জাপায় দৃশ্যমান সমঝোতা হলেও ক্ষুব্ধ নেতাকর্মী


poisha bazar

  • ছলিম উল্লাহ মেজবাহ
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:৩৩

জাতীয় পার্টিতে প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সহধর্মিণী রওশন এরশাদ ও সহোদর গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের মধ্যে দৃশ্যমান সমাঝোতা হলেও উভয়পক্ষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পার্টিতে জিএম কাদেরপন্থিরা বলছেন, উভয়পক্ষের লড়াইয়ে রওশনপন্থিরা শতভাগ বিজয়ী হয়েছে। আমরা যারা জিএম কাদেরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলাম তারা সবাই পার্টিতে রওশন-আনিসের কাছে শত্রু হয়ে গেলাম। ভবিষ্যতে এ দলে নিজের অবস্থান কতটুকু শক্ত করতে পারব তা নিয়ে আমরা সন্দিহান।

তারা বলছেন, প্রেসিডিয়াম ও এমপিদের যৌথসভা করে সিদ্ধান্ত হলো ব্যারিস্টার আনিস ও ফখরুলকে অব্যাহতি দেয়ার। এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই এ সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হলো। পার্টির সিদ্ধান্তে সে বৈঠকে উপস্থিত সিনিয়র ৩৪ জন নেতাকে অপমান করা হয়েছে। জিএম কাদের পুনরায় আমাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। এছাড়া যে ব্যক্তি পার্টি অফিসে মনোনয়নপত্রই জমা দেননি এমনকি আমাদের মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাৎকার দেননি তাকেই মনোনয়ন দেয়া হলো। এতে করে বৃহত্তর রংপুরের তৃণমূলের আস্থা হারিয়েছেন জিএম কাদের। এ ছাড়া আমরা যারা জিএম কাদেরের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলাম তাদেরও ভবিষ্যতে তিনি কাছে পাবেন কিনা আমরা সন্দিহান।

জিএম কাদেরপন্থি পার্টির এক সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, আমরা শুনেছি আওয়ামী লীগ রংপুর-৩ তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবে। সেক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনরাও রংপুরে সাদকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করবে। সাদ বিজয়ী হার পর আগামী ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জাপার কাউন্সিলে সাদ যদি পার্টির চেয়ারম্যান প্রার্থী হন তাতেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আমরা যারা জিএম কাদেরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলাম তাদের সিংহভাগই তিনি আর কাছে পাবেন না। আমরা মনে করি জিএম কাদের সাহেব আপোস করেছেন। পার্টির অনেক সিনিয়র নেতাসহ তৃণমূলের অসংখ্য নেতাকর্মী পার্টির কর্মকাণ্ড থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবেন।

এ বিষয়ে জিএম কাদেরের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়া পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি বলেন, দুইপক্ষকে এক করা এবং দলের ভাঙন ঠেকাতে, ঐক্যের স্বার্থে অগ্রহণযোগ্য আবদার আমাদের মেনে নিতে হয়েছে।

রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির বলেন, জিএম কাদের সাহেব যদি নিজের অবস্থান শক্ত করতে না পারেন, অবস্থান পরিষ্কার করতে না পারেন তাহলে দল শক্তিশালী করা তার পক্ষে কঠিন হবে। আমাকে মনোনয়ন বোর্ড সিলেক্ট করার পর আবার সাদকে মনোনয়ন দেয়া হলো। রংপুরের তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমাকে সমর্থন করেছে। মনোনয়ন পরিবর্তন করে পার্টি শুধু আমাকেই নয় রংপুরবাসীকেও অপমান করা হয়েছে। তিনি বলেন, মনোনয়ন বোর্ড তাহলে কেন গঠন করা হলো। আমার মতো ত্যাগী নেতাকে মূল্যায়ন করা হলো না। তাহলে সারাদেশের নেতাকর্মীরা আর কখনো মূল্যায়িত হবে মনে হয় না। আসলে ত্যাগের মূল্যায়ন নেই আছে ভোগের মূল্যায়ন।

রওশনপন্থি বলে পরিচিত পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, আমাদের মধ্যে গঠনতন্ত্র নিয়ে যে বিরোধ ছিল তার অবসান হয়েছে। সমাঝোতার ভিত্তিতেই আমরা আগামী ৩০ নভেম্বর পার্টি কাউন্সিল করব। আমরা রওশন এরশাদকে বিরোধী দলের নেতা ও জিএম কাদেরকে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছি।

পার্টির অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন বলেছেন, জিএম কাদের সবসময় বলে এসেছেন রওশন এরশাদ তার মায়ের মতো। প্রথম অবস্থায় যদি রওশন এরশাদ জিএম কাদেরকে ডেকে নিয়ে বলতেন তুমি পার্টির চেয়ারম্যান আর আমি বিরোধী দলের নেতা। তাহলে পার্টিতে আর দ্বদ্ব হতো না। নেতাকর্মীরাও দ্বিধাবিভক্ত হতেন না।

মানবকণ্ঠ/টিএইচ




Loading...
ads




Loading...