ভিডিও কনফারেন্সে পুলিশের ব্যাংক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মানবকণ্ঠ
ভিডিও কনফারেন্সে পুলিশের ব্যাংক উদ্বোধন - ছবি: সংগৃহীত।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:৩৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ৬ মিনিটে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে পুলিশের কমিউনিটি ব্যাংকের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ও কমিউনিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মশিউহুল হক চৌধুরীসহ পুলিশ ও ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আইজিপির স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এ অনুষ্ঠানে পুলিশের জন্য বর্তমান সরকারের দেয়া সুযোগ সুবিধাগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করেন এবং পুলিশের নানা উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি পুলিশের ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে আমরা সত্যি আনন্দিত। আশা করছি পুলিশের প্রতিটি সদস্য সচ্ছল হবে এবং বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের একটি ধারাবাহিক মাইলফলকের অংশ এ ব্যাংক। আমি আশা করছি তারা সর্বাধুনিক ব্যাংকিং সেবা দিয়ে জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হবে। এ ব্যাংকে যেন গ্রাহকের আমানতের টাকা নিরাপদ থাকে এবং কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

রাজধানীর গুলশান-১ নম্বরে হাতিরঝিলের পাশে পুলিশ প্লাজা কনকর্ডে কমিউনিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হবে । প্রিন্সিপাল শাখাসহ মোট ছয়টি শাখা দিয়ে ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে শাখা বাড়ানো হবে।

আপাতত পুলিশ সদস্যরা এ ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডার হবেন। তাদের বেতন দেওয়া হবে কমিউনিটি ব্যাংকের মাধ্যমে। লভ্যাংশ যাবে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অ্যাকাউন্টে। ট্রাস্টের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে ওই টাকা ব্যয় হবে। ব্যাংক লাভজনক হলে তিন বছর পর মূলধন জোগানের ওপর প্রত্যেককে নির্ধারিত হারে লভ্যাংশ প্রদান ছাড়াও ব্যাংকটির পুলিশ সদস্যদের জমি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ, ব্যবসা উদ্যোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, পুলিশের সাবেক আইজি একেএম শহীদুল হক ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পুলিশ সদস্যদের জন্য একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাবনা দিলে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, মূলধনের টাকা জোগাড় করতে পারলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরপর পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ ৬৬ হাজার পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য মূলধন সরবরাহের কাজ শুরু করে পুলিশ সদর দফতর।

২০১৮ সালের নভেম্বরে ব্যাংকটিকে তফসিলি ব্যাংক হিসেবে তালিকাভুক্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়াও রাজনৈতিক বিবেচনায় ‘কমিউনিটি ব্যাংক অব বাংলাদেশ’ উপাধি দেয়া হয় পুলিশ বাহিনীকে । এ সময় সরকারি-বেসরকারি মিলে দেশে তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৯টিতে। ওই বছরের ২৮ আগস্ট ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ’ নামে পুলিশকে ব্যাংকের অনুমোদন দিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় কমিউনিটি ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads




Loading...