লিয়াকত আলী লাকীর কাছে খোলা চিঠি: শিল্পকলার সিসিটিভিতে কী দেখা যায়?

আনন্দ কুটুম

আনন্দ কুটুম - ছবি- রাহমান আজাদ।


  • ২২ আগস্ট ২০১৯, ১৯:০০

জনাব লিয়াকত আলী লাকী,
পকেটে টাকার পরিমাণ কম বলে ২শ' টাকার টিকিট কিনে নাটক দেখতে হলো, কিন্তু গচ্ছা গেলো ৩৫শ' টাকা।

স্টালিনের ঢাকঢোল শুনে নাটক দেখতে গেলাম অতি উৎসাহ নিয়ে। আড়াই ঘন্টার নাটক টেনেটুনে শেষ হলো তিন ঘন্টায়। যখন নাটক শেষ হলো তখন রাত ১০টা। একটি সুন্দর নাটক দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে আনন্দিত মনে যেই না বের হলাম, অমনি দেখি বাইকের উপর রাখা নতুন হেলমেটটা নেই। প্রথমে বোঝার চেষ্টা করলাম যে, হেলমেটটা পরে-টরে গেছে কি না। না!! হেলমেট কোথাও নেই। গাড়িটা যেখানে রাখা ছিলো তার ঠিক উপরেই সিসি ক্যামেরা লাগানো। নিশ্চয় মনিটরিং রুমে গেলে হদিস পাওয়া যাবে কে কখন নিয়েছে। গিয়ে দেখি সিসি ক্যামেরা মনিটরিং রুম বন্ধ। অনেক খুঁজে একজন গার্ডকে পাওয়া গেলো। তাকে বলতেই সে হেসে দিয়ে বলল, শিল্পকলায় হেলমেট প্রায়ই চুরি হয়। কী করবেন বলেন?

আমি জানতে চাইলাম, সিসি টিভি ফুটেজ দেখা যাবে কি না? সে জানালো, এই সিসিটিভি দিয়ে আপনি কিছুই উদ্ধার করতে পারবেন না। আগেও চুরি হইছে কিন্তু সিসিটিভি কিছুই দেখাতে পারে না।

এখন প্রশ্ন হলো-
১. যে সিসিটিভি কিছুই দেখাতে পারে না, সরকারি অর্থ খরচ করে সেই সিসিটিভি কেন লাগিয়ে রাখা হয়েছে? আর কেনই বা সরকারি টাকা খরচ করে সিসিটিভি মনিটরিং করার জন্য পাইক পেয়াদা পোষা হচ্ছে?

২. শিল্পকলা একাডেমির মূল কার্যক্রম অর্থাৎ নাটকের শো, সঙ্গীতানুষ্ঠান, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ইত্যাদি শিল্পচর্চা শুরু হয় সাধারণত বিকাল থেকে। চলে রাত ১০টা-১১টা অব্দি। তাহলে কি হিসেবে আর দশটা সরকারি অফিসের মতো শিল্পকলার কর্মকর্তা কর্মচারীরা ৯টা-৫টা অফিস করে বাড়ি চলে যান। দিনের বেলায় যেখানে শিল্পকলার কার্যক্রমই নাই সেখানে দিনের বেলার তারা কি এমন উদ্ধার করেন আর প্রয়োজনের সময় তাদের পাওয়া যায় না?

৩. শিল্পকলার কর্মচারীরা নাকি ৫টার পরেই চলে যান। তাহলে ৫টার পরে এক্সিডেন্ট হলে তার দায়ভার কে নেবে?

৪. রোজই যদি হেলমেট চুরির মতো ঘটনা ঘটে তাহলে শিল্পকলা কেন কোনো জোরালো ব্যবস্থা নেয় না? এতো উদাসীনতা কেন বা কিসের জন্য?

আমি মোটামুটি নিশ্চিত এই নিরবচ্ছিন্ন চুরির সাথে শিল্পকলার কর্মচারীদের যোগসাজশ আছে। হয় তাদের প্রশ্রয়ে না হয় তাদের উদাসীনতায় প্রতিনিয়ত মানুষের মালামাল ক্ষোয়া যাচ্ছে। সঠিক ভাবে তদন্ত করলে অবশ্যই এর সাথে কর্মচারীদের যোগসূত্র বেরিয়ে আসবে।

কেউ কি দয়া করে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকীকে আমার এই বার্তাটি পৌঁছে দিতে পারেন? অবশ্যই তাঁর জানা থাকা উচিৎ যে, তাঁর মনিটরিং ক্ষমতা কেমন এবং তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় শিল্পকলা কেমন চলছে। অবশ্যই তাঁর জানা উচিৎ যে, সাধারণ দর্শক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মীরা কীভাবে ট্রিট হচ্ছে শিল্পকলায়। আমরা কি শিল্পকলায় গিয়ে চুরির ভয়ে সম্পদ পাহাড়া দেবো? না ইহজাগতিক বিষয়-আশয় ভুলে শিল্পে মনোনিবেশ করব? দয়া করে লাকী ভাই জানাবেন।

ধন্যবাদ।

লেখক- আনন্দ কুটুম : চলচ্চিত্রকর্মী ও সমালোচক।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads




Loading...