সরকারবিরোধীরা একাট্টা হচ্ছে


poisha bazar

  • সেলিম আহমেদ
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:৩৬

সরকারবিরোধী আন্দোলনকে আরো জোরদার করতে একাট্টা হচ্ছে বিরোধীরা। আগামী ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তিকে সামনে রেখে আবারো বৃহৎ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। তবে এবার ভিন্ন প্লাটফর্ম থেকে নয়। বৃহৎ শক্তি নিয়ে রাজপথে একসঙ্গে আন্দোলনে নামতে চায় তারা ।

এ প্রসঙ্গে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া মানবকণ্ঠকে বলেন, গত শনিবার গণফোরামের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় সরকারবিরোধী বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সরকারবিরোধী আন্দোলনকে জোরদার করতে একসঙ্গে কাজ করার কথা বলেছেন। গণফোরামসহ ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকেও সবাইকে নিয়ে বৃহৎ আন্দোলন করার চেষ্টা চলছে। সবাইকে নিয়ে আলোচনা করে বৃহৎ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সাবেক সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মানবকণ্ঠকে বলেন, সরকারবিরোধী বৃহতম ঐক্য গড়ে তোলা দরকার। আমরা সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে বলেছি আপনারা কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে নামুন। আমরাও রাজপথে নামব। রাজপথেই কার্যত বৃহৎ ঐক্য গড়ে উঠবে। এ

কাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ভরাডুবির কবলে পড়ে সরকারবিরোধীরা। বিএনপি-গণফোরামের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৯ আসনে জয়লাভ করলেও বাম গণতান্ত্রিক জোট, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো একটি আসনেও জয়ের দেখা পায়নি। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুরির অভিযোগ তোলা হয়। নির্বাচনের পর বিরোধীদলগুলো নিজ নিজ প্লাটফর্ম থেকে পুনর্নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। তবে কোনো আন্দোলনই সাড়া তুলতে পারেনি। আবার জোরালো আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ফলে বিরোধী দলগুলোর শক্তিও কমতে থাকে।

এরপর দীর্ঘ কয়েকমাস নিষ্ক্রিয়তা কাটিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তারা। প্রধান বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নানামুখী টানাপড়েনের মধ্যেই আবার ‘সরব’ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগবিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গড়ার উদ্যোগ নিচ্ছে এ জোট। আগামী ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তিকে সামনে রেখে আবারো মাঠে নামার লক্ষ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা।

ডান, বাম, ইসলামী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে তাদের আলোচনা শুরু হয়েছে। দলগুলোর কাছ থেকে ‘ইতিবাচক’ সাড়া পাচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন জোটের দায়িত্বশীল নেতারা। তার প্রমাণও মিলে ঐক্যফ্রন্টের শরিকদল গণফোরামের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে। গণফোরামের আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে একাদশ সংসদ নির্বাচনের পরে সরকারবিরোধী প্রায় সব রাজনৈতিক দলের নেতারা একমঞ্চে উপস্থিত হয়। আলোচনা সভায় দীর্ঘদিন পরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বাম দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরও বক্তব্য রাখেন।

অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ের লক্ষ্যে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আপসহীনভাবে রাজপথে থাকতে হবে। শুধু ঢাকা নয়, গ্রাম-শহর ও জেলা সব জায়গায় রাজপথে থাকতে হবে।

জেএসডির সভাপতি আসম রব বলেন, এই মুহূর্তে স্বৈরাচারকে যদি সরাতে হয়, তাহলে একলা চল নীতি বাদ দিতে হবে। যত বড় দলই হোক, একলা হয়ে পৃথিবীর কোনো স্বৈরাচারকে হটানো যায় না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আজ ভোটাধিকার নেই। কথা বলার স্বাধীনতা নেই। সব আজ কলুষিত। তাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামতে হবে। প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মানবকণ্ঠ/টিএইচ




Loading...
ads




Loading...