঁদুরে নতুন কৃমি শনাক্ত



  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ০৪:৪২

ইঁদুরের পেটে নতুন ধরনের কৃমি ‘গনজাইলোনেমা’ (অন্তঃপরজীবী) শনাক্ত করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) একদল গবেষক। এ কৃমি মানুষের অন্ননালি প্রদাহ, গলবিল প্রদাহ, গ্যাস্ট্রিক আলসারসহ বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম। জানা গেছে, ইঁদুরের মাধ্যমে যেসব কৃমি মানুষের রোগ ছড়ায়, সেগুলোকে অঙ্গ সংস্থানিক বৈশিষ্ট্যের আলোকে শনাক্ত করতে কাজ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও প্যারাসাইটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. উদয় কুমার মহন্ত, প্রভাষক এসএম আব্দুল্লাহ এবং এমএস কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী অমৃত বর্মণ।

তারা এক বছর গবেষণা করে দেশে প্রথম ‘গনজাইলোনেমা’ কৃমি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। গবেষক দল জানায়, তারা রাজধানীর মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজার, আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলানগর, তেজগাঁও এলাকায় বস্তি, মুদির দোকান, শাকসবজির দোকান ও বাসাবাড়ি থেকে ২০টি ধাড়ি ইঁদুর, ১৫টি কালো ইঁদুর, ২৫টি বাদামি ইঁদুর এবং ১০টি নেংটি ইঁদুর সংগ্রহ করেন। গবেষণায় দেখ যায়, ৭১.৪২ শতাংশ ইঁদুর বিভিন্ন কৃমি দ্বারা আক্রান্ত। বিভিন্ন ঘনবসতি পূর্ণ বস্তি এলাকা থেকে (৮৫%) সবচেয়ে বেশি কৃমি দ্বারা আক্রান্ত ইঁদুর পাওয়া যায়। এ ছাড়া মুদির দোকান (৭৫%), বাসাবাড়ি (৬৬.৬৬%) এবং ধানক্ষেত (৫৩.৩৩%) কৃমি আক্রান্ত ইঁদুর পাওয়া যায়। শতকরা ৮০ ভাগ কৃমিই মানুষকে সংক্রমণ করতে সক্ষম। ঘনবসতি এলাকায় ইঁদুরের মধ্যে ৬০ শতাংশ Heterakis spumosa, ৪৭.১৪ শতাংশ Hymenolepis diminuta, ৪২.৮৫ শতাংশ Moniliformis moniliformis, ৩৫ শতাংশ Taenia taeniformis, ৩৫ শতাংশ Gongylonema neoplasticum কৃমি পাওয়া যায়।

গবেষকরা জানান, গনজাইলোনেমাসহ অন্য কৃমিসমূহের মাধ্যমে মানুষও সংক্রমিত হতে পারে। আক্রান্ত ইঁদুরের মলের সাথে কৃমির ডিম বাইরে আসে। এ ডিম মাছিজাতীয় কীট (ফ্লি), গুবরে পোকা, আরশোলা ইত্যাদি ভক্ষণ করলে, তাদের দেহে কৃমির লার্ভা তৈরি হয়। এই লার্ভা মানুষকে আক্রমণ করতে সক্ষম। মানুষ খাবারের সাথে বা অন্য যে কোনো উপায়ে আক্রান্ত ফ্লি, গুবরে পোকা, আরশোলা ইত্যাদি খেয়ে ফেললে উল্লিখিত কৃমি দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। গনজাইলোনেমা নিওপ্লাস্টিকাম দ্বারা আক্রান্ত হলে মানুষের লালা ক্ষরণ, দাঁতব্যথা, অন্ননালি প্রদাহ, গলবিল প্রদাহ, গ্যাস্ট্রিক আলসার, স্নায়ুবিক বিকলতা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়।

ড. উদয় কুমার মহন্ত ইঁদুরবাহিত কৃমি দ্বারা সৃষ্ট ভয়াবহ রোগ প্রতিরোধে সাধারণ জনগণের প্রতি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ করতে স্যানিটেশন অবস্থার উন্নতি এবং সুস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা উচিত। সেই সাথে ইঁদুর দ্বারা আক্রান্ত রোগ সংক্রমণ সম্পর্কিত জনসাধারণের সচেনতা বাড়াতে হবে। খাদ্যদ্রব্য ঢেকে ও সবসময় ইঁদুর থেকে দূরে রাখতে হবে। এ ছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তিকে অতিদ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশে যদি জনসচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নেয়া হয় তবে তারা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করতে প্রস্তুত বলে জানান ড. মহন্ত।

মানবকণ্ঠ/এএম



Loading...
ads

Loading...