ডিসি সম্মেলনে থাকছে ৩৩৩ প্রস্তাব

সম্মেলন শুরু রোববার, গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী



  • সেলিম আহমেদ
  • ১২ জুলাই ২০১৯, ১৭:২৫

সমাজের সর্বস্তরে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য এবং বেশ কিছু নতুন বিষয় যুক্ত করার মধ্য দিয়ে আগামী রোববার শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। বিগত দিনে এ সম্মেলন তিন দিন হলেও এবার দ্ইু দিন বাড়িয়ে পাঁচ দিন করা হয়েছে। এবারের সম্মেলনে ৩৩৩টি প্রস্তাবের ওপর ২৪টি কার্য-অধিবেশনে আলোচনা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব থাকবে স্থানীয় সরকার বিভাগ সংক্রান্ত। সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, রোববার সকাল ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা হলে’ এবারের ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে হবে মুক্ত আলোচনা। যেখানে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা অংশ নেবেন। এরপর ওইদিন বিকেল থেকেই সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে বিভিন্ন অধিবেশন।

এবারের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা প্রশাসকদের কাছে প্রশাসনের সবস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রæতি চাইবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষ সূত্র।

সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচিত বর্তমান সরকারের এটি প্রথম ডিসি সম্মেলন। সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের কাছে প্রশাসনের সবস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রæতি চাইবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে গতিশীলতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেয়া হবে। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের নীতি-দর্শনের বাস্তবায়ন ও তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হবে ডিসিদের।

সম্মেলনে ডিসিদের দেশের শতভাগ সম্পদ জনকল্যাণের ব্যবহারের বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে সরকারের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সচেতন থেকে এ সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এর উপকারিতা সম্পর্কে জনসাধারণকে জানানোরও নির্দেশনা দেবেন। পাশাপাশি এসব উন্নয়ন কাজে ফসলি জমি যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দেবেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে রিপোর্ট নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান মূল্যায়ন ব্যবস্থার বাইরে অন্য কোনো সংস্থার কাছ থেকে প্রতিবেদন নেয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি চাইবেন ডিসিরা। তাদের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা পড়েছে বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এবারের সম্মেলনে মোট ২৯টি কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে ২৪টি কার্য-অধিবেশন হচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে। যেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপ-মন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা ডিসিদের কথা শুনবেন এবং দিক নির্দেশনা দেবেন। কর্ম-অধিবেশনগুলো হবে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে। কার্য অধিবেশগুলোর সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। এসব অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ ৫৪টি মন্ত্রণালয়-বিভাগ অংশ নেবে।

এবারের সম্মেলনে আলোচনার জন্য ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে ৩৩৩টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯টি প্রস্তাব হচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ সংক্রান্ত। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত ২৬টি এবং ভ‚মি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রস্তাব পাওয়া গেছে ২০টি। এছাড়া ভ‚মি ব্যবস্থাপনা; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম জোরদারকরণ; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা; ত্রাণ পুনর্বাসন কার্যক্রম; স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসৃজন ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন; সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ই-গভর্নেন্স; শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ; স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ; পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণরোধ; ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সমন্বয় সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে এবারের ডিসি সম্মেলনে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ডিসি সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলার ডিসিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের নীতি-নির্ধারকরা। তবে এবার নতুন করে ডিসিরা প্রধান বিচারপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গেও ডিসিদের বৈঠক হবে। এজন্য এবার ডিসি সম্মেলনের সময় দুদিন বাড়ানো হয়েছে।

১৪ জুলাই সম্মেলন উদ্বোধনের পরদিন ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে ডিসিদের দিক নির্দেশনা দেবেন রাষ্ট্রপতি। ১৬ জুলাই বিকালে সুপ্রিম কোর্ট জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ডিসিরা। ১৮ জুলাই বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ডিসিরা। ১৭ জুলাই সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কার্য অধিবেশন হবে। ১৮ জুলাই বুধবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে হবে ডিসি সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, গত বছর ডিসি সম্মেলনে নেয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে ৯২ দশমিক ৯০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এআইএস



Loading...
ads


Loading...